সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নবী মুহাম্মদ এর জীবন



পৃথিবীর সবচেয়ে সফল ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বলতে গেলে প্রথমেই যার কথা মনে আসে সে হলো ইসলামের নবী মুহাম্মদ। কোন এক অদ্ভুত কারণে কুরআন, হাদিস এবং সীরাতে যে মুহাম্মদকে আমরা চিনি তাকেই আমরা ঐতিহাসিক সত্য বলে ধরে নিয়েছি। আমরা কখনো প্রশ্ন করি না, আসলেই কি মুহাম্মদ বলে কেউ ছিল কিনা অথবা আমরা যে মুহাম্মাদকে চিনি সেই কি আসল মুহাম্মদ নাকি অন্য কেউ। প্রশ্ন করি না, এই মুহাম্মদ কি যীশু মুসার মতই কাল্পনিক নাকি এর আসলেই কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে। এমনকি কখনো খুঁজেও দেখি না সে সময়ের অমুসলিম সোর্সগুলো থেকে পাওয়া তথ্য মুসলিম সোর্সের সাথে মিলিয়ে দেখার।
ট্রেডিশনাল ইসলামিক সোর্স কুরআন, হাদিস এবং সীরাত থেকে আমরা জানি মুহাম্মদ ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মারা যান। প্রাথমিক জীবনে ছিলেন ব্যবসায়ী। ধর্ম প্রচার শুরু করেন ৪০ বছর বয়স থেকে এবং জীবনের বাকি সময়টা অস্ত্রের মাধ্যমে ধর্ম প্রচার করেই কাটে।
মুহাম্মদ সম্পর্কে জানতে কুরআনের দ্বারস্থ হলে একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়। সেখানে মুহাম্মদ শব্দটি খুব কমই এসেছে, তিন চারবারের বেশী না। যতবার না মুহাম্মাদের নাম বলা হয়েছে তার থেকে ঢের বেশিবার বলা হয়েছে মুসা(১৩৬ বার), ইব্রাহিম (৭৯ বার) এমনকি ফেরাউনের (৭৪ বার) নাম। অন্যদিকে নবী শব্দটা ব্যবহার হয়েছে ৪৩ বার এবং রাসূল শব্দটি এসেছে ৩০০ বারের মত। কখনো কখনো তাকে সম্বোধন করা “সম্মানিত একজন” বা “প্রশংসিত একজন” এবং বিশ্বাসী অবিশ্বাসী সবাই ধরেই নিয়েছে সেগুলো মুহাম্মাদকে উদ্দেশ্য করে বলা। কিন্তু আমরা কি আসলেই নিশ্চিত হতে পারি একশতভাগ যে যে এই বিশোষণগুলো মুহাম্মাদকেই উদ্দেশ্য করে বলা। তবে হ্যা, ট্রেডিশনাল মুহাম্মাদের কথা যদি সত্য হয় তাহলে এটা সম্ভব যে আত্মপ্রেমে মুগধ মুহাম্মদ নিজেকেই নিজে সম্বোধন করে এসব বিশেষণে।

উল্লেখ্য ইসলামিক সোর্স মতে কুরআন সংকলিত হয় মুহাম্মাদের মৃত্যুর প্রায় ৩৩ বছর এবং হাদিস সংকলিত হয় প্রায় আড়াইশ বছর পরে। মুহাম্মাদের জীবনী সীরাত প্রথম লেখা হয় মুহাম্মাদের মৃত্যুর ১০০ বছর পরে যদিও সেটা সময়ে হারিয়ে যায়। সেই লেখার উপর নির্ভর করে ইবনে হিশাম লিখেন আরেকটি সীরাত।
মৌখিক ট্র্যাডিশনের উপর ভিত্তি করে লেখা সীরাত এবং হাদিস যে আসলে ঐতিহাসিকভাবে কতটা সঠিক তা নিয়ে যে শুধু অমুসলিম স্কলারদের মধ্যে দ্বিধা ছিল তা না, অনেক আগে থেকেই মুসলিম স্কলারদের মধ্যেও ছিল দ্বিধা। যে কারণে সহীহ হাদিস এবং জাল হাদিস নিয়ে তর্ক বিতর্ক ইসলামী স্কলারদের মধ্যে এখনো চলছে। যদিও কিছু স্কলার সীরাত এবং হাদীসকে সত্য বা সত্যের কাছাকাছি মনে করেন মুহাম্মাদের জীবনের বিতর্কিত এবং নৃশংস ঘটনা গুলো বর্ণনা করার জন্য।
কুরআন সংকলনের ব্যাপারে মুসলিম সোর্স যায় বলুক না কেন এর পেছনে ঐতিহাসিক তেমন শক্ত প্রমান নেই। সবচেয়ে পুরাতন কুরআনের সম্পূর্ণ সংকলন (টপকাপি ম্যানুস্ক্রিপ্ট এবং সমরকন্দ কুফিক কুরআন) ও অষ্টম শতাব্দীর পুরাতন না। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পুরাতন আংশিক কুরআন বার্মিংহাম ম্যানুস্ক্রিপ্ট। রেডিও কার্বন ডেটিং অনুসারে ম্যানুস্ক্রিপ্টটি লেখা হয় ৫৬৮ সাল থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। যা থেকে আমরা এমনকি ধারণা করতে পারি ম্যানুস্ক্রিপ্টটি লেখা হয়েছে মুহাম্মাদের জন্মের আগে অথবা পরে অথবা তার জীবনদশায়।
মুহাম্মাদের কথিত জীবনদশার সময়ে ইসলামিক কোন টেক্সট না পাওয়া গেলেও ঐতিহাসিক ভাবে এটা মোটামুটি প্রমাণিত যে আরবের গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সে সময় রাজনৈতিক একটা একত্বের সৃষ্টি হয়। যার প্রায় একশবছরের মধ্যেই আরব সাম্রাজ্য ছড়িয়ে পরে পুরো মধ্যেপ্রাচ্যে, উত্তর আফ্রিকা, ইরান এমনকি ভারতীয় উপমহাদেশের কাছাকাছিও তারা চলে আসে। আর এর মধ্যেই প্রথম ইতিহাসে মুহাম্মাদের নাম প্রথম শোনা যেতে থাকে।
এখন প্রশ্ন হল মুহাম্মদ বলে যাকে জানি সে যদি নাই থাকে তাহলে সে কি কল্পিত লিজেন্ডারি কোন চরিত্র? তাহলে কল্পিত এই চরিত্র বানানো বানানো? নাকি মুহাম্মদ বলে আসলেই কেউ ছিল কিন্তু আমাদের জানা মুহাম্মদ সে নয়? এই মুহাম্মদ কি একজন মানুষ নাকি একাধিক চরিত্র কোনোভাবে মানুষের মুখে মুখে এক হয়ে গেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু নতুন প্রশ্নই বের হয় শুধু, উত্তর পাওয়া যায় না।
ঐতিহাসিকভাবে সর্বপ্রথম আরবদের নবীর তথ্য পাওয়া যায় “Doctrina Jacobi” নামের এক লেখায়। যদিও সেখানে মুহাম্মাদের নাম উল্ল্যেখ ছিল না। প্যালেস্টাইনে বসবাস করা কোন এক খ্রিস্টান লেখক ৬৩৪ থেকে ৬৪০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে গ্রিক ভাষায় লেখাটি লিখেন। ডকট্রিনা জ্যাকোবির একাংশের বাংলা ভাবানুবাদ মোটামুটি এরকম -
(৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে )”যখন রোমান রাজকীয় এক সৈন্য আরবদের হাতে মারা যায় তখন আমি ছিলাম সিক্যামিনার পথে নৌকায় সিজারিয়াতে। এ খবরে ইহুদিরা খুব উল্লাস করছিল। লোকে বলছিল নতুন এক নবী এসেছে আরবদের মাঝে যে কিনা (ওল্ড টেস্টামেন্টের)সেই প্রতিশ্রুত নবী। সিক্যামিনায় এসে এক জ্ঞানী বৃদ্ধের কাছে সেই নতুন নবীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আরবদের নবী মিথ্যা নবী। নবীরা কখনো তলোয়ার নিয়ে আসে না।”
তৎকালীন সময়ে আরবদের অন্য কোন নবী যদি না থেকে থাকে তাহলে ধরে নেয়া যেতে পারে এখানে মুহাম্মাদের কথাই বলা হচ্ছে যা অনেকটাই ট্রেডিশনাল মুহাম্মাদের সাথে মেলে। সমস্যা হল দিন তারিখে। ট্রেডিশনাল সোর্স বলছে মুহাম্মদ মারা যায় ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে আর ডকট্রিনা জ্যাকবির তথ্যমতে আরবদের সেই নবী তখনও বেচে আছে এবং তার সৈন্যদলের সাথে সাম্রাজ্য বিস্তার করে চলছে।
টমাস নামের আরেকজন খ্রিস্টান যাজকের লেখায় জানা যায় ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে গাজার পূর্বে আরবদের মোহামেত বা মহমত এর (tayayee d-mhmt) সৈন্যদের সাথে রোমানদের এক যুদ্ধের কথা। ভাষার ভিন্নতার কারণে মোহাম্মদ যদি মোহামেত বা মহমত হয়ে যায় তাতে অবাক হবার কিছু নেই। এমনকি বাংলাতেও মোহাম্মদকে মোহাম্মদ বলার কাল এখনো আছে। এখানে কোন নবীর উল্লেখ না থাকলেও মোহামেত বা মোহাম্মদের উল্ল্যেখ আছে। দুটো সূত্রেই ৬৩৪ সালে আরবদের সাথে রোমানদের যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে এর মধ্যে একটাতে বলা হয়েছে মোহাম্মদের কথা আরেকটাতে বলা হয়েছে কোন এক প্রতিশ্রুত নবীর কথা। দুই দুই চার্ করে আমরা কি ধরে নিতে পারি মোহাম্মদই সেই প্রতিশ্রুত নবী। তারপরেও সেই একই সমস্যা থেকেই যায়, ট্রেডিশনাল সূত্র অনুসারে মোহাম্মদ তার দুই বছর আগেই মারা গেছে।
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে খলিফা উমরের সৈন্যদল জেরুজালেম দখল করলে সেখানকার প্রধান খ্রিস্টান ধর্মগুরু সোফ্রোনিয়াস আরবদের সম্পর্কে বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং তথ্য দেয়। যেমন সোফ্রোনিয়াস এক বর্ণনায় বলে চার্চ, গ্রাম ধ্বংস করার কথা, ক্রীতদাস নেয়ার কথা যা ট্রেডিশনাল ইসলামিক একাউন্ট অনুযায়ী মেলে না। ইসলামিক সোর্স অনুসারে, সোফ্রোনিয়াস শান্তিপূর্ণ ভাবে জেরুজালেম খলিফা উমরের হাতে দিয়ে দেয় এবং উমর সেখানে খ্রিস্টানদের থাকার অধিকার দেয় জিজিয়া কর দেবার পরিবর্তে। ইসলামিক সোর্স ঐতিহাসিকভাবে কতটুকু সত্য তা সন্দেহ করার মূল কারণ হলো ইসলামিক সোর্সটি নিজেই যা কিনা সেই ঘটনার প্রায় তিনশ বছর পরে লিখা, অন্যদিকে সোফ্রোনিয়াসের বর্ণনা সেসময়ের সমসাময়িক।
আরেকটা ব্যাপার, সোফ্রোনিয়াস, টমাস বা ডকট্রিনা জ্যাকোবির কোথাও ইসলাম বা মুসলিম শব্দটির উল্ল্যেখ নেই। তার বদলে তাদের সারাসিন বা আরব বলেই ডাকা হয়েছে। শুধু এই না, ৬৩৯ সালে এন্টিওখের খ্রিস্টান ধর্মগুরু জন তৃতীয তাদের হাগারিয়ান বা হাগারের মানুষ বলে সম্বোধন করেন। ৬৪৭ সালে সেলুসিয়ার খ্রিস্টান ধর্মগুরু ইসোয়ায়েব তৃতীয় আরবদের বলেন হাগারিয়ান আরব।
৬৬০ থেকে ৬৭০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে আর্মেনিয়ান বিশপ সেবেওস তার লেখায় মাহমেত নাম এক ইসমায়েলাইট ব্যবসায়ী ও ধর্মগুরুর কথা উল্ল্যেখ করেন যদিও সে লেখায় মুসলিম বা ইসলামের নামগন্ধও ছিল না বরং নতুন একটা শব্দ পাওয়া যায় ইসমায়েলাইট। ৬৫১ সালে মুয়াবিয়া, তৎকালীন সিরিয়ার গভর্নর, যখন বাইজান্টাইন সম্রাট কনস্টান্টিন দ্যা বিয়ার্ডেড এর কাছে চিঠি পাঠান সেবেওসের সুবাদে সে চিঠির ভাষা সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। যার বাংলা অনুবাদ -
যদি তুমি শান্তিতে বসবাস করতে চাও তাহলে ত্যাগ করো তোমার ছোটবেলা থেকে মেনে চলা অহং পরিপূর্ন ধর্ম। ত্যাগ করো যীশুকে এবং গ্রহণ করো আমাদের পিতা ইব্রাহিমের ঈশ্বরের ধর্মকে। যদি না করো তাহলে তোমার যীশু, যে কিনা ইহুদিদের থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেনি, সেও পারবে না আমার হাত থেকে তোমাকে রক্ষা করতে।
এখানেও উল্ল্যেখ নেই কোন মোহাম্মদের, ইসলামের, মুসলিমের বা কোরানের।এমনকি সেবেওস এই চিঠির সাথে ইসমায়েলাইট ব্যবসায়ী মাহমেতেরও কোন যোগাযোগ টানেনি। ব্যাপারটা অদ্ভুত না যে বাইজান্টাইন সম্রাটের কাছে পাঠানো চিঠিতে মোহাম্মদ বা ইসলামের কোনোই উল্ল্যেখ নেই, মুহাম্মাদের মৃত্যুর ১৯ বছর পরেও। এর মানে কি মুহাম্মদ তখন পর্যন্ত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ কোন চরিত্র হয়ে উঠতে পারেনি নাকি মুয়াবিয়া ইচ্ছে করেই মুহাম্মাদকে অগ্রাহ্য করেছে।
৭৩০ খ্রিস্টাব্দের দিকে সেসময়ের বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মগুরু জন অব দামাস্কাস তার লেখা বই 'On the heresies' তে আরবদের নতুন এক ধর্মের কথা লিখেন যার নবী মুহাম্মদ। আরবদের উল্ল্যেখ করা হয় এখানে হাগারিয়ান, ইসমায়েলাইট ও সারাসিন নামে। তার লেখায় মুসলিম বা কুরআন শব্দ দুটো পাওয়া না গেলেও আরবদের ধর্মগ্রন্থের কথা উল্ল্যেখ আছে। উল্ল্যেখ আছে সূরা বাকারার কথা, উল্ল্যেখ আছে সূরা নিসার কথা, উল্ল্যেখ আছে মুহাম্মাদের পুরুষ অনুসারীদের চার্ বিয়ের অধিকারের কথা এবং এক হাজার যৌন দাসী নেয়ার (যা বর্তমান কুরআনে নেই)কথা সম্ভব হলে। বলা হয়েছে কুরআনে উল্লেখ করা ইসলামিক যীশুর কথাও। যীশু প্রসঙ্গে কুরআনের বর্ণনা দেবার সময় জন লেখেন,
“আল্লাহ্ তাকে স্বর্গে নিয়ে গেলেন এবং আল্লাহ্ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, "ঈসা, তুমি কি বল যে তুমি আল্লাহ্ ও আল্লাহর পুত্র?" এবং তিনি ঈসা মসিহ উত্তর দিয়েছিলেন, "আমাকে করুণ কর, প্রভু, আপনি জানেন যে আমি এই কথা বলিনি"
মজার ব্যাপার হলো বর্তমান কুরআনে ঈসা বা যীশু সম্পর্কিত এ ধরণের যে আয়াত আছে তাতে তার সাথে জনের বর্ণনার হালকা অমিল পাওয়া যায়। কুরআনের সূরা মায়েদের ১১৬ নাম্বার আয়াতে পাওয়া যায় -
“যখন আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেন; আপনি পবিত্র! আমার জন্যে শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথা ও জানেন এবং আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত।”
জনের বর্ণনায় বর্তমান ইসলামের এবং মুসলিমদের ছবি যেরকম স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে তা থেকে স্বাভাবিকভাবেই বুঝে নেয়া যায় আরবদের সেই ধর্ম সম্পর্কে জনের ধারণা বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু ছোট খাটো অমিল যেমন এক হাজার যৌন দাসী নেয়ার কথা বা আল্লার সাথে যীশুর কথোপকথন দেখলে মনে হয় জন যেখান থেকে এগুলো কোট করেছে সেটা বর্তমান কোরানের থেকে আলাদা কিছু। আবার কুরআনের নাম উল্ল্যেখ না করে শুধু সূরা গুলোর নাম উল্লেখ করা দেখলে মনে হয় জনের কাছে হয়ত পুরো সংকলিত কুরানটিই ছিল না। সূরাগুলো ছিল আমপারার মত করে আলাদা আলাদা ডকুমেন্ট হিসাবে।
এই পর্ব শেষ করার আগে সেসময়ের আরবদের যে নামগুলোতে ডাকা হতো সেগুলো নিয়ে দুটো কথা না বললেই না। হাগারিয়ান এবং ইসমায়েলাইট শব্দ দুটির উৎস মূলত একি। ইহুদীদের নবী ইব্রাহিমের দাসী হাগার এবং তার ছেলে ইসমায়েল। জুডো-খ্রিস্টান থিওলজিতে আলাদা ভাবে আরবদের কিছু কথা বলা না হলেও আরবদের হাগারিয়ান বা ইসমায়েলাইট বলে সম্বোধন করা থেকে আমরা ধারণা করতে পারি এটলিস্ট ওরাল ট্রেডিশনে হলেও এটা সেসময় প্রচলিত ছিল যে আরবেরা ইসমায়েলের বংশধর। খ্রিস্টপূর্ব নবম শতাব্দীর আসিরিয়ান এবং ব্যাবিলোনিয়ান রয়াল ইনস্ক্রিপশনেও ইসমায়েলাইটদের উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে বলা হয় কেদারাইট কিংডমের রাজা আরব এবং ইসমায়েলাইটদেরও রাজা।
সারাসিন শব্দটা সম্ভবত এসেছে আরবি sāriq থেকে যার অর্থ চোর, ডাকাত অথবা খুনী। আরেক মতে সারাদিন শব্দটা এসেছে ২য় শতাব্দীতে টলেমির লেখা জিয়োগ্রাফিতে মেনশন করা Sarakēnḗ থেকে যারা কিনা সিনাই পেনিনসুলা এবং উত্তর আরবে বসবাস করতো।
লিখেছেনঃশান্তনু আদিব। 
ইংল্যান্ড।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কুরআনের ভুল ও অযৌক্তিকতা-প্রথম পর্ব

কুরআনের ভুল ও অযৌক্তিকতা- সুরা ফাতিহা(সম্পূর্ণ একসাথে) সবার যৌক্তিক সমালোচনা,সংশোধনী আশা করছি! . প্রসঙ্গ:বিসমিল্লায় গলদ প্রশ্ন: ১.কুরআন আল্লাহর কথা হলে এটাও কি আল্লাহর কথা? নাকি এটা কুরআনের অংশই নয়? ২.এটা কি সুরা ফাতিহার অংশ নাকি অংশ নয়? ৩. আল্লাহ কি আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করেন? নাকি আল্লাহ তার আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করেন? ৪.দয়াময় ও পরম দয়ালু বলে কেউ কি নিজের ঢোল নিজে পেটায়? আল্লাহ এভাবে নিজের ঢোল পেটাচ্ছেন কেন? ৫.কেউ কথা বললে কি নিজের পরিচয় না দিয়েই বলে রহিম/করিমের নামে শুরু করছি? আল্লাহ কেন এমনভাবে নিজের পরিচয় না দিয়েই আল্লাহর নামে শুরু করছেন? ৬.এ আয়াতটি কুরআনের প্রথমে আসবে কেন? যখন আল্লাহ সুরা আলাকের মাধ্যমে কুরআন নাযিল শুরু করেছেন। বক্তৃতার মাঝে এসে কি কেউ বলে আমি শুরু করছি? ৭.সাধারণত কাউকে কিছু শিক্ষা দিলে,"বলো,পরম করুনাময়ের নামে শুরু করছি" এভাবে শিক্ষা দিতে হয়। এ আয়াত এভাবে নয় কেন? নাকি এটা নবীর কথা? ৮.আল্লাহ কে সে পরিচয় না দিয়েই তার নামে শুরু করলে তো প্রথমেই আপনাকে অন্ধবিশ্বাসী হতে হচ্ছে! না জেনেই কারো নামে প্রশংসা করা কতটা যৌক্তিক? ৯.যদি মেনে নিই দয়াময় ও পরম দয়...

কুলীন ব্রাহ্মণের কন্যা, বিবাহ বণিক এবং রবার্ট মার্টনের সমাজচিন্তা

ব্রাহ্মণদের বহুবিবাহ প্রথার জন্য প্রায় উনবিংশ শতক পর্যন্ত বাঙ্গালী সমাজ কলঙ্কিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গ বা রাঢ় অঞ্চলে ব্রাহ্মণের অভাবের কারণে একাদশ শতাব্দীতে উত্তর ভারতের কনৌজ থেকে বাংলায় ৫টি গোত্রের ব্রাহ্মণকে আনা হয় বলে জানা যায়। এরাই বাংলায় কুলীন ব্রাহ্মণ নামে পরিচিত হয়। এই কুলীন ব্রাহ্মণদের পদবী ছিল বন্দ্যোপাধ্যায়,  গঙ্গোপাধ্যায়, চট্টোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায় ও ভট্টাচার্য। সামাজিক মর্যাদায় এই কু্লীন ব্রাহ্মণদের মর্যাদা সমাজের অন্যদের চাইতে, এমনকি অন্যান্য ব্রাহ্মণদের চাইতেও উপরে ছিল। মধ্যযুগে বাংলায় আসার পর, এদের বিবাহের যে প্রচলিত নিয়ম তৈরি হয় তা হল, একজন পুরুষ কুলীন ব্রাহ্মণ কুলীন বা অকুলীন যেকোন ব্রাহ্মণ বংশেই বিয়ে করতে পারবেন, কিন্তু কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যার বিয়ে হবে কেবলমাত্র কুলীন বংশেই (যদি কুলীন কন্য কুলীন বংশের বাইরের কাউকে বিয়ে করত তবে তার পিতা কৌলিন্য হারাতো)। তো, কুলীনদের মধ্যে নারী ও পুরুষের এই বৈবাহিক বৈষম্যের ফলাফল কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। দেখা গেল, কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যাদের জন্য পাত্র পাওয়া যায় না। কুলীন পুরুষেরা কুলীন পাত্রী না পেলে ঠিকই অকুলীন কন্যাকে বি...

জাতীয়তাবাদ আরেকটি ধর্ম বই

বাংলাদেশীরা ধর্মভীরু। ইসলাম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ও জাতীয়তাবাদ নামক ধর্মগুলোর প্রতি বাঙ্গালীর দুর্বলতা নতুন কিছু নয়। আমরা যারা মুক্ত-চেতনাকে প্রয়োজনীয় মনে করি, যুক্তিকে ধর্মের ওপরে স্থান দেই তাদের অনেকেই ধর্মের মতই সামনে আসা অন্যান্য প্রতিটি ধারনা ও প্রস্তাবনাকেই যুক্তি দিয়ে বুঝতে চাই, খতিয়ে দেখতে চাই। বা দদূএকটি রূপ আধ্যাত্মিকতা ও ধর্ম হিসাবে মানুষের দলবদ্ধ সমাজব্যবস্থার দ্বিতীয় বড় চালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রস্তরযুগে আরো একটি ঘটনা ঘটতে শুরু করেছিল। মানুষেরা নিজেদের গ্রাম বা নগরকে কেন্দ্র করে একটি সামষ্টিক পরিচিতি অনুভব করে শুরু করেছিল। বোধ করি তখন থেকেই মানুষের দলবদ্ধতার তৃতীয় চালক জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক যাত্রা শুরু। বর্তমানে সারা দুনিয়ায় জাতীয়তাবাদ নানান চেহারায় দলবদ্ধতার সবচাইতে শক্তিশালী চালক হিসাবে বিদ্যমান। একটি নৃগোষ্ঠী যখন পুঁজিবাদী হতে শুরু করে, যখন সে একটি কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র গঠন করে তখনই সে একটি জাতিতে পরিণত হয়। ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ আমাদের দেশের রাজনীতিতে কাছাকাছি আছে ইতিহাসের শুরু থেকে। মহাভারত থেকে আজকের খালেদা-হাসিনার রাজনীতিতে ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ একে অন্যের হাত...