অনলাইন বাংলা ব্লগ।ছড়িয়ে দিতে চাই বাংলা ভাষার লিখিত ডাইরি... ছড়িয়ে পড়ুক বাংলা নগরে-নগরে,পথে-প্রান্তরে। বাংলায় হোক মুক্ত স্বাধীন চিন্তার বিকাশ।

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

ঈশ্বরের মৃত্যু কবে কখন কিভাবে হবে?

অক্সিজেন ছাড়া প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব না। ঠিক তেমনই উপাসনা ছাড়া ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই। মানুষের উপাসনা না পেলে ঈশ্বরের মৃত্যু ঘটে, তাই বেঁচে থাকার জন্য ঈশ্বর মানুষের থেকেও বেশী মরিয়া। এক জন মানুষ মড়ে গেলেও তার বংশধর থাকে, কিন্তু ঈশ্বরের মৃত্যু ঘটা মানে নির্বংশ হয়ে যাওয়া।

তাই বেঁচে থাকার যুদ্ধ মানুষ থেকে ঈশ্বরের জন্য বেশী কঠিন। মানুষের উপাসনা পাবার জন্য ঈশ্বরের যুক্তি একটাই, তিনি সব কিছুর স্রষ্টা। আর সেটা বিশ্বাস করাবার জন্য পথ মাত্র দু'টি। একটা হচ্ছে লোভ আর একটা হচ্ছে ভয়। ঈশ্বর প্রথমে তার উপাসনা করার জন্য মানুষকে লোভ দেখান। তার উপাসনা করলে এটা দিব, ওটা দিব; মানুষের আরাধ্য সব জিনিস। আর লোভে যদি কাজ না হয়, তাহলে দেখানো হয় ভয়। আর এই পুরো প্রক্রিয়া চালানোর জন্য একটি বিধান দেয়া হয়। সেই বিধানের বাইরে যাই থাকে তার সবই অন্যায় ও অনৈতিক। আর বিধানের ভেতরের সব কাজ ঠিক মতো করলেই লোভনীয় সব জিনিস পত্র পাবার হাতছানি। আর বিধানের বাইরের কাজ করলে ভয় ভীতি দেখানো শুরু হয়ে যায়।

হীরক রাজার দেশে সিনেমাটি যাদের দেখা আছে, তাদের কাছে হীরক রাজের একটা উক্তি মনে থাকার কথা, "এরা যতো বেশী পড়ে, ততো বেশী জানে, ততো কম মানে"। রাজা মশাই জ্ঞান ও উপাসনার মাঝের মূল সূত্রটি ধরতে পেরেছিলেন। তাই তিনি তার প্রজাদের বেশী জানার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন পাঠশালা বন্ধ করে দিয়ে। তাতে প্রজাদের বেশী পড়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, আর পড়তে না পেলে জানার রাস্তাও বন্ধ। প্রজা যতো কম জানে, ততোই তাদের ঘাড়ে আরো বেশী করে চেপে বসা যায়।

আমাদের ঈশ্বরও এই কথাটি জানেন। তাই ঈশ্বরের বিধানে জ্ঞান অর্জনের সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। ঈশ্বরের দেয়া বিধানে একমাত্র যে জ্ঞানের চর্চা করতে বলা হয়েছে সেটা হলো ঈশ্বর সংক্রান্ত জ্ঞান। ঈশ্বরের রূপ, ঈশ্বরের জ্ঞান, ঈশ্বরের ক্ষমতা, ঈশ্বরের বিধান ইত্যাদির বাইরে জ্ঞান চর্চা করা ঈশ্বরের দেয়া বিধানে নিষিদ্ধ। যে কোন নতুন জ্ঞান ঈশ্বরের বিধানে নিষিদ্ধ। কেন? কারন নতুন জ্ঞান মানেই নতুন কিছু জানা, আর নতুন কিছু জানা মানেই নতুন নতুন প্রশ্ন আর ঈশ্বরের উত্তর দিতে না পারা, আর উত্তর দিতে না পারা মানে হলো ঈশ্বরের দূর্বলতা, আর ঈশ্বরের দূর্বলতা মানে হলো মানুষের ঈশ্বরের ভয় থেকে মুক্ত করার সম্ভাবনা, আর ঈশ্বরের ভয় থেকে মুক্ত অবার মানে হলো ঈশ্বরের উপাসনা না করা।

মানুষ যতো কম জানে, ঈশ্বর ততোই তার ঘাড়ে চেপে বসে সিন্দবাদের ভূতের মতো। মানুষ যখন কাঁচা মাংশ খেত তখন আগুন তার কাছে অপার্থিব একটা জিনিস। ঈশ্বর তাকে আগুনের কাছে যেতে মানা করে দিলেন। বললেন ওটা মানুষের জন্য নিষিদ্ধ। মানুষকে আগুন থেকে দূরে রাখা হলো। তার পর এক সময় মানুষ আগুনকে ইচ্ছে মতো জ্বালাতে শিখে গেল। ঈশ্বরের তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকলো না। আগুন জ্বালানোর জ্ঞানটা যখন সবার হাতে পৌঁছে গেল, তখন ঈশ্বর বললেন যে তিনিই তো তার পোষ্যদের জন্য আগুন পাঠালেন তাদের আরামের জন্য। মূর্খ মানুষ বললো "আহা... ঈশ্বর কতো মহান"! মানুষের জন্য ঈশ্বরের রূপ নিয়ে প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ। তাই মানুষ সেটা করে না, ঈশ্বরের ভয়ে। কিন্তু স্বভাবের দোষে মানুষের প্রশ্নে জর্জরিত হয়ে তার পালানোর পথ খুঁজে না পেয়ে ঈশ্বর চন্দ্র সূর্য ইত্যাদি দেখিয়ে বললেন যে সেগুলোই ঈশ্বরের রূপ। কিন্তু একটা সময় মানুষ জেনে গেল যে সেগুলো ঈশ্বর না, চন্দ্র-সূর্যের রূপ আবিষ্কার করে বসলো সে। ঈশ্বর দেখলেন সমূহ বিপদ উপস্থিত। ঈশ্বর চন্দ্র-সূর্কে দখল করে বসলেন। বললেন, আরে, ওরা তো আমারই সৃষ্টি। আমি তো তোমাদের জন্যই তাদের বানিয়েছি। তিনি তার বিধান সংশোধন করে দিলেন। বলে দিলেন যে মানুষের থাকার জায়গা, যেটার নাম পৃথিবী, সেটার চারপাশে চাঁদ-সূর্য ঘুরতে থাকে, শুধুই মানুষকে সার্ভ করার জন্য। মানুষ আবার খুশী হয়ে গেল, "আহা... ঈশ্বর কতো সদয়"। বেয়াদব মানুষ তখন প্রশ্ন করে যে রাতে সূর্য আর দিনের বেলায় চাঁদ কোথায় যায়? ঈশ্বর দেখেন মহা বিপদ! বলে দিলেন যে ওরা তখন আমার সিংহাসনের নিচে বিশ্রাম নেয়! মানুষ প্রশ্ন করে পৃথিবী কিসের ওপর আছে? ঈশ্বর উত্তর দেন তারা একতা ষাড়ের শিং এর ওপর আছে ইত্যাদি। মানুষও ঈশ্বরের ক্ষমতার কথা ভেবে খুশী।

একটা সময় মানুষ ঈশ্বরের বিধানে দেয়া সীমা ভেঙ্গে আরো জ্ঞান অর্জন করলো। তার জন্য বিষ পানে মৃত্যু, আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু, গৃহবন্দী হয়ে মৃত্যু ইত্যাদি অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তার পরেও মানুষ জ্ঞান অর্জনের পথে এগিয়ে গিয়েছে। অর্জিত জ্ঞান সবার মাঝে ছড়িয়েও দিয়েছে। হাজার বছরের একচ্ছত্র রাজত্বকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দেয়ার ব্যাবস্থা করে দিল নবলব্ধ জ্ঞান। ঈশ্বর হন্তদন্ত হয়ে তার লাঠিয়াল বাহিনীকে আদেশ দেন "এই ব্যাটারা! যা, দখল কর"! লাঠিয়াল বাহিনী গিয়ে জ্ঞান প্রাকৃত জনে ছড়িয়ে যাবার আগেই দখল করে নিল। কি সেই জ্ঞান? সৌরজগৎ, মহাকাশ, নক্ষত্র ইত্যাদি। ঈশ্বর সেই জ্ঞানের আলোকে তার বিধান আপডেট করলেন। আকাস বাতাস ও মহাকাশের আলোকে তার অবস্থান ঢেলে সাজালেন। তার পর সেটা ছড়িয়ে দিলেন সবার মাঝে, তখন সবাই ভাবলো "দেখেছো ঈশ্বরের কতো ক্ষমতা। তিনি সেই সাত আকাশের ওপরে বসে কতো কিছু দেখেন!" তার পর কতো দিন কেটে গেল, কতো কিছু হলো, কতো জ্ঞান যোগ হলো মানুষের জ্ঞান ভান্ডানে। দখল করতে করতে এখন ঈশ্বরের লাঠিয়াল বাহিনীও ক্লান্ত। ছোট খাট কিছু হলে সেটা ছেড়ে দেয় সাব কনট্রাক্টে। সেই সাব কন্ট্রাক্টরেরা তখন বিজ্ঞানের ছোট খাট আবিষ্কার দখল করে দেয়। আর বড় কোন জ্ঞান আবিষ্কার হলেই কেবল এখন ঈশ্বরের এলিট ফোর্স আসে সেটা দখল করতে।

এলাকার মোড়লদের মতো, ছোট খাট খাল-বিলে চর জাগলে তেমন গা করেন না, কিন্তু পদ্মার চর দখল করতে যায় তাদের খাস লাঠিয়াল বাহিনী। এই যেমন এখন ঈশ্বর দখলের চেষ্টা করছেন অচিন্তনীয় মহাবিশ্বের এখনো পর্যন্ত আবিষ্কৃত রহস্যসমূহ। সৌরজগতের তুলনায় এটা একটু বেশীই বড়। তাই পুরনো বিধানে চলছে না। মানুষ বেমক্কা প্রশ্ন করে তাকে বপদে ফেলে দিচ্ছে। তবে ঈশ্বর হাল ছাড়ছেন না, পদ্মার চর বলে কথা, সেটা তো দখল করতেই হবে!

হীরকরাজ পাঠশালা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কী বোকা। পাঠশালা বন্ধের রাস্তা এখন বন্ধ, ঈশ্বর তাই পাঠশালা দখল করে নিয়েছেন! কী চালাক!

 ব্লগার: শহীদুজ্জামান সরকার



প্রবাহিত শক্তি



মনে করুন আপনি এক দোকানে চা খেতে গেছেন এবং চা মুখে দিয়ে দেখলেন যে চা তো চা নয় যেন চিয়ারতের রস। তখন কেমন লাগবে? নিশ্চয় খারাপ লাগবে! তখন আপনি যদি বলেন সে চায়ের দোকানদারকে ভাই চা ভালো হয় নি আপনি একটু ভালো করে পরের বার চা টা বানাবেন। এ কথা বলা পরে চা দোকানির চার ছেলে দুই বউ মিলে যদি আপনাকে পিটায় মারে তাহলে কি হলো। আপনি তো টাকা দিয়ে চা খাচ্ছেন। সে তো দোকান খুলে বসে আছে  চা ভালো কি খারাপ হয়েছে সেটা বলার অধিকার তো আপনার আছে কারনটা আবার বলছি আপনি তো টাকা দিয়ে চা খাচ্ছেন।


১৯৭১ সালে যখন দেশ স্বাধীন হয় যেসব মুক্তিযোদ্ধারা নিজের জীবনের বিনিময়ে দেশটা স্বাধীন করেছিল তারা কেন স্বাধীন করেছিল এর সঠিক উত্তর কি আপনি জানেন? যেসব মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছে তাদের কাছে জানতে চান যারা মুক্তিযুদ্ধ হয়েও এখন শেষ বয়সে এসে মসজিদে মাথা ঠোকে তাদের কাছে জানতে চান। তারা অবলিলাই উত্তর দিবে জালেম বেয়িমান বর্বর পাকিস্তানীদের হাত থেকে বাঁচতে সময়ের প্রযোজনে এবং সকল বাঙালি মিলেমিসে বাস করার জন্য। তারা কিন্তু কখনো বলবেনা না যে দেশটা ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রদলের জন্য স্বাধীন করেছিল তারা কিন্তু কখনো বলবেনা যে দেশটা সংখাগরিষ্ট মুসলিমদের জন্য স্বাধীন করেছিল। তাদের ভাস্য একটাই সকল বাঙালীর জন্য এ দেশ। এই দেশ স্বাধীন করার জন্য মুসলিম হিন্দু নারী পুরুষ সবাই মরেছে। কিন্তু আমরা স্বাধীন।


এবার আসল কথায় আসা যাক দেশটাকে স্বাধীন করেছিল মুক্তভাবে চলার জন্য যাতে এই দেশে সবাই মুক্ত স্বাধীন  পাখির মতো চলতে পারে বলতে পারে। ওই যে চায়ে চিনি হয়েছে কি চা নুনতা হয়েছে সে কথা বলতে পারে। কিন্তু সমেস্যা কোথাই যানেন! তা আর হচ্ছেনা কেউ মুক্তচিন্তা করলে কারো আতে ঘা লেগে যাচ্ছে কারো গদি নড়ে যাচ্ছে। কারো ব্যাবসার ক্ষতি হচ্ছে। এদেশে কি হয় এখন আইন করে মুখ বন্ধ করা হয়। এদেশে ধর্সনের বিচার হয় না ক্ষমতাশালীরা কাউকে হত্যা করলে তার বিচার হয় না। এই দেশ এখন সংখাগরিষ্ট মৌলবাদীদের হয়ে গেছে। মৌলবাদীরা সমালোচনা শুনতে চাই না তারা যেটা বলে সেই ঠিক মেনে নিতে হয়। মৌলবাদীরা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে মুক্তচিন্তার মানুষদের হত্যার বিচার করে না। কারন তারা সত্য তুলে ধরে তার দ্রুনীতি পরায়ন না।




যুগে যুগে সত্য তুলে ধরেছে অনেকে কিন্তু তাদের বাঁচিয়ে রাখেনি মৌলবাদীরা ক্ষমতাশীলরা গদি হারানোর ভয়ে ক্ষমতা হারানো ভয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধদের স্বপ্ন গুলাকে পিষে মেরেছে সময়ের সাথে। হয়ে উঠেছে বর্বর অত্যাচারি চালিয়ে হিংস্রতা। যারা সত্যর কথা বলে সত্যর পথে চলে তাদের মৃত্যু নেয়। সমালোচনা করার কটুকাব্য করা কথা বলা অধিকার সবার আছে কিন্তু তার জন্য যারা জিবন কেড়ে নেয় তারা ভিতু তারা মূর্খ বর্বর।


হত্যা করে কথা বলা সমালোচনা করা থামিয়ে রাখা যাবেনা যায়নি মুক্তিযোদ্ধাকে লালন করে এগিয়ে যাবে তরুনরা। কথা বলবে মত প্রকাশ করবে তুলে ধরবে সত্য। দুমড়ে মুচড়ে দিবে সেসব বিশ্বসীদের যারা মনে করে আরো যুগে যুগে মানুষকে অন্ধাকারে রেখে নিজেদের গড্ডলিকা পোক্ত করবে।



লিখেছেন : সজিব হোসেন

ধর্ম এবং এথেইজম

ধর্ম নিয়ে কৌতুহলকে অনেকে নিন্দার চোখে দেখেন। তারা পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ধর্ম বিশ্বাসে অবিচল আস্থা দেখানোর পক্ষপাতী। কিন্তু অনেকেই পাল্টা এই যুক্তি দেন যে, সবাই যদি বংশসূত্রে প্রাপ্ত ধর্মে অবিচল থাকতো তবে পৃথিবীতে নতুন ধর্ম আসতো না। না ইসলাম, না বাহাই, না সাইন্টোলজি। সুতরাং ধর্ম নিয়ে আলোচনা হবেই। মানুষের কৌতুহল, আগ্রহ ও অনুসন্ধানী মনকে বাধাহীন চলতে দেয়াটাই সঙ্গত। এই বঙ্গের ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মুক্ত পরিবেশে ঈশ্বর আর সৃষ্টি চিন্তা নিয়ে তাই কম পোস্ট পরে না। কিন্তু একজনের কথার সাথে অন্যের কথার তুলনা করা যায় না। দেখা যায় একেকজন আস্তিকতা ও নাস্তিকতাকে ব্যাখ্যা করছেন একেকভাবে। যাকে এথেইস্ট বলছেন সে হয়তো এগনোস্টিক। একইভাবে যারা প্যানথিইজমে বিশ্বাসী তারা ভাবছেন তারা মনোথিইজমের অনুসারী। সুতরাং একটা সর্বজনগ্রাহ্য পরিভাষা না থাকলে কে কার বিপক্ষে কী মত দিচ্ছেন তা ধরা যায় না। সে কারণেই মূলত: সৃষ্টি রহস্য বা স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে চালু বিভিন্ন মতবাদের বিচিত্র সব টার্মিওনোলজি বা পরিভাষা নিয়েই এই লেখা।


সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদের বিভিন্ন মাত্রার যদি একটা স্কেল আমরা কল্পনা করি তবে বিশ্বাসীদেরকে আমরা রাখতে পারবো স্কেলের বিভিন্ন বিন্দুতে। বিশ্বাস বলতে এখানে অবশ্যই বুঝাচ্ছে অদৃশ্য কোনো বিপুল শক্তিতে বিশ্বাস। যার একটি নাম হতে পারে ঈশ্বর। প্রথমে আসি ডানদিকে যারা আছেন। যাদের এসব বিশ্বাস সম্পর্কে আস্থা নেই। নেগেটিভ ধারণার একেবারে শেষ মাথায় হলো এথেইজম।

ক) এথেইজম: এই মতবাদের মূল কথা হলো কোনো ধরণের কোনো ঈশ্বর নেই। সৃষ্টিকে ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো ঈশ্বর কল্পনার প্রয়োজন নেই। প্রাকৃতিক সূত্র ও বিজ্ঞান দিয়েই ব্যাখ্যা সম্ভব।

খ) এগনোস্টিসিজম: এই মতবাদের মূল কথা হলো 'আমি জানি না'। অর্থাৎ ঈশ্বরের অস্তিত্ব মেনে নেয়ার মত বা অস্বীকার করার মত যথেষ্ট যুক্তি দেখতে পাচ্ছি না। সুতরাং আমি জানি না।

গ) স্কেপটিসিজম: শুধুই সন্দেহ। অর্থাৎ ঈশ্বর আছেন কিনা সে বিষয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।

ঘ) ন্যাচারালিজম: এই মতবাদের অনুসারীরা মনে করেন, মানুষের জীবন, তার অভিজ্ঞতা, তার মূল্যবোধ বা তার ধর্মপরায়ণতাকে বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে তার সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা যায়। অর্থাৎ সৃষ্টি রহস্য ব্যাখ্যা করার জন্য যা আমরা দেখছি, এই যে প্রকৃতি, এই-ই যথেষ্ট। প্রকৃতিই ঈশ্বর বা ঈশ্বরহীনতা।


এতো গেলো ডানে যারা আছেন ঈশ্বরহীনতার মতবাদ নিয়ে। এখন স্কেলের বামদিকে যারা আছেন তারা যদি এই ঈশ্বর বিশ্বাসের ধ্বনাত্মক মানে পজেটিভ অনুসারী হন তবে তারাও বিভক্ত কয়েকটি ভাগে। তাদের ভাগগুলো হলো:

ঙ) ডিইজম: এরা বিশ্বাস করেন ঈশ্বর এই বিশ্বব্রহ্মান্ড তৈরি করে তারপর বিশ্রামে গেছেন। তারা একধরনের "এ্যাবসেন্টি" গডের ধারণা নিয়ে ন্যাচারাল থিওলজির শিক্ষা দেন।

চ) থিইজম: এদের বিশ্বাস ঈশ্বর হচ্ছেন একটি ব্যক্তি সত্ত্বা। অর্থাৎ এটা কোনো ধারণা বা শক্তি নয়। ব্যক্তি-ঈশ্বর বা পার্সোনাল ডেইটির ধারণা নিয়েই চালু হয়েছে থিইজম।


এই থিইজমের আবার নানা রূপ।

1) পলিথিইজম: মানে সোজা কথায় ম্যানি-গড-ইজম। প্রাচীন সমাজে এর চল ছিল ব্যাপক। এর চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখতে পাই গ্রিস আর রোমানদের বহু দেব-দেবীর উপাসনায়। একেক দেবতা জীবনের একেক ক্ষেত্রকে শাসন করছেন। কেউ ফসলের দেবত, কেউ ভালবাসার।

2) হেনোথিইজম: এধরনের বিশ্বাসীরা মনে করে ইশ্বর অনেক তবে তারা একজনের কাছেই আনুগত্য স্বীকার করে। এই একজনকেই তারা মানে তাদের গোত্রের ঈশ্বর হিসেবে।

3) প্যানথিইজম: এই বিশ্বাসের মূল কথা হলো সবকিছুই ঈশ্বর। বাউল, সুফি বা ভাববাদী কবিরাই মূলত: এরকম বিশ্বাসের স্রষ্টা। তাদের বক্তব্য হলো প্রকৃতি, পৃথিবী সব মিলিয়েই ঈশ্বর। এই বিশ্বে যা আছে সবকিছুই ঈশ্বরের অংশ।

4) মনোথিইজম: এই বিশ্বাসের মূল কথা ঈশ্বর এক। সেই সর্বৈব ক্ষমতার অধিকারী। সে ব্যক্তি-ঈশ্বর, তিনি কোথাও থাকেন, আদেশ দেন, ইশারা করেন, তার বাহিনী আছে, তারা তার হয়ে নানা কাজ করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই ঈশ্বর চান তার সৃষ্টির বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ। নতজানু হওয়া। বর্তমান ও পরজীবনের জন্য তার কাছে প্রার্থনা করা। এসব মিলিয়েই এই মতবাদ।


একত্ববাদীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দৌরাত্মে থিইজম এখন অনেকের কাছে মনোথিইজমে পরিণত হয়েছে। কিন্তু থিইজমেরও যে ভাগ রয়েছে তা আমরা উপরে দেখতে পাচ্ছি।

তো এই যে একক, সয়ম্ভু, অসীম, পবিত্র, ব্যক্তি-সত্ত্বার দয়াময় ঈশ্বর তার ধারণাটা মানুষ কখন প্রথম শুনতে পেলো কানে?

মানববিজ্ঞানী Taylor-এর মতে ধর্ম ও তার উৎপত্তি


E.B. Taylor-এর মতে,
"ধর্ম হচ্ছে প্রেতাত্মায় বিশ্বাস।"
তিনি মনে করেন,
"It seems best simply to claim as a minimum definition of religion, the belief in spiritual beings."
তিনি ধর্মকে ধর্মকে দেখেছেন একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া হিসেবে এবং দেখিয়েছেন ধর্মের উদ্ভব ঘটেছে মানুষের চিন্তনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তার নিকট ধর্ম হলো, আত্মা বা প্রেতাত্মায় বিশ্বাস (Belief in Soul or Spirit).
ধর্মেকে সংঙ্গায়িত করতে গিয়ে তিনি 'সর্বপ্রাণবাদ' (Animism) বলে একটি তত্ব দিয়েছেন। এখানে দু'টি প্রশ্ন করা হয়।
১. কি জীবিত এবং মৃতের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়?
২. মনশ্চক্ষে আবিষ্ট অবস্থায় অথবা স্বপ্নে যা দেখে তা কি?
উত্তর হচ্ছে আত্মা বা প্রেতাত্মা।
অর্থাৎ, আত্মা বা প্রেতাত্মায় বিশ্বাস এবং বিশ্বাসকেন্দ্রিক যে আচার ব্যবস্থা, তা-ই ধর্ম।
বিবর্তনবাদী মানববিজ্ঞানী E.B. Taylor তার বিখ্যাত Primitive Culture(1871) গ্রন্থে ধর্মের উৎপত্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন, যা অনেকটা এরকম-
"মানুষ প্রথমে আত্মার ধারণায় উপনিত হয়েছে, তারপর সকল বস্তুতে আত্মার বা প্রাণের ধারণা আরোপ করেছে, এভাবেই মানুষ মহাশক্তিধর খোদা বা ঈশ্বরের ধারণায় উপনিত হয়েছে এবং ধর্মের উদ্ভব ঘটেছে ।
প্রথমে পূর্বপুরুষপূজা(Anceখstor Worship), তারপর প্রকৃতিপূজা(Nature Worship), তারপর বহুখোদা বা দেব-দেবীপূজা(Polytheism), তারপর একখোদা বা একেশ্বরবাদ(Monotheism)-এর উদ্ভব ঘটেছে।
প্রথমে মানুষ আত্মার ধারণায় উপনিত হয়েছে এবং তারপর সেখান থেকে প্রেতাত্মা,জ্বিন, ভূত, দৈত্য, দানব, ফেরেশতা, শয়তান প্রভৃতি ধারণায় উপনিত হয়েছে।
প্রথমে মানুষ স্বপ্নে, নিজের প্রতিচ্ছায়া, এবং পানিতে নিজের প্রতিমূর্তি দেখে দ্বৈতসত্ত্বার ধারণায় উপনিত হয়। একদিকে তার নিজের দৈহিক অস্তিত্ব, অন্যদিকে সে যখন ঘুমায় তখন সে স্বপ্নে দেখে সে দূর-দূরান্তে চলে যাচ্ছে, নানা ক্রিয়া-কর্মে অংশ নিচ্ছে, সে হচ্ছে তার অন্য আরেক সত্ত্বা। যখন সে চাঁদনীরাতে বা সূর্যের আলোয় চলাফেরা করছে তখন তার পিছু অনুসরণ করছে তার ছায়া। আবার যখন সে জলাশয়ে জলপান করতে গেছে বা নাইতে(স্নান) গেছে তখন সে পানিতে দেখেছে তার মতোই একজনকে।
এর ব্যাখ্যা কি???
অতি প্রাথমিক যুগের সহজ-সরল অজ্ঞ মানুষদের কাছে মনে হয়েছে তার ভেতরে তার মতোই কেউ একজন বসবাস করে। 'যে ছায়া হয়ে তার সাথে হাঁটে, পানিতে প্রতিচ্ছায়া হয়ে উপস্থিত হয় এবং ঘুমালে দেহ ছেড়ে বাইরে বেড়াতে যায়। এ হলো তার দোসর বা দ্বৈতসত্ত্বা অর্থাৎ তার ভেতরের আরেকজন।'
Taylor-এর মতে,
"The ancient savage philosophers probably made their first step by the obvious inference that every man has two things belonging to him, namely, a life a phantom. "
দ্বিতীয়জন অর্থাৎ দেহের ভিতরে বসবাসকারী অন্যজন দেহ ছেড়ে বাইরে চলে যায় আবার দেহে প্রত্যাবর্তনও করে। একে নিদ্রা বলা হয়।
কিন্তু যখন সেই সত্ত্বা চিরতরে দেহত্যাগ করে চলে যায় বা কোনক্রমে পথ ভুল করে ফিরে আসতে পারে না তখন মানুষ চিরনিদ্রায় শায়িত হয় বা তার দৈহিক মৃত্যু হয়। তবে আত্মা অমর, অবিনশ্বর এবং স্বাধীন।
আত্মা ভূত হয়ে ফিরে আসে তার আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে। আত্মা অগ্নি, বায়ু, জলসহ সকল দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান মাধ্যমে চলাচল করতে পারে। আত্মার অনেক ক্ষমতা। কেউ অস্বাভাবিক বীরত্ব প্রদর্শন করলে বা শিকারে দক্ষতা দেখালে বুঝতে হবে তার উপর আত্মা ভর করেছে। আর কারো কোনো বিপর্যয় ঘটলে বা কেউ অস্বাভাবিক আচরণ করলে বুঝতে হবে তার উপর প্রেতাত্মার কুদৃষ্টি পড়েছে বা আছর করেছে ।
সেই প্রেতাত্মার অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রেতাত্মাকে খুশি করার বা খুশি রাখার উপায় হিসেবে আত্মাপূজা ধারণার উদ্ভব হয়। আত্মাপূজা থেকে পূর্বপুরুষপূজা, পূর্বপুরুষপূজা থেকে প্রকিতিপূজা, প্রকৃতিপূজা থেকে বহুঈশ্বর বা দেব-দেবীপূজা............ এভাবেই যুগের পরিক্রমায় ধর্মের উৎপত্তি হয় এবং ধর্ম বিকাশ লাভ করে।

নৈতিকতা সংঙ্গে ধর্মের কি সম্পর্ক?

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি কিন্তু ধর্মের নৈতিক ব্যবহার নিয়ে আমরা কোনো কথা বলি না। আবার দেখুন প্রায়ই বলতে শোনা যায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কিন্তু দুনিয়ার আকাম কুকাম কোনোটা তার বাকি নেই – তার মানে কী, একথা যিনি বলছেন তিনি মনে করছেন নামাজ পড়া লোকটার আকাম কুকাম করাটা অস্বাভাবিক বা আকাম কুকাম করলে নামাজ পড়ার দরকার কি? এভাবে সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, লোভ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, হিংসা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রতি প্রশ্নে আঙ্গুল তোলা হয় রোজা নামাজ করা লোক কেমনে এত অসৎ লোভী হিংসুক হয়। একথাও বলতে শোনা যায় আমি হাজি মানুষ আপনার মনে হয় আমি ওজনে কম দেব, রোজামুখে বলছি এই মাল বিক্রি করে আমার লস হবে, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কথা কোরান ছুঁয়ে বলছি আমি ওনার সাথে সহবাস করিনি অথবা তিনি নামাজ কালাম পড়েন খুব আল্লাহওয়ালা ভাল মানুষ – এভাবে জীবনের প্রতি পদে পদে ধর্মকে সামনে দাঁড় করিয়ে নৈতিকতার ফিরিস্তি দেয়া হয় নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।


সাহিত্য শিল্প সৃষ্টি নিয়ে ও এসবের সাথে মাদকাসক্তির সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথা বলতে শোনা যায়, কারো কারো কথা শুনলে এমনও মনে হতে পারে নিতান্ত মদই গিলতে পারে না সে আবার কবিতা লিখবে কী, গাঁজা নিয়েও এমন কথা উঠে আসে গিনসবার্গ গাঁজাসেবী তাই তিনি এত বড় কবি, আবার অন্যদিকেও কথা ওঠে কাড়ি কাড়ি মদ না গিললে বড় কথাশিল্পী হতেন তিনি, হেরোইনের নেশায় না পড়লে আপনারা কেউ কি দাঁড়াতে পারতেন ওর কবিতার সামনে। কিন্তু আমরা কখনো ভাবি না শুধু মাদক সেবন শিখলে তো কেউ কবিতা লিখতে পারে না বা শুধু কবিতা লিখতে শিখলে কেউ মাদক সেবক হতে পারে না – দুটোই আলাদা আলাদা শিখতে হয়।


তাই ধর্মের অনুশাসন পালন শিখলেই আপনার নৈতিক শিক্ষা হয়ে যাবে এটা তো হতে পারে না। আপনাকে নৈতিক শিক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হবে – আপনি অসৎ লোভী হিংসুক মানেই আপনার নৈতিক শিক্ষা হয়নি বা আপনি আপনার নৈতিক শিক্ষা ভুলে গেছেন, যেরকম অনেকেই শিক্ষাকালের পর তার আরব্ধ শিক্ষা ভুলে যায়।


প্রতি পদে পদে ধর্মের নৈতিক ব্যবহার থেকে সমাজকে মুক্ত হতে হবে – আপনার নামাজ কালাম আপনার, আপনার নৈতিকতাও আপনার – একটা দিয়ে আরেকটা হাসিল করতে যাবেন না, কারো নৈতিক দৃঢ়তাকে তার ধার্মিক দৃঢ়তা বলে ভুল করবেন না এবং কারো ধার্মিক অর্জনকে তার নৈতিক অর্জন বলে ভুল করবেন না। ধর্মের নৈতিক ব্যবহার ও নীতির ধার্মিক ব্যবহার পরিহার করুন। ধর্মের সাথে নৈতিকতার কোনো সম্পর্ক নেই, নৈতিকতার সাথেও ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।

জাতীয়তাবাদ আরেকটি ধর্ম বই

বাংলাদেশীরা ধর্মভীরু।
ইসলাম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ও জাতীয়তাবাদ নামক ধর্মগুলোর প্রতি বাঙ্গালীর দুর্বলতা নতুন কিছু নয়। আমরা যারা মুক্ত-চেতনাকে প্রয়োজনীয় মনে করি, যুক্তিকে ধর্মের ওপরে স্থান দেই তাদের অনেকেই ধর্মের মতই সামনে আসা অন্যান্য প্রতিটি ধারনা ও প্রস্তাবনাকেই যুক্তি দিয়ে বুঝতে চাই, খতিয়ে দেখতে চাই।
বা দদূএকটি রূপ আধ্যাত্মিকতা ও ধর্ম হিসাবে মানুষের দলবদ্ধ সমাজব্যবস্থার দ্বিতীয় বড় চালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রস্তরযুগে আরো একটি ঘটনা ঘটতে শুরু করেছিল।
বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ

মানুষেরা নিজেদের গ্রাম বা নগরকে কেন্দ্র করে একটি সামষ্টিক পরিচিতি অনুভব করে শুরু করেছিল। বোধ করি তখন থেকেই মানুষের দলবদ্ধতার তৃতীয় চালক জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক যাত্রা শুরু। বর্তমানে সারা দুনিয়ায় জাতীয়তাবাদ নানান চেহারায় দলবদ্ধতার সবচাইতে শক্তিশালী চালক হিসাবে বিদ্যমান।

একটি নৃগোষ্ঠী যখন পুঁজিবাদী হতে শুরু করে, যখন সে একটি কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র গঠন করে তখনই সে একটি জাতিতে পরিণত হয়।
ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ আমাদের দেশের রাজনীতিতে কাছাকাছি আছে ইতিহাসের শুরু থেকে। মহাভারত থেকে আজকের খালেদা-হাসিনার রাজনীতিতে ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ একে অন্যের হাত ধরে আছে।

 

জাতীয়তাবাদ যেভাবে এগোয়, তার সাথে কিন্তু ধর্মের অনেকগুলো মিল রয়েছে। ধর্মের মতই কিছু কল্পিত ‘ঐতিহ্য’কে ভিত্তি করে জাতিসত্তা গড়ে ওঠে। ফ্যাসিস্ট আর নাৎসিদের কথা ভাবুন। পাকিস্তানের কথা ভাবুন। যখন আমরা জাতীয়তাবাদকে কাছ থেকে দেখি, তখন লক্ষ করি, ধর্মীয় লিরিকঃ (নবীর দন্ত মোবারক!), মসজিদ, ইমাম, ধর্মযোদ্ধারা স্মৃতিসৌধ, সংসদ, পল্লী-বন্ধু, ও দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী নামে জাতীয়তাবাদে বর্তমান।

ধর্মগোষ্ঠির মত জাতীরও একটি সীমানা থাকে। এই সীমানার ওপারে থাকে অন্য জাতি, অন্য সম্প্রদায়। ছাপানো বক্তব্য যত সহজে সম্প্রসারিত হতে থাকে, জাতীয়তাবাদ ততই গভীর হতে থাকে। ঠিক যেমন আসমানি কিতাবগুলো ছাপানো হয়েছিল বলেই অনেকগুলো ধর্ম এখনো বেঁচে আছে। নতুন মিডিয়া জাতীয়তাবাদের এই গতিকে আরো উস্কে দিয়েছে। নৃতত্ব, অভিন্ন প্রতিপক্ষ বা ভাষা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে জাতি গড়ে ওঠার কথা থাকলেও আজকের বাস্তবতায় রাজনৈতিক একক বলতে জাতি-রাষ্ট্র ছাড়া আমাদের সামনে বেছে নেবার অনেক বেশী কিছু নেই।

ইতিহাসে যেমন মানুষ শিয়া-বাহাই বা ক্ষত্রিয়-জৈন বা ক্যাথলিক-জেন্টাইল হিসাবে জন্মাত, এখন আমরা জন্মাই একটি দেশের নাগরিক হয়ে। আমাদের কারো নাগরিক না হয়ে গত্যন্তর নেই, ঠিক যেমন ইতিহাসে কোথাও শূদ্রের ঘরে জন্মে বেদপাঠের অধিকার চাওয়া একটি অপরাধ ছিল। আজকে একটি দেশের পতাকা বা স্মৃতিসৌধ অতীতের ক্রুশ বা মহামানবের চুল-নখের মতই শক্তিশালী প্রতীক। ধর্মের মত কল্পিত একটি ধারনার নামের শহীদদের জায়গা দখল করে নিয়েছে জাতি নামক আরেকটি কল্পিত ধারনার জন্য জীবন দেয়া শহীদেরা।

আগেই বলেছি, জাতীয়তাবাদের কেন্দ্রীয় ধারণা মানে ‘জাতি’ একটি কল্পিত সম্প্রদায়। একটি দল কল্পনা করে তারা একটি রাজনৈতিক বা সামাজিক একক। জতির সদস্যরা মনের ভেতরে তাদের ঘনিষ্ঠতার স্বরূপ কল্পনা করে নেয়। আমি কখনো বগুড়া যাইনি। কিন্তু বগুড়ার একজন মানুষ বাংলাদেশের পতাকার প্রতি যে টান অনুভব করে, আমিও তাই করি। আমাদের সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই, আমরা একটি জাতির অন্তর্গত।
বাংলাদেশের পতাকা


আমাদের একটি সম্পর্ক আছে। এই কল্পিত সম্পর্কটি লোকায়ত বিশ্বাসে যেমন দেশ ভিত্তিক জাতীয়তা হতে পারে, ঠিক তেমনি আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে ইসলামিক উম্মাহ বা বিশ্ব ইজতেমার মত কিছুর মত দেখতে হয়।
জাতি ও ধর্ম দুটোই সমানভাবে কল্পিত।
ইসলাম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ধর্মের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে নতুন করে আলোচনা অবতারণা আমার লক্ষ্য নয়। এখানে আমি সচলদের আহবান করছি, জাতীয়তাবাদ ধারনা নিয়ে আলোচনা করুন। আরো নির্দিষ্ট করে জাতীয়তাবাদকে ধর্মের মত প্রশ্নাতীত মনে করার নিয়েই আলোচনা হোক।

এখানে জাতীয়তাবাদী বলতে আমি বিএনপি বা আওয়ামীলীগ বোঝাচ্ছি-না। আমি জাতীয়তাবাদী বলছি তাকে যে তার জাতীয় ধারনাকে চূড়ান্ত মনে করে; যেমন কিছু আমেরিকানের কাছে আমেরিকার ধারণা পবিত্র।
একবার ভাবুন। জাতীয়তাবাদ তো আরেকটি ধর্ম বই নয়। কোন যুক্তিতে আমি, আপনি এই ধর্ম পালন করি?


মুসলমানামা


  1. আমি মুসলিম পরিবারের সন্তান। আমার নামটাও মুসলিম। আমার বাবা মুসলিম এবং তার বাবাও মুসলিম কিন্তু তিনার স্ত্রী ছিলেন হিন্দু । মুসলিম হিসেবে আমার কাজ নামাজ কালাম করা এবং প্রাণ ভরে হিন্দুদদের ধংসের জন্য আল্লার কাছে দুয়া করা। এছাড়াও মুসলিম হিসেবে আমার অনেক কাজ বাকি আছে তার জন্য সহিহ নিয়ত লাগবে। কিন্তু আমি পড়ে গেছিলাম সাম্যবাদের দলে। যেখানে কিছুই নেই।  না আছে টাকা না আছে নারী বা আছে মদ না আছে দাসী না আছে মরার পরে হুর গেলমান। যতদিন আমি সাম্যবাদী ছিলাম ত্যাগ ছাড়া আমি কিছুই পাইনি। মানুষ না খেতে পেলে নিজের খাবার দিতাম হিন্দু মুসলিম কি সব তখন সমান ছিল কিন্তু ইসলাম জানার পর বুঝলাম এগুলা সব হারাম বিদাত। এগুলা করলে সে জাহান্নামী। যেখানে আগুনে জ্বলে পুড়ে মরতে হাবে। কিন্তু ইসলামে এর সমাধান আছে মরার পর সুখ আছে মদের নদী, দুধের নদী ৭২ খানা মোহমহিত কামুক হুর।




আমি নিয়মিত মসজিদে যায় নামাজ পড়ি তালিম নিই। আব্দুল ভাই আমাদের তালিম দেয়। শুনেছি আব্দুলা ভাই সিরিয়াই গিয়ে ৩ মাসের ট্রেনিং নিয়ে এসেছে। তবে তার আগে জানতে ও বুঝতে হবে। ১ মাসের ট্রেনিনের প্রথম ১০ দিন আমি সামনের কাতারে চলে এসেছি আমরা এই ১৫ জনের ভিতর ৫ জন পরের চালানে সিরিয়া যাবে। আমি হাদিন কুরআন খুব ভালো ভাবে অওত্ত করে নিয়েছি। জিহাদী আয়াত না পড়লে মনে হয় আমার শরীল মনের গেছে জিহাদী আয়াত ইয়াদ না করা ছাড়া মনে জোস আসেনা। এজন্যই আমি সামনের কাতারে।

ট্রেনিং শেষের দিকে আমি কাঁটাতারের বেড়া কাঁটা আর জৌর্দ বোম বানানোই হাত পাকা করে ফেলেছি। সামনের মাসেই আমাদের ডেট ট্রেনিং নিয়ে এসে এই বাংলাই আমি আমার সাহাবি যোদ্ধারা প্রতিষ্টা করবো ইসলামী খেলাফাত। চালু করবো শরিয়া আইন। দেশ চলবে মরুর মতো করে। দেশে প্রতিষ্ঠা হবে শান্তি।

কষ্টের জিহাদী শিক্ষা শেষ দেশে এসে আমার সবাই নিজেদের সাথে যোগাযোগ রাখছি। ছোটখাটো একটা দুইটা কাজও করে ফেলেছি। বলতে পারেন এসবের তো শুরু।



বড় লিডার অনেক দিন ফোন করেনি। লোকটা ভালো লোকটারে কিছু একটা দেখাতে পারলে আমি টপে। তবে লোকটাকে আমার ফোন দেওয়া উচিত।

: আসলামালাইকুম নেতা
: কে?
: আবু মুহাম্মদ
: কেমন আছো আবু মুহাম্মদ
: চি আল্লার রহমতে ভালো। আপনি?
: দেশে অশান্তি আমরা ভালো থাকি কি করে বলোতো।
: জি হুজুর।
: তোমারে একটা কাজ দিবো পারবা। আমাদের আলী, ওল্লিওল্লাহ্, মুজাহিদ এসব এতো দক্ষ খেলোয়ার হয়েও পারলো না। তুমি চেষ্ট করে দেখেতে পারো  বোঝোই তো সবিই হবে দলের।
: আমি করবো নেতা।
: ওকে। তুমি আমার সাথে ২৪ তারিখে দেখা করবে খরজ পাতির নিয়ে যাবে।
: জি সালামাইকুম।

নেতার বাড়ি টাকা আনতে আমার একাই যেতে হবে। আবু সালে লোক দেখতে ভালো হলেও চোর স্বাভাবের।মাগরিবের নামাজ পগে আমি নেতার বাড়ির সামনে। নেতার এক পিয়ন এসে আমাকে নেতার বাড়ির ভিতর নিয়ে গেলো। আলিশান বাড়ি নরম সোফা পায়ের নিচে পর্যন্ত নরম বাইরে গরম থাকলেও শরিলে নরম শীতল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। আমার বাপের কম আয় বলে আমাদের বাড়ি টিনের। আমি যখন হয়েলাম তখন আমার বাপ গানবাজনা করতো আমারর গাঁয়ে কসম কাটিয়ে গান বাজনা বন্ধ করে তারে নামাজ কালামে পাঠাই। আমারে তখন মাদ্রসাই দেবে বলে নিয়ত করে। আমিই ভাবি যখন আমি স্কুলে পড়তাম তখন নজরুল নিয়ে পড়ে থাকতাম। মানুষ নিয়ে। নেতার জন্য অপেক্ষা করতে করতে একটা মেয়ে এসে কিছু খাবার দিয়ে গেলো। এটা মনে হয় নেতার মেয়ে দেখতে পরির মতো। একটা মেয়ে এতো সুন্দর হয় কেন?  তাহলে হুরেরাও তো তারও সুন্দর। হুজুরের এই মেয়ে যে ছেলে বিয়া করবে তার জিবন হবে সুখের সে পৃথীবিতে থাকেই পেয়ে যাবে হুজুর। আবশেষে নেতা আসলো ছবিতে যারে দেখেছি ইনি সে তো লাল দাড়ি মাথাই গোল টুপি গাঁয়ে কালো গাউন উচু লম্বা, কথা সেই ওয়াজের সুরের মতো। আহা কতই না মধু । ৩০ হাজার টাকা দিয়ে নেতা আমাদের সব বুঝিয়ে দিলো। কিভাবে কোথায় কখন কোন সময়ে হামলা করতে হবে কটা বোম ফুটাকে হবে সব।



আমিনুল, জাহিদ,আবু সালে আর আমি টার্গেট চড়ুই তলা কাঁলি মন্দিরে দিকে। হাতে দুজনের দুইটা শর্ট গান আমিনুল আবু সালে গাড়ি নিয়ে চলে গেলো মন্দিরে মূল ফটকে। আমি গাড়ি থেকে নেমে মূর্তিটার মাথায় গুলি করলাম। চুরর্মার হয়ে গেলো মূর্তিটার মাখা।  আমার মাথার ভিতর ঝিম ধরেছে। যখন আমি সাম্যবাদ করতাম এই মূর্তিকে আমি শিল্প ভাবতাম দেখে দুচোখ ভরে যেতো। প্রেমিকার কথা মনে পড়ে যেতো যেনো আমি তার হাত ধরে হাটছি বহু দুর। সে পথ শেষ হবার নয়। চারটা বোমা ফাঁটানো হয়েছে পুরা মন্দিরে আমার চার জন ধামাকা বাজিয়ে দিয়েছি। আল্লা হুয়াকবার ধনি দিয়ে চলে এসেছি মুসলমানের দেশে কোন মূর্ত থাকবে না।

পরের দিন পত্রপত্রিকায় আমার ছবি সহ নাম বেরিয়েছে ফোন বন্ধ থাকাই কেউ খোজ নিতে পারেনি ফোন খুলেই বড় নেতার ফোন তিনি দেখা করতে বলেছে আজিই ঈসার পরে তার বাড়িতে।

আমি গোপনে বড় নেতার বাড়িতে চলে এসেছি বড় নেতা মনে হয় আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল। সোফাই বসার পর দেখলাম একটা ছেলে ট্রেতে করে দুইটা ব্লা লেবে এক বতল মিনারেল ওয়াটার কিছু ছোলা দুই পেকেট গোল্ডিফ সিগারেট এনে রাখল। মাঝে মাঝে মদ খাওয়ার অভ্যাস ছিল তাও সে তাড়ির মদ এটা দেখে আমার জিব লফ লফ করছে। আমি একটা বিষয় অনুমান করছি সেটা হলো বড় নেতা আমার সাথে খুব ফ্রি হতে চাচ্ছে আমি একটা পুরা মন্দির জ্বালিয়ে দিয়েছি। এটা বড় কাজ। আমি বড় নেতার সাথে বসে সারাবান তাহুর পান করলাম নেতা তাকে নেতা না বলে হুজুর বলে ডাকতে আদেশ করলো। 'আবু মুহাম্মদ  তোমার জন্য একটা উপহার আছে যাও ওই ঘরে যাও। আমি নরম তুলার উপর দিয়ে ওই ঘরের দিকে হাঁটছি। ঘরের ডিম লাইটের আলো জ্বলছে। আমি খাটের উপর বসে একটা মেয়ে এসে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলো। আমার দিকে মুখ ঘুরাতেই দেখলাম এই সে খাবার দিয়েলো হুজুরের মেয়ে। মেয়েটা আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে বল্লো আমি আজকে রাতের তোমার দাসী। ঘনো কালো চুল ওর গাঁ থেকে তিব্রতা নিয়ে একটা গন্ধ বের হচ্ছে। আমার পশোম সোজা হয়ে যাচ্ছে। আমি মহোমহিত হয়ে পড়ছি। ওর চুলে গন্ধ গাঁয়ের গন্ধ আর নরম তুলতুলে শরিল আমকে উত্তজিত করে দিচ্ছে। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে মেয়েটা কে?  কি তার পরিচয় নাম কি তার?  সেই কি হুজুরের মেয়ে যেটা আমি ধারনা করেছি। হুজুরের মেয়েরা কি এমন হয়। যারা তাদের বাপের কথাই ইসলামের জন্য মূর্তি ভাঙ্গে তাদের সেবা দেয় দাসী হয়ে। কিন্তু সাম্যবাদে সবাই সমান মানুষ, মদ আর নারী আমাকে কাম উত্তেজিত করে দিচ্ছে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। আজকে  সারারাত ও আমার ওযেই হোক ও আমার হুজুরের মেয়ে হোক কাজের মেয়ে হোক হিন্দু হোক তবুও ও আমার। আমার মাথার ভিতর ঝিম ধরছে আমি মনে হয় পানিতে ডুবে যাচ্ছি। আহ্ কি শান্তি সুখ চরম সুখ।


ইদানিং আমার শরিল টা ভালো যাচ্ছে না সেদিন মালো পাড়াই ভুলুর মেয়েটার দেখে আমার ঈমানি জোস বেড়ে গিয়েছিলো বলে নেতার কার থেকে অনুমতি নিয়ে ভুলুর বাড়িতে গিয়ে চুপিসারে ভুলুর মেয়েটারে সেবা নিয়ে এসেছি। তার বদলে অবশ্য ওদের ৫০ কেজি চাল ১হাজার টাকা আর কিছু দিয়ে এসেছি ভুলুর মেয়েটা বেস সুন্দির ফর্সা আমি ভাবছি ভুলুর মতো মালো কি ভাবে এতো সুন্দর মেয়ে জন্ম দিলো। এই মেয়ে দেখলে মনে হয় এক বিদেসীনি। চিকন যে ভারতী নায়িকা দিপীকা। সেদির রাতে ওই কচি মেয়েটা আমা ইমানি জোস বুঝতে পেরেছে। আল্লা হুয়াকবার বলে যখন ওর পরিক্ষা নেওয়া শুরু করলাম তখন ও মা বলে চিতকার করছিল। শুনতে দারুন লাগছিল। সুন্দর মোহমহিত। শেষে ওদের বিছানার কাপড় সাথে করে নিয়ে আসতে হয়েছে রক্তে ভিজে গিয়েছিল। আমি একটা নতুন কাপড়ও কিনে দিয়েছি।

ডাক্তার দেখাতে হবে শরীর সুখিয়ে যাচ্ছে, ভুলুর মেয়েটা শুনলাম মারা গেছে কি একটা ভায়রাস হয়েছিল তাই। শুনে খুব খারাপ লাগছে। তবে জান্নাতে গিয়ে যদি বাহাত্তার টা হুর বেছে নেওয়ার যায় তবে আমি দশটা ভুলুর মেয়ে মতো চাইব আল্লার কাছে। আমি আল্লার খাস বান্দা জিহাদ করি নাস্তিক মারি নানা অপারেশনে যায় মন্দির ভাঙ্গি।  আমার ইচ্ছা আল্লা পুরন করবেই।

হুজুরের বাড়ির দাসী মেয়েটার কাছে যাওয়া হয়নি অনেক দিন আজ যেতে হবে। হুজুর বাড়িতে নেয় কিন্তু আমার জন্য হাজার ৫ টাকা রেখে গেছে সামনে একটা বড় অপারেশন একটা নাস্তিক কুপাতে হবে। চার জন মিলে ওদের কাউরে আমি চিনিনা তবে সামনে জুম্মা সবাই এক সাথে নামাজ পড়ে পরিচিত হয়ে মিশনের বিষয়ে আলাপ করবো। আজা দাসী ভালো সার্ভিস দিয়েছে। শালি বলে কি আমারে বিয়া করইরা নেয় আপনারে টা আমার দারুন সুখ দেয়।

ডাক্তারের রক্ত দিয়ে আসলাম কাল সকালে রির্পোট দিবে কিন্তু কাল তো নাস্তিক কুপানো মিশন। হারামিটার মেরে তার পর দেখবো আমার কি হয়েছে ঔষধ খাবো হুজুরের দোয়া নেবো একটু সুরা কালামম পড়ো রোগ মুক্তি। আমার চোখের চারদিকে থেকে একটা অন্ধকার ভাব আসছে সমজিদে ঈশার আজান দিচ্ছে আমি আজ নামাজে যাবোনা। সাম্যবাদ করার সময় আমি নামাজ পড়তামনা আমি তখন মানুষের ভালোর জন্য সেই সময় টুকু ব্যায় করতাম। মানুষ আমার চোখে ছিল সম্মানের এখন শুধু মুসলমানেরা আমার চোখে সম্মানের। বাকি সব শত্রু। কাল সকালে নাস্তিক কুপাবো ইনশাল্লা। পড়ো রোগ মুক্তি। আমার চোখের চারদিকে থেকে একটা অন্ধকার ভাব আসছে সমজিদে ঈশার আজান দিচ্ছে আমি আজ নামাজে যাবোনা। সাম্যবাদ করার সময় আমি নামাজ পড়তামনা আমি তখন মানুষের ভালোর জন্য সেই সময় টুকু ব্যায় করতাম। মানুষ আমার চোখে ছিল সম্মানের এখন শুধু মুসলমানেরা আমার চোখে সম্মানের। বাকি সব শত্রু। কাল সকালে নাস্তিক কুপাবো ইনশাল্লা।মম পড়ো রোগ মুক্তি। আমার চোখের চারদিকে থেকে একটা অন্ধকার ভাব আসছে সমজিদে ঈশার আজান দিচ্ছে আমি আজ নামাজে যাবোনা। সাম্যবাদ করার সময় আমি নামাজ পড়তামনা আমি তখন মানুষের ভালোর জন্য সেই সময় টুকু ব্যায় করতাম। মানুষ আমার চোখে ছিল সম্মানের এখন শুধু মুসলমানেরা আমার চোখে সম্মানের। বাকি সব শত্রু। কাল সকালে নাস্তিক কুপাবো ইনশাল্লা। পড়ো রোগ মুক্তি। আমার চোখের চারদিকে থেকে একটা অন্ধকার ভাব আসছে সমজিদে ঈশার আজান দিচ্ছে আমি আজ নামাজে যাবোনা। সাম্যবাদ করার সময় আমি নামাজ পড়তামনা আমি তখন মানুষের ভালোর জন্য সেই সময় টুকু ব্যায় করতাম। মানুষ আমার চোখে ছিল সম্মানের এখন শুধু মুসলমানেরা আমার চোখে সম্মানের। বাকি সব শত্রু। কাল সকালে নাস্তিক কুপাবো ইনশাল্লা।

চাপাতির ট্রেনং আমার ভালো ভাবে নিয়া আছে মুনতাচ্ছির, কামরুল,হামজা আর আমি আবু মুহাম্মদ চার জন চারটা চাপাতি কুপাবো ঘাড়ের অগ্রভাগে নাস্তিকটার যাওয়া আসার পথ আমাদের মুখস্ত। ওই তো নাস্তিটার দেখা যাচ্ছে বের হয়েছে রাস্তাই। বাংলাই রাস্তাই মসুলমানের দেশে কোন নাস্তিক থাকবেনা। এদেশে নাস্তিদের কোন ঠাঁয় নেই। আমি ঘুম ঘুম অনুভাব করছি। পকেটে ফোন বেড়ে উঠল। এই সময় কে..! 


: হ্যালো। আবু মুহাম্মদ
: জি বলেন
: আমি ডাক্তার বলছিলাম। আপনার এইচাআইভি পজেটিভ।
আমার মাথার ভিতর চক্কর দিচ্ছে আমি মনে হয় পড়ে যাবো। সহোযোদ্ধারা নাস্তিকটাকে কুপাচ্ছে জোরে জোরে বলছে আল্লা হুয়াকবার আল্লা হুযাকবার আমার গাঁয়ে রক্তের ফিনকি পড়ছে। সাম্যবাদে রক্তের ফিনকি পড়ে না, সাম্যবাদে মানুষ হত্যা করা লাগেনা সাম্যবাদে আছে শুধু ভালোবাসা। কোন ঘৃনা নেয় সাম্যবাদে। আমা মারা যাচ্ছি মনে হয়। আমার সাম্যবাদীতা জেগে উঠেছে মরে যাওয়াই শ্রেয়। এই পৃথীবিতে মানুষের ঠাঁয় নেয়। মসুলমানের কাছে হিন্দুর ঠাঁয় নেয় তেমনি হিন্দুর কাছে মসুলমানের ঠাঁয় নেয়।

লিখেছেন:সজীব হোসেন

প্রশ্ন করবার অধিকার কি জরুরী?

                          (  ১)

 ধর্মীয়-মতাদর্শ এবং ধর্মভিত্তিক সমাজ কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চায় না, চায় নিঃশর্ত আনুগত্য। স্থির ও বদ্ধচিন্তার জন্যে সেটাই স্বাভাবিক; নিস্তরঙ্গ পুকু‌রে ঢেউ ওঠেনা।

সেকারণেই ধর্মজীবীরা আরোপ করতে চায় নানান শর্ত। এমনকি 'ধর্মানুভুতিতে আঘাত' নামের এক অলীক ধারনাকে দেয় প্রশ্রয়; অপরিণত মস্তিকের ছিঁচকাঁদুনে বালখিল্যতায় সেটাকে দেয় একটি আইনি রূপ।
কিন্তু সমাজ তো নিস্তরঙ্গ পুকু‌র নয়, মানবিক একটি সমাজ চির বিকাশমান। কল্যাণকর ধারণাগুলোর প্রতিষ্ঠা এবং আরও শানিত করবার জন্যেই তাকে নিয়ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
সমাজ বিকাশের এই চলমান ধারায় যে সব চিন্তা বা কাজ সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম সেটাই প্রগতিশীলতা এবং সেই পরিবর্তনে যারা আস্থা রাখে এবং সেই ইতিবাচকতার পক্ষে শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ করে, তারাই প্রগতিশীল।
সমাজের বিকাশমান ধারাটিতে যাদের আস্থা নেই, চিন্তায় ও মননে যারা অতীতমুখী, যারা প্রগতির বিরোধী, তারাই প্রতিক্রিয়াশীল।

-----------------------(২)---------------------------
'মুক্তচিন্তা' একটি প্রগতিশীল দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গী।
“ক্লিফোর্ডস্ ক্রেডো” এর একটি বাক্যকে বলা যায় মুক্তচিন্তার মুল ভিত্তি, যা অনেকটা এ রকম —
“যে কোন ব্যক্তির যে কোন জায়গায় উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে কোন কিছু বিশ্বাস করা উচিত নয়”।
অথবা তা হতে পারে কার্ল সেগানের ভাষায় —
"পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্থগিত রাখব"।
সচেতনভাবে মুক্তচিন্তার প্রয়োগ হচ্ছে মুক্তচিন্তন এবং এর সচেতন অনুশীলনকারীরাই মুক্তমনা। বিজ্ঞানের পরীক্ষিত ও প্রামান্য তথ্য এবং যুক্তিবিদ্যার ভিত্তিতে গ্রহনযোগ্য উপাত্ত আর প্রমানযোগ্য যুক্তির আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়া ও সেই সিদ্ধান্তের নিস্পত্তি করতে পারার দক্ষতা হল মুক্তচিন্তা।
নিজ মতামত গঠণের ক্ষেত্রে মুক্তচিন্তার অনুশীলনকারীরা কোন প্রথা, বিশ্বাস, আচার, স্বার্থ বা কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে শুধুমাত্র নির্মোহতা ও নৈর্ব্যাক্তিকতাকে প্রাধান্য দেয় বলেই তারা মুক্তমনা বলে অভিহিত; পক্ষান্তরে অধিকাংশ ধর্মানুসারীর পক্ষে ধর্মমোহ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব হয়না বলেই তারা মুক্তমনা নয়।

---------------------------(৩)------------------------
বাংলাদেশের মত একটি ধর্মাশ্রয়ী পশ্চাৎপদ সমাজ, সাম্প্রদায়িকতা যেখানে গভীরে প্রবিষ্ট এক ব্যাধি, যেখানে ধর্মের বিধি-বিধান, প্রথা ও সংস্কারগুলো আমাদের বেঁধে রেখেছে আষ্টেপৃষ্ঠে, সে সমাজে ধর্মের অসঙ্গতিগুলোই প্রাথমিকভাবে মুক্তচিন্তকদের ধারালো প্রশ্নের আক্রমনে জর্জরিত হবে সেটা অনুমেয়।
কূটকৌশল ও চতুরতার সাথে এই সব প্রশ্নকে লঘুচিত্তের বলে অনেকে এড়িয়ে চলবার চেষ্টা করলেও একবিংশ শতকের এই জ্ঞানভিত্তিক সমাজে সে চেষ্টা বালখিল্যতারই শামিল।
ধর্মপ্রভাবিত রাষ্ট্র ও সরকার তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রগতির প্রতিবন্ধক এই ধ্যানধারণাগুলোকে যতই টিকিয়ে রাখবার চেষ্টা করুক না কেন, ইতিহাস স্বাক্ষী যে সে চেষ্টা চিরকাল বিফলেই গেছে; এমনকি হয়েছে রক্তে রঞ্জিত।
তা রক্ত তো ঝরছেই; একে একে মুছে গেছে অমিত সম্ভাবনাময় সব তরুনেরা; অদম্য, অসাধারন মস্তিষ্কগুলোকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে নিদারুন বর্বরতায়।
স্বাধীনতার পর হতেই রাষ্ট্রীয় মদতে ধর্মান্ধদের নানামুখী আক্রমনের সরাসরি শিকার হন দাউদ হায়দার, হুমায়ূন আজাদ, শামসুর রাহমান, তসলিমা নাসরিন; এবং সাম্প্রতিক কালে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থানের কারনেই সরাসরি খুন হন লেখক রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, অনন্ত বিজয়, ওয়াশিকুর বাবু, নিলয় নীল, প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন, নাজিমুদ্দিন সামাদরা; গুরুতরভাবে আক্রান্ত হন প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল সহ লেখক রণদীপম বসু ও তারেক রহিম।
এবং সরকার আজও, যথারীতি তার মৌলবাদ তোষণের প্রক্রিয়ায়, নানান ছলে সে দায় অস্বীকার করে চলেছে।
----------------------------(৪)-----------------------
ভয়ঙ্কর এই খুনের ঘটনাগুলোর পরও, এটা অত্যন্ত আগ্রহব্যাঞ্জক যে তরুন বাংলাদেশীরা তাঁদের শৈশবে শেখা মতদীক্ষার বিপরীতে যৌক্তিক চিন্তা, তথা মুক্তচিন্তার প্রতি প্রতিনিয়ত আকর্ষিত হচ্ছেন; জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রশ্ন করতে শিখছেন।
আর তাঁরা প্রশ্ন করতে শিখছেন বলেই মুক্তচিন্তায় যাদের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয় সেইসব শেয়ালদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ক্রমশই বাড়ছে; এবং তা এমন এক পর্যায়ে গেছে যে, সরকার প্রধানকেও তা নগ্ন করে তুলেছে; তাকে বাধ্য করেছে মুখোশ খুলে ধর্মান্ধদের পক্ষে নিজ অবস্থান ঘোষণা করতে। তিনি বলেন,
‘কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লেখা কখনো গ্রহণযোগ্য না। আমার ধর্ম আমি পালন করি। আমার ধর্ম সম্পর্কে কেউ যদি নোংরা কথা লেখে, সেটা আমরা কেন বরদাশত করব? এখন একটা ফ্যাশন দাঁড়িয়ে গেছে, ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ কিছু লিখলেই তারা হয়ে গেল মুক্তচিন্তার। আমি তো এখানে মুক্তচিন্তা দেখি না। আমি এখানে দেখি নোংরামি, পর্ন। এত নোংরা নোংরা লেখা কেন লিখবে? যাকে আমি নবী মানি, তাঁর সম্পর্কে নোংরা কথা কেউ যদি লেখে, সেটা কখনো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না। ঠিক তেমনি অন্য ধর্মের যাঁরা আছেন, তাঁদের সম্পর্কে কেউ যদি লেখে, এটাও কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। এই সমস্ত নোংরা কথা, পর্নের কথা কেন লিখবে? আমি তো মনে করি, এটা সম্পূর্ণ নোংরা মনের পরিচয়, বিকৃত মনের পরিচয়। এটা কোনো ধর্ম পালন নয়। এটা সম্পূর্ণ তাদের চরিত্রের দোষ এবং তারা বিকৃত মানসিকতায় ভোগে। এ জন্য তারা এ ধরনের লেখে। আশা করি, এই ধরনের লেখা কেউ লিখবেন না।’
তিনি আরও বলেন,
‘আমি একজন মুসলমান হিসেবে প্রতিনিয়ত আমার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি। সেখানে কেউ যদি লেখে, এতে আমার নিজেরও কষ্ট হয়। আর এই লেখার জন্য কোনো অঘটন ঘটলে দোষ সরকারের ওপর আসবে কেন? সবাইকে সংযমতা নিয়ে চলতে হবে। সবাইকে একটা শালীনতা বজায় রেখে চলতে হবে। অসভ্যতা কেউ করবেন না। অসভ্যতা করলে তার দায়িত্ব কে নেবে? আমরা নেব না।’
যদিও পরবর্তীতে তিনি বেশ ব্যালেন্স করবার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষাতেই,
‘আর মানুষ খুন করার মধ্যে কোনো সমাধান নাই। একজন লিখল, আরেকজন খুন করে সেটার প্রতিশোধ নেবে, এটা তো ইসলাম ধর্ম বলেনি। বিচারের দায়িত্ব আল্লাহ তাদের দেননি। একজন লিখল তাকে খুন করে ফেলতে হবে। এ বিচার তো আল্লাহ তাকে দেননি। এ বিচার আল্লাহ করবেন। আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন, তিনি শেষ বিচার করবেন। তো, আল্লাহর ওপর কি তাদের ভরসা নাই? আল্লাহর ওপর যাদের ভরসা নেই, তারাই এসব খুন-খারাবি করে। কারণ তারা আল্লাহ-রাসুল মানে না।’
-----------------------------(৫)----------------------
এটা স্পষ্ট যে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশের অন্যান্য সকল ক্ষেত্রের মতই মুক্তচিন্তার ক্ষেত্রটিও প্রশস্ত নয়। অথচ মুক্তচিন্তার চর্চার বৈশিস্ট্যই হচ্ছে তার স্বতঃস্ফূর্ততা।
একইসাথে পরিবার, পরিবেশ, ও প্রতিষ্ঠান সহ সকল ধরনের অথোরিটির বিরোধিতা করেই তা বিকশিত হয়। চিন্তার এই স্বাধীনতাকে ধর্মানুভুতির মত খেলো এক আবেগের দোহাই দিয়ে থামানোর চেষ্টাটি মূলত রাষ্ট্রের অসহনশীল চরিত্রের পরিচয়।
তরুন 'মুক্তমনা'দের অনেকের আচরণে দৃষ্টিকটুভাবে বিচক্ষণতার অভাব দেখা যায়, অপরিণত আবেগ দেখা যায়, যা সুবিবেচিত দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
গা-জোয়ারি ভাব যে যুক্তি নয়, সেটাও অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা বুঝতে অসমর্থ! যুক্তির পথ ছেড়ে অস্বীকার, অগ্রাহ্যতা, বর্জন, বিদ্বেষ আর অননুমোদনকেও অনেক সময় এঁরা তর্কের ভিত্তি বলে মেনে চলেন এবং কখনো কখনো ভুলে যান যে, অশিক্ষা থেকে উদ্ভুত সিদ্ধান্ত, কেবল মাত্র কুশিক্ষাকেই লালন করে। সে প্রবণতাটি অবশ্যই বর্জনীয়।
--------------------------(৬)-------------------------
কিন্তু তা বলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মুক্তচিন্তার গোটা চেষ্টাটাকেই নিরুৎসাহিত করবার প্রবণতাটি আরও ক্ষতিকর, আরও ভয়ঙ্কর। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদের অস্বীকার করবার মধ্য দিয়ে সম্প্রতি আরও অরক্ষিত করে তুলবার একটি প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, যাতে সরকারসহ সকল উচ্ছিষ্টভোগী বুদ্ধিজীবীরা শামিল হয়েছেন।
দুর্বিনীত অহংবোধের প্রভাবে শিক্ষাচ্যুত এই বুদ্ধিজীবীদের দলটি অশিক্ষিত না হলেও নিঃসন্দেহে কুশিক্ষিত। মুক্তচিন্তার পথকে উৎসাহিত না করে তাঁরা অবস্থান নেন প্রতিক্রিয়ার পক্ষে।
এঁদের অনেকেই ক্ষুদ্র স্বার্থের কারনে রাজনৈতিক ইসলামের সাথে নৈমিত্তিক ইসলামের ধারনাকে গুলিয়ে ফেলে মৌলবাদীদের মত একই ভাষায় মুক্তচিন্তকদের প্রদর্শিত করছেন ইসলাম বিদ্বেষী হিসেবে।
রাষ্ট্রও সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে ধর্মানুভুতি নামের অলীক এক ধারণাকে প্রশ্রয় দিয়ে, নিত্য নতুন কালো আইন তৈরি করে।
বুদ্ধিজীবীদের এই প্রবণতাটি শঙ্কার, প্রবল শঙ্কার;
কারন সাম্প্রদায়িকতা, ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদের বিরোধিতা ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন অসম্ভব।
প্রচলিত রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা সে পথে হাঁটছে না কারন কর্পোরেট ও আমলাতন্ত্র তা চায়না।
--------------------------(৭)-------------------------
প্রথাকে প্রশ্ন করবার পাশাপাশি আজ মুক্তচিন্তকদের তাই প্রশ্ন তুলতে হচ্ছে বিদ্যমান রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থাটিকে নিয়েও, কারন খোলনোলচে পাল্টে ফেলে সম্পূর্ণ নতুন রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করা ছাড়া দাঁড়াবার আর কোন পথই আজ খোলা নেই।
Believe nothing, question everything and never stop!
এই ধারনায় অভ্যস্ত না হলে জ্ঞানভিত্তিক আগামীর পৃথিবীতে টিকে থাকাই অসম্ভব হয়ে উঠবে।
সংযুক্ত ছবিতে '?' চিহ্নটি সচেতনভাবেই দেওয়া হয়নি! কারন প্রশ্ন করবার অধিকার আজ খর্বিত।


একটি সুস্থ আলোচনার জন্যে সকলে সাদরে আমন্ত্রিত।

AB_Discussion


লিখেছেনঃচার্বাক কাজী।

কৃষ্ণ লীলা কাহিনি এবং হিন্দু ধর্মের কিছু কথা

রাধা কৃষ্ণের লীলা নিয়ে সবাই জানি তবে এর পৌরাণিক আক্ষাণ বেশ মজার। রাধা কৃষ্ণ নিয়ে পড়ছিলাম. ভাবলাম আপনাদের মাঝে শেয়ার করি বিষয় গুলো
হিন্দু দেবতা কৃষ্ণ ভগবান
 ছবি: শ্রীকৃষ্ণ 


পদ্মপুরাণ এবং ভগবতের মতেঃ-  


গোলকধামে কৃষ্ণের বামপাশ হতে রাধার উৎপত্তি  হয়েছিল। জন্মের পর পরই ইনি কৃষ্ণের আরাধনা শুরু করেন। ইনি উৎপত্তিকালে ১৬ বৎসরের নব-যৌবনারূপে কৃষ্ণের সিংহাসনের বামপাশে অবস্থান নেন। এই সময় রাধার লোমকূপ হতে লক্ষকোটি গোপিকা ও কৃষ্ণের লোমকূপ থেকে লক্ষকোটি গোপের জন্ম হয়।


ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের মতে:-





একবার বিষ্ণু রম্যবনে প্রবেশ করে রমণ ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ফলে কৃষ্ণের ডান অংশ থেকে কৃষ্ণমূর্তি ও বাম অংশ থেকে রাধা মূর্তি প্রকাশ পায়। রাধা কৃষ্ণকে কামাতুর দেখে তাঁর দিকে অগ্রসর হন। রা অর্থ লাভ এবং ধা অর্থ ধাবমান। ইনি অগ্রসর হয়ে কৃষ্ণকে লাভ করেছিলেন বলে- এঁর নাম হয়েছিল রাধা।

একবার কৃষ্ণ রাধার অজ্ঞাতে বিরজা নামক এক গোপীর সাথে মিলিত হন। দূতীদের মুখে রাধা এই সংবাদ পেয়ে অনুসন্ধানের জন্য অগ্রসর হলে- সুদামা কৃষ্ণকে উক্ত সংবাদ দেন। কৃষ্ণ এই সংবাদ পেয়ে বিরজাকে ত্যাগ করে অন্তর্হিত হন। বিরজা এই দুখে প্রাণত্যাগ করে নদীরূপে প্রবাহিত হন। রাধা পরে কৃষ্ণের দেখা পেয়ে তাঁকে তীব্রভাবে ভৎর্‍সনাকরলে- সুদামা তা সহ্য করতে না পেরে-রাধাকে তিরস্কার করেন। রাধা এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সুদামাকে অসুর হয়ে জন্মনোর অভিশাপ দেন। সুদামাও ক্ষুব্ধ হয়ে রাধাকে গোপী হয়ে পৃথিবীতে জন্মানোর অভিশাপ দিয়ে বলেন যে- সহস্র বছর কৃষ্ণবিরহ যন্ত্রণা ভোগ করার পর তিনি পৃথিবীতে কৃষ্ণের সাথে মিলিত হবেন।

রাধা'কে সকল গোপীদের মধ্য সর্বপ্রধানা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। মূলতঃ বৃন্দাবন লীলা রাধাকে কেন্দ্র করে উঠা উপাখ্যান মাত্র। বৃন্দাবনে রাধা ছিলেন কৃষ্ণের চেয়ে বড়।প্রথমাবস্থায় কৃষ্ণ রাধাকে পাবার জন্য বিবিধ ছলের আশ্রয় নেন। পরে উভয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই সম্পর্ক উন্নয়নে যে সকল কাহিনী পাওয়া যায়- তা হলো-কৃষ্ণের সাথে রাধা সহ অন্যান্য গোপিনীদের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গোপীরা কৃষ্ণকে স্বামী হিসাবে পাবার জন্য একমাসের কাত্যায়ন ব্রত করেন। এই এক মাস গোপীরা দলবদ্ধভাবে যমুনা নদীতে এসে এক সাথে স্নান করতো। এই সময় গোপীরা সকল বস্ত্র নদীর পারে রেখে উলঙ্গ অবস্থায় নদীতে স্নান করতে নামতো। কৃষ্ণ এই ব্রতের শেষ দিনে গোপীদের অনুসরণ করে নদীর পারে আসেন। গোপীরা বস্ত্র ত্যাগ করে নদীতে নামলে কৃষ্ণ পরিত্যাক্ত বস্ত্রগুলি অপহরণ করেন। এরপর কৃষ্ণের কাছে গোপীরা নিজেদের সমর্পণ করে বস্ত্র সংগ্রহ করলেন। এরপর গোপীরা গৃহত্যাগ করে কৃষ্ণের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য কুঞ্জবনে আসে। এবং সেখানে গোপীরা ঈশ্বর জ্ঞানে তাঁর সাথে মিলিত হয়। কথিত আছে কৃষ্ণ নিজেকে গোপীদের মাঝে ছড়িয়ে দেন। ফলে প্রতি গোপীই একই সময়ে কৃষ্ণের সান্নিধ্য পান। কংসবধের জন্য কৃষ্ণ বৃন্দাবন পরিত্যাগ করেন।

কালা না দিল যে ধরা
 বুকের মাঝে আসি
 যৌবন রস শুকায় যায়

ফুলের গন্ধ বাসী

যমুনার কুলে কালা

দেখা দিয়ে গেল

আসি আসি বলে শুধু

আর না যে আসিল

মনে যদি এই থাকে তোর

কালা যক্ষ ধন

আশায় আশায় বসে থাকব

এই করেছি পন।।

শ্রীকৃষ্ণ  
মোটেও ভালো ও সভ্য ছিলেন না। রাধার দিক
দিয়ে বিবেচনা করতে গেলে শ্রীকৃষ্ণকে
একজন ধর্ষকই বলা যায়। যতটুকু জানি, রাধা যখন তাঁর
কাপড় চোপড় পাড়ে রেখে স্নান করতে
যেতেন, কৃষ্ণ তখন কাপড়গুলো সরিয়ে লুকিয়ে
রাখতেন। রাধা তখন দুহাতে তার স্তন ঢেকে নগ্ন
শরীরে এসে খুব করুনভাবে কৃষ্ণের কাছে
মিনতি করতেন, তার কাপড়গুলো দেয়ার জন্য। কৃষ্ণ
রাধার কাপড় দিতেন ঠিকই, তবে এমনি এমনি না। তিনি
লীলার (বোঝেন তো লীলা মানে কি?)
বিনিময়ে কাপড় চোপড় ফেরত দিতেন। কৃষ্ণ শুধু
রাধার কাপড় লুকিয়ে রেখে রাধাকে একভাবে
ধর্ষন করতেন না। আরো অন্যভাবেও করতেন।
রাধা দধির ভাণ্ড বাজারে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে
ভাণ্ড রেখে একটু কোথায় গেলে, সেই দধির
ভাণ্ড গাছের উপর লুকিয়ে রাখতেন কৃষ্ণজী।
এবার রাধা যায় কোথায়? রাধাকে বাধ্য ও নিরুপায় হয়ে
কৃষ্ণকে কাম দিতে হতো! এখনকার সভ্য ও
মানবিক ছেলেরা কোনো মেয়ের দুর্বলতার
সুযোগ নিয়ে এমন নির্লজ্জ কাজ করবে বলে
আমার মনে হয়না।
দশরথের পুত্র অযোধ্যার রাজা রামচন্দ্র দেব
আমার দৃষ্টিতে মোটেও ভালো নয়। তার ভাই
লক্ষন ছিল ভেড়ার মতো। পুরো
আত্নসম্মানহীন। সারাদিন বৌদির (সীতার) পিছনে
ঘুরে বেড়াত। তিনি মেঘনাথকে মেরেছিল
চোরের মতো চুরি করে। যাকগে সেই কথা।
সেটা আমার আলোচ্য বিষয় নয়। আমি চিন্তার করি
অবতার ( অনেক হিন্দুদের মুখে রামকে অবতার
বলতে শুনেছি, কারো মুখে শুনেছি রাম স্বয়ন
ভগবান!) রামচন্দ্র দেবের কথা। তিনি কতোখানি নিচু
মনের ছিলেন। লংকার রাজা রাবনকে হত্যা করার পর
সীতাকে যখন তিনি উদ্ধার করেন, তারপর
সীতাকে তিনি সন্দেহ করেন! সীতার
সতীর্ত্ব ঠিক আছে তো? মানে রাক্ষুস রাবন
সীতার সাথে ফষ্টিনষ্টি কিছু করেনি তো? রামের
সন্দেহ দুর হয় না। তিনি রাজ সভায় সীতার
সতীর্ত্বের পরীক্ষা নেবেন। যেহেতু
সীতা কিছুদিন রাবনের কাছে বন্দী ছিলেন।
আচ্ছা এখানে কথা হল, হিন্দুরা রামকে ঠিক কোন
দিক থেকে ভগবান-অবতার-নারায়ন মানে? রাম যদি
ভগবানই হন, তাহলে তো তার অন্তর্যামী হবার
কথা। তার সবকিছু জানার কথা। তার তো জানার কথা
যে, সীতাকে রাবন আদৌ..... করেছে কিনা?
এখানে সবার সামনে সীতার সতীর্ত্ব
পরীক্ষারই বা দরকার কি ছিল? আজ থেকে হাজার
হাজার বছর আগে যখন একজন নারীকে সবার
সামনে সতীর্ত্বের পরীক্ষা (তাও আবার
একজন রাজার বউ) দিতে বলা হয়, তখন সেই
নারীর কাছে এরচেয়ে লজ্জাকর আর কিই বা
থাকতে পারে? সীতা আর লজ্জায় থাকতে না
পেরে তখন মাটি ফাঁক করে পাতালে ঢুকে
গেলেন! সবাই রাম রাম করতে লাগল, রাম মহান, রাম
ভালো, রাম আরো কতো কিছু। আমি সেই
দৃষ্টিকোন থেকেই বলছি, অযোধ্যার রাজা
রামচন্দ্রদেব মোটেও উদার ও মহান ছিলেন না।
তিনি খুব নিচু ও ইতর টাইপের ছিলেন। অথচ যে
সীতা সবকিছুকে পেছনে ফেলে
পতিদেবের হাত ধরে বনবাসে চলে এসেছে,
কিছুদিন রাবণের কাছে বন্দী থাকায় সেই সীতার
সতীর্ত্ব চলে গেল? আমি বলব রাম এটা সীতার
উপর রীতিমত অবিচার করেছে। বিশ্বাসঘাতকতা
করেছে।
গীতাকে হিন্দুরা তাঁদের মহান ধর্মগ্রন্থ বলেই
জানে। এই গীতা হল শ্রীকৃষ্ণের মুখ-নিসৃত
বাণী। যারা গীতাপাঠ শুনবে, তাদের জন্য নাকি
অনকে মঙ্গল হয়। গীতাপাঠ শুনলে পাপীও নাকি
পুণ্য হয়ে যায়। হিন্দুদের বিভিন্ন ধর্মীয়
অনুষ্টানে সংস্কৃত গীতা পাঠ হয়। একবার আমি
দেখেছিলাম বড় মামা যখন মারা গিয়েছিলেন, তখন
উঠানে মৃত মামার বুকের উপর গীতা রেখে সবাই
গোল হয়ে বসে কান্নাকাটি করছিল। আমার মামাতো
বোন কেঁদে কেঁদে চোখের পানি মুছে
মুছে গীতা পড়ছে। মরার বুকের উপর গীতা
রাখলে আর পড়লে এতে নাকি মামা স্বর্গলাভ
করবে। সেদিন আমি শুধু চুপ করে শোকার্ত
নির্বোধদের কান্ড দেখেছিলাম। আমি বুঝিনা
গীতা কি করে মহান গ্রন্থ হয়? যে অর্জুন
কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ করে, একশত জেটুতো
ভাইদের হত্যা করে রাজ্য দখল করার জন্য রাজি
হচ্ছিল না, সেখানে শ্রীকৃষ্ণই তো নানা রকম
বয়ান দিয়ে অর্জুনকে যুদ্ধ করার জন্য রাজি
করিয়েছিলেন। আর সেই বয়ানই হল মহান
ধর্মগ্রন্থ গীতা! এখানে গীতা কোন দিক দিয়ে
মহান হয়? অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে বলেছিলেন, আমি
এতোগুলো ভ্রাতাদের মেরে এই রাজ্য লাভ
করতে পারব না। ভ্রাতৃগনকে মেরে এই রাজ্য
আমার চাইনা। তখন কৃষ্ণ ডাইলগ মারলেন, এই যুদ্ধ
ধর্মযুদ্ধ, অধর্মকে বিনাশ করার জন্য তোমার এই
যুদ্ধ করতেই হবে। অধর্মকে বিনাশ করার জন্য
আমি এই পৃথিবীতে যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
ওদেরকে আমিই মেরে রেখেছি। তুমি নিমিত্ত
মাত্র। পৃথিবীতে এমন কোন সৃষ্টি নাই যা আমি
সৃষ্টি করিনি। ভাল কথা, কৃষ্ণ যদি সবকিছু সৃষ্টি করেই
থাকেন, তাহলে দুঃশাসন-দুর্যোধনের মতো
অসভ্যদের সৃষ্টি করলেন কেন? এই
দুর্যোধনের বিশ্বাসঘাতকতার কারনেই তো
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সৃষ্টি। দুঃশাসনের নোংরামির
(দ্রৌপদির বস্ত্র হরন) কারণেই তো দ্রৌপদি চুল (তিনি
পন করেছিলেন দুঃশাসনের বুকের রক্ত দিয়ে
যেদিন স্নান করবেন, সেদিন চুল বাঁধবেন) খোলা
রাখার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। পরে যুদ্ধে
অর্জুনের ভাই ভীম ঠিকই দুঃশাসনের বুক চিরে
দুভাগ করে হত্যা করে ছিলেন। আর দ্রোপদি
সেই রক্ত চুলে মেখেছিলেন। হিংস্রতা কত
প্রকার ও কি কি তা এই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পাওয়া
যায়। মহাভারতের অধিকাংশ কাহিনীজুড়ে রয়েছে
যুদ্ধ আর যুদ্ধ। তাদের মধ্যে কতটুকু মানবিক
অবক্ষয় হলে এমন হিংস্র যুদ্ধ করতে পারে?
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ হল মানবিক অবক্ষয়ের চরম
নিদর্শন! রামায়ন, গীতা, মহাভারত, এসব যুদ্ধবাজ
গ্রন্থগুলো বর্তমান মানব সভ্যতাকে অগ্রগতি
করবে বলে মনে হয় না। এগুলো এখন
অনুপোযোগী গ্রন্থ।

লিখেছেনঃরামভক্ত নিমাই

কল্পিত অনুভূতি এবং একটি নাটক


কল্পিত আল্লার হুকুমে মানহানী মামলা হচ্ছে মানবিক আদালতে কল্পিত আল্লার পক্ষে।


সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি মামলা হয়েছে একজন নারী বাউল শিল্পীর বিরুদ্ধে। উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তিনি কোন একটি পালা গানের বয়ান দিতে গিয়ে ইসলাম ধর্মের গড, আল্লাকে শয়তান বলেছেন।
উনার কথায় প্রচুর যুক্তি আছে। সেটি ভিন্ন তর্কের বিষয়। কিন্তু বিষয়টি ৯৫% মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশের ধর্মানুভুতিতে আঘাত লেগেছে এবং একজন কুখ্যাত নাট্যকর্মী স্বপ্রনোদিত হয়ে মামলা করেছেন।
একজন বাউল শিল্পী
ছবি:রিতা দেওয়ান ক্ষমা চাচ্ছেন 


সেই মামলার ঘটনা নিয়েই আমার এই দুই পর্বের আলোচনা।
এই মামলার বিবাদী একজন নারী বাউল শিল্পী এবং তার ধর্ম মতে সে তার কল্পিত আল্লার বান্দা, বাদীও সেই একই আল্লার বান্দা। বিবাদীর অপরাধ হলো তিনি তার কল্পিত আল্লার হুকুমে তার কল্পিত আল্লাকে কল্পিত শয়তান বলেছেন। এখানে আল্লা এবং শয়তান দুজনই কল্পিত চরিত্র। এদের দুজনার কোন বাস্তব অস্তিত্ব নাই।
বিবাদী যা কিছু করেন তাও তার কল্পিত আল্লার বিধানের বিপরীত হলেও তিনি মানুষকে বাউল গানের মাধ্যমে সেই কল্পিত ধর্মের আধ্যাত্মিক জ্ঞান বিতরন করেন।

বাদী একজন নাট্যকর্মী। তিনি যা কিছু করেন সবই তার কল্পিত আল্লার বানানো বিধানের বিপরীত হলেও তিনি তার কল্পিত আল্লার কোন অপমান হোক তা চাননা। তাই তিনি তার কল্পিত আল্লাকে কল্পিত শয়তান বলায় তিনি ক্ষেপে গিয়ে মামলা করেছেন কল্পিত আল্লারই হুকুমে কিন্তু যেহেতু কল্পিত আল্লার কোন ক্ষমতা নাই তাই তিনি মানবিক আদালতের দারস্থ হয়েছেন তার কল্পিত আল্লার মান-সন্মান রক্ষার জন্য।
মহাবিশ্বের কল্পিত সৃষ্টিকর্তা এতটাই কাল্পনিক আর অলিক চরিত্র যে সে নিজে বাদী হয়ে নিজের মান সন্মান রাখতে অপারগ।
মামলার বাদীও এতটা মুর্খ যে সে তার কল্পিত আল্লার কোন লিখিত অভিযোগ ছাড়াই নিজের মত করে কল্পিত অপমানবোধের একটি মামলা সাজিয়েছেন। অথচ তার কল্পিত আল্লা আসলেই অপমানিত হয়েছেন কিনা তার কোন বাস্তব প্রমান তার কাছে নাই।
মামলাটি বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে আমার কাছে। এখন আদালত যদি বাদীকে বলে যে, আপনি যার পক্ষে মামলা করছেন সেকি আপনাকে মামলা করার কোন পাওয়ার অফ এটর্নি দিয়েছেন? দিয়ে থাকলে তার প্রমান আদালতে দাখিল করুন। তখন সে কি প্রমান দাখিল করবে? আদৌ তারা এই প্রশ্নটি করবে কিনা আমি জানিনা তবে করা উচিৎ। যেহেতু বিচারকবৃন্দও সেই কল্পিত আল্লায় বিশ্বাসী তাই মনে হয় এমন প্রশ্ন করে বিচারক নিজেও বিপদে পরতে চাইবেনা বলে আমার মনে হয়।
আদালত যেহেতু পরিচালিত হয় প্রমানের ভিত্তিতে তাই এমন প্রমান চাওয়াটা স্বাভাবিক।

এবার আসা যাক বিচারকদের বিষয়ে।
বিচারক আবার সেই একই বাদী এবং বিবাদীর কল্পিত আল্লায় বিশ্বাসী বিচারক। সেও আবার ন্যায় বিচার করবে তার একই কল্পিত আল্লার হুকুমে যেই কল্পিত আল্লা অপমানিত হয়েছেন তার অলীক অস্তিত্বে বিশ্বাসী দ্বারা এবং মামলাও করেছে আরেকজন অলীক অস্তিত্বে বিশ্বাসী।
এখানে বাদী, বিবাদী, বিচারক সবাই একই কাল্পনিক আল্লার অলীক অস্তিত্বে বিশ্বাসী।
এই মামলায় কল্পিত আল্লার অপমানের মাত্রা, মামলার রায়ে তাকে খুশি করার মাত্রা এবং ন্যায় বিচারের মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভপ শুধু মাত্র কল্পনায় এবং এটা বাস্তবিক আইনের কোন যুক্তির মাপকাঠিতে নির্ধারন করা সম্ভব না।

আমার কাছে অবাক লাগে কি করে একটি দেশের সর্বোচ্চ আদালত এমন একটা মামলা নিতে পারে যে মামলাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রটির কোন বাস্তবিক অস্তিত্বই নাই। এই রকম অবাস্তব অলীক চরিত্রের অপমান নিয়ে যদি মামলাবাজী করার ট্রেন্ড চালু হয় তাহলে আদালত ভবিষ্যতে একটি হাস্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে।
কারন এরপর একজন এসে বলবে যে " কুূদ্দুস বেপারী ঘোড়ার ডিমকে অপমান করেছে "। একজন বলবে " জয়নাল হাট্টিমাটিম টিম টিম কে অপমান করেছে। " হরিপদ কালকে আদালতে এসে সুনীলের নামে মামলা ঠুকবে যে সে নাকি " রাম গরুরের ছানা " কে ব্যাপক অপমান করেছে।
বিনয় কুমার বড়ুয়া আগামীতে মামলা করবে এই বলে যে " টম " কে মলয় কুমার " জেরী " বলে অপমান করেছে।
এইরকম হাজার হাজার কাল্পনিক চরিত্র সমাজে বিদ্যমান এবং সবাই একজন মানুষ আরেকজনার নামে কাল্পনিক চরিত্রের অবমাননার মামলা করবে যা একটি সুস্থ জাতির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারের মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে হাস্যকর করে তুলবে।
আজকের ডিজিটালাইজেশনের যুগে এসে মানুষের চিন্তা চেতনা কতটা নিন্মগামী হলেই শুধুমাত্র কল্পিত চরিত্রের অপমান নিয়া মামলা করে তারও একটি জলন্ত উদাহরণ হলো এই নাট্যকর্মীর মামলা।

এই মামলাটি প্রমান করে যে আল্লা নামক চরিত্রটি একটি কাল্পনিক ভুয়া চরিত্র যার বাস্তব কোন অস্তিত্ব নাই। যদি অস্তিত্ব থাকতো তাহলে সে নিজেই মানহানী মামলা করতো বা নিজেই বিচার করতো। মানুষের মাধ্যমে মামলা করে মানবিক আদালতের দারস্থ হওয়া আল্লা কোন বাস্তবিক চরিত্র নয়। আবার এমনই আদালতের দারস্থ হয়েছে যেই আদালতের বিচার প্রক্রিয়া সেই কল্পিত আল্লার কল্পিত ধর্মের বিধানের বিচার পরিপন্থী। এতেও একবার স্পষ্টভাবে প্রমানিত হয় যে এই কল্পিত আল্লা একটি আরবীয় রুপকথার চরিত্র।

মামলার আরেকটি নিয়ম হলো সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি। কিন্তু সেটাও যদি এখন করা হয় তাও যদি সেই কল্পিত আল্লার হুকুমে বাদী এবং বিবাদির মাঝে হয় তাতেও সে কল্পিত আল্লা ভুয়া প্রমানিত হয়।
একটি ভুয়া রুপকথার চরিত্রের জন্য মানহানী মামলা গ্রহন যোগ্য কিনা সেটাই এখন দেখবার বিষয়।

এবার দেখি কোরান কি বলে -
সুরা ইখলাসের মাধ্যমে জানতে পারি যে তিনি অমুখাপেক্ষী।

আল্লাহ্ কাহারও মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁহার মুখাপেক্ষী - ১১২ঃ ২

এই যদি হয় মোহাম্মদের মুখ নিসৃত কোরানের কল্পিত আল্লার নিজের কথা তাহলে কোন কারনে বাদী এই মামলাটি করেছেন তার কল্পিত আল্লার কথাকে অবমাননা করে?
তাহলে কি এটা ধরে নেওয়া যায় যে যেই আল্লা তার বানী দিতে মোহাম্মদের মুখ বেছে নিয়েছেন এবং সেই আল্লা বিবাদীকে সাহস দিয়েছেন তাকে গালি দিতে এবং সেই একই আল্লা বাদীকে প্ররোচনা দিয়েছেন মামলা করতে এবং বিচারকদের বলেছেন মামলার বিচার করতে, আসলে সে কোন শ্রষ্টা নয় বরং চরিত্র চিত্রায়নের ত্রুটি জনিত একটি কাল্পনিক এবং ভুয়া স্বত্বা।
পুরো প্রক্রিয়ায়  কোথাও বাস্তবে যাকে পাওয়া যায়না।

কল্পিত আল্লার হুকুমে মানহানী মামলা হচ্ছে মানবিক আদালতে কল্পিত আল্লার পক্ষে।

প্রশ্ন হলো আল্লা কার পক্ষ অবলম্বল করবে বাদীর, বিবাদীর নাকি বিচারকের?
আল্লাহ কি শুধু বাদীর সৃষ্টিকর্তা না যে গালি দিচ্ছে তারও সৃষ্টিকর্তা??? যদি সে সবার সৃষ্টিকর্তা হয় তাহলে যিনি তার আল্লাকে গালি দিয়েছেন তিনি বুঝবেন। তার সৃষ্টিকর্তারে যা খুশি তাই বলুক। তাতে বাদীর মামলা করার কোন অধিকার আছে কি?
আমার মা বাবাকে যদি কেউ গালি দেয় তাহলে আমার খারাপ লাগবে কারন তাদের অস্তিত্ব আছে।
কিন্তু অস্তিত্বহীন বাবা মাকে গালি দিলে আমার লাগার কোন কারন নাই। আল্লারে গালি দিলে সকল মুমিনের লাগে কারন তাদের বাপ মায়ের স্থানে একটি অলিক চরিত্রকে বিশ্বাস করে।
বিশ্বাসীদের আরেকটি সমস্যা হলো অলিক রুপকথার অনুভুতি। এই মিথ্যা অনুভুতি তৈরী হয় মুলত দীর্ঘ সময়ের মুর্খতা জনিত কারনে।
আজকের দুনিয়ার মুমিনদের কাছে ইসলামের ধর্মীয় অনুভুতি হলো ইসলামের ষষ্ঠ স্তম্ভ।

মুমিনের আল্লা প্রীতি  থেকে তৈরী অনুভুতি হলো একধরনের হস্তমৈথুনের মত যাকে কল্পনা করে কাজটি করা হচ্ছে তার কোন কিছু আসে যায়না কারন তার কোন অস্তিত্ব নাই।

আসল কথা হলো ইসলাম ধর্মানুযায়ী আল্লার অবমাননার জন্য বিচারের ভার কোন মানুষের কাছে ন্যাস্ত করা হয়নি। এমন কোন কোরানের আয়াত বা হাদীস পাওয়া যায়নি যে সেটা দ্বারা আল্লার অবমাননার বিচার কোন মানুষ করতে পারবে৷
ইসলাম ধর্মানুযায়ী কল্পিত আল্লা " মহাবিশ্বের শ্রষ্টা, এক ও অদ্বিতীয়, মহাপরাক্রমশালী, মহাক্ষমতাশালী, মহাশক্তিশালী, মহাজ্ঞানী, অন্তর্যামী, মহাহুকুমদাতা, বিচার দিবসের মালিক, ন্যায়বিচারক, যার হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়েনা "। আজকে সেই আল্লার অপমানের বিচার করবে তারই তৈরী মানুষ এবং মানবিক আদালতে যা তার বিচার প্রকৃয়ার বিপরীত। আর এতেও আরেকবার প্রমানিত হয় যে সে হলো মানুষের তৈরী রুপকথার চরিত্র, আসলে তার কোন কিছু করবার ক্ষমতা নাই এবং এই আল্লা একটি মিথ্যা বানোয়াট শব্দ মাত্র। আর এই ভুয়া আল্লাকে চিনবার জন্য সাহায্য করেছে দুজন তার একজন এই মামলার বাদী এবং বিবাদী মহিলা বাউল শিল্পী।

বিচার প্রক্রিয়ার দুটো সাইট আছে যেমন - আমি যদি আল্লাকে ভাল বানানোর জন্য বিচার করতে পারি তাহলে আলার কোন দুষ্ট কর্মের জন্য তার বিরুদ্ধে বিচার করারও অধিকার রাখি এবং এটাই আইনের ইকুটির ধারনা। কিন্তু যিনি বিচার প্রত্যাশী সে সব সময় ভাল এবং তার কোন খারাপ গুন নাই এমন বিচার মুলত বিচার ব্যবস্থা রিতী বিরুদ্ধ।

বাদী যদি তার কাল্পনিক আল্লাকে অপমান করবার জন্য আদালতের দারস্থ হয় তাহলে বিবাদীও সমান অধিকার রাখে একই আদালতে আল্লার বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য। তা নাহলে এটি একটি ভন্ডামী।
আল্লায় কেন শয়তান তৈরী করে তাকে ধোঁকা দিচ্ছে এই অভিযোগে সে আল্লার বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার রাখে। ঠিক তার উল্টো পিঠে তার অভিযোগ খন্ডনের জন্য আরেকদল মামলা করবার অধিকার রখে। তবেই না কাল্পনিক আল্লাকে ঠিক মত কাঠগড়া দাঁড় করানো যায়৷ নাহলে এই মিথ্যা অনুভুতির মামলাটি আইনের মুল ধারনা পরিপন্থী।

পরিশেষে ধন্যবাদ দিতে চাই এই বাদী এবং বিবাদী দুজনকে যারা চোখে আঙ্গুল দিয়ে কোটি কোটি মানুষকে বাস্তবে প্রমান করে দিলেন যে আল্লা একটি ভুয়া স্বত্বা এবং তার অপমানের মামলাটিও আসলে ভুয়া।

লিখেছেন:তোঁতলা মুসা।

ধর্ম বিষয়ে আমার প্রশ্নগুলো ষষ্ঠ পর্ব

আমার ১৬তম প্রশ্ন..


ক)   একজন ধর্ম প্রচারকের লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে বলা কথাগুলোকে কি আমরা কখনো যাচাই করে দেখি?

খ)   একজন ধর্ম প্রচারক যদি জেনেশুনে জনতার সাথে মিথ্যা কথা বলেন উনার সাথে কি করা উচিত?



নীচের ভিডিও ক্লিপটিতে বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় আলেম/ ওয়াজী/ ইসলাম প্রচারক জনগনের সামনে কিছু বিজ্ঞান এবং ইসলাম বিষয়ক বক্তৃতা দিয়েছেন।



ভিডিওটির প্রথম দুই মিনিটে উনি নাসার Space Center Houston ঘুরে দেখে উনার কিছু অভিজ্ঞতার কথা বর্ননা দিয়েছেন।

উনার বর্ননা থেকে আমি পাঁচটা পয়েন্ট ভুল জানতে পেরেছি। যদি আমার জানা ভুল হয় আপনারা শুধরে দিবেন। কসম, খুশিমনে মেনে নিবো।

আর যদি ঐ আলেমের জেনেশুনে বলা কথাগুলো ভুল এবং মিথ্যা হয় উনার মতো মানুষদের কি করা উচিত তার দায়িত্ব আপনাদের উপর রইলো।


1.উনি Houston কে স্টেট/ অঙ্গরাজ্য বলেছে এটা একটা ভুল কথা। Houston হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের Texas স্টেট/ অঙ্গরাজ্যের একটা শহর। যাইহোক ধরে নিলাম এটা বলার ভুল। আমাদেরও এরকম হয়ে থাকে।


2.উনি বলেছেন যে "গাড়ীতে" করে চাঁদে নীল আর্মষ্ট্রং নেমেছিলেন সেটা নাকি Houston এ আছে। কিন্তু আমি যেটা জেনেছি-
Apollo11 নামক spaceflight এ করে নীল আর্মষ্ট্রং চাঁদে সফর করেছিলেন। এবং Apollo 11 এর lunar module এর নাম হচ্ছে Eagle - যেটা দিয়ে উনি চাঁদে নেমেছেন। চাঁদে কাজ শেষে ওটা দিয়ে কমান্ড মডিউলে উঠে eagle কে ওখানেই ফেলে দিয়ে এসেছিলেন যেটা পরে চাঁদে ক্র্যাশ করেছে বলে ধারণা করা হয়।

যেটা দিয়ে পৃথিবীতে ফেরত এসেছে সেটার নাম Columbia এবং সেটা কোনোদিন চাঁদে নামে নাই এবং ওটা ১৯৭১ সাল থেকে Smithsonian Institute Museum, Washington DC তে আছে। যদিও exhibition এ নাই এখন।

তাহলে জনাব আলেম সাহেব  Houston এ কোন চান্দের গাড়ী দেখতে পেয়েছেন আমার প্রশ্ন।


3.বিশিষ্ট আলেম সাহেব বলেছেন নীল আর্মস্ট্রং এর "চাঁদের পোশাক" টা নাকি Space Center Houston এ আছে এবং তিনি তা দেখেছেন।

কিন্তু নীল আর্মস্ট্রং এর পোষাকটিও( spacesuit) Houston এ নয় বরং ওয়াশিংটনের ডিসির  Smithsonian Institute Museum এ আছে। এমন কি ওটা এখন ডিসপ্লে তে আছে, কেউ চাইলে দেখতে পারবে।

4.বিশ্রী একটা মিথ্যা কথা।
আলেম সাহেব বলেছেন Houston এ যে জায়গা থেকে নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে গিয়েছেন ঐ জায়গাটা উনি দেখেছেন।

কিন্তু নীল আর্মষ্ট্রং তো Houston থেকে নয় Apollo11 এ করে Florida/ফ্লোরিডা থেকে চাঁদে গিয়েছে। Florida যুক্তরাষ্টের অন্য একটু অঙ্গরাজ্য যা Houston থেকে শুধুমাত্র ১২০০মাইল দুরে।

তাহলে আলেম সাহেক কেমনে কি দেখলেন?
কি দেখলেন আর মানুষকে কি বুঝালেন?
মিথ্যা কথা বলার একটা সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার সময় এসে গেছে।

5.এবং এটাই সবচেয়ে জঘন্য মিথ্যা কথা।
উনি বলেছেন নীল আর্মষ্ট্রং নাকি চাঁদে গিয়ে আযানের শব্দ শুনেছেন। এবং সেটা একটা বিশাল তামার প্লেটে নাসার Space Center Houston এ লিখা ছিলো।

কিন্তু এরকম কোন আওয়াজের কথা নীল আর্মস্ট্রং কখনো কোথাও উল্লেখ করেন নি কারন এটা চন্দ্রপৃষ্ঠে সম্ভব না। তাই উনি যদি আওয়াজ ই না শুনেন তাহলে ঐ তামার প্লেট কোথা থেকে আসলো ব্যাপারটা সত্যি বেশ রহস্যময়।

আলেম সাহেব কথাগুলো বলার সময় হয়তো ভাবেন নি আমাদের মতো দুই পয়সার কমজ্ঞানী মানুষজন একসময় উনার মুল্যবান বক্তব্যগুলোর পোষ্টমর্টামে নামবে।

যাইহোক এই ধরনের মিথ্যা কথা বলার পরও এক শ্রেনীর মানুষ উক্ত আলেমদের অন্ধের মতো অনুসরণ করেন। করুক যার মন চায়, আমার সমবেদনা দেওয়া ব্যতীত আর কিছু করার নেই।

   শুধু এতটুকু বলবো যে কোন বক্তা( পাবলিক ফিগার) যখন কিছু বলবে মাঝেমাঝে ওগুলো একটু যাচাই করে দেখবেন। মিথ্যা কথা এবং মিথ্যুক মানুষককে গেলার কোন মানে হয়না।

 ও হ্যাঁ আরেকজন আলেম/ স্কলার তো এক অবিশ্বাস্য, অসাধারণ তথ্য দিয়ে ধন্য করেছেন পুরো মানবজাতিকে। পৃথিবীতে এটাই সবচেয়ে বৃহ্ৎ আবিস্কার-

পৃথিবীতে সাতটি মহাদেশের বাইরেও ‘এন্টারকটিক’ নামক একটি মহাদেশ আছে। 

আমার ১৭তম প্রশ্ন.....


ক) বাংলাদেশে যদি শরীয়া আইন কায়েম থাকতো তাহলে একজন নারী কি কখনো প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন কিংবা হতে দিতো?

খ) শরীয়া আইনে কি একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে প্রধানমন্ত্রী/ প্রেসিডিন্ট বানানো যাবে?

খ) শরীয়া আইনে কি একজন অমুসলিমকে প্রেসিডেন্ট/ প্রধানমন্ত্রী বানাতে দিবে?

বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

দুজন নারী দীর্ঘ সময় এই দেশকে  পরিচালনা করেছেন।
বাংলাদেশের দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী

  কিন্তু এই দেশে যদি শরীয়া আইন থাকতো কখনো কি উনাদেরকে কিংবা যে কোন নারীকে প্রধানমন্ত্রী হতে দিতো? না দিতো না। কারন নারী নেতৃত্ব যে হারাম।
নারীর হাজার ক্ষমতা থাকলেও কখনো কোন কিছুতে নেতা হতে পারবেনা।

যদিও হেফাজত ইসলাম দলটি তাদের নেতা আহমেদ শফী হুজুরের নেতৃত্বে শরীয়া আইন ভেঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানে একজন নারীর নেতৃত্ব মেনে নিয়েছেন।
( অনেক অনেক ধন্যবাদ হুজুর, ইউ আর ভেরী মিষ্টি!  জাস্ট লাইক মধু! )

এবং মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মানে আরেক নারীর নেতৃত্ব মেনে নিয়েছিলেন। ওয়াও!
( হি ইজ মিষ্টি too! জাস্ট লাইক লজেন্স!)

তবু অলিগলির অকামা হুজুরেরা চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে বলবেন শফী আর সাঈদী কি ইসলামের মাপকাঠি নাকি।
ইসলাম চলে কোরান এবং হাদীসে।
ইসলামিক শরীয়া আইনে নারী নেতৃত্ব পুরোপুরি হারাম।
হোক না একজন নারী যতই মেধাবী এবং যোগ্য।

নারীরা তো অক্ষম, অযোগ্য বুঝলাম কিন্তু দেশ পরিচালনার ১০০% ট্যালেন্ট থাকলেও যতদুর জেনেছি একজন অমুসলিম পুরুষকেও শরীয়া আইনে নেতা মেনে নেওয়া হবেনা।

আর তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা তো মানুষ ই না।
স্বয়ং হুজুরেরাই তাদের হিজরা বলে গালি দেয়।

 তাই I will rather die.
But আমার দেশে শরীয়া আইন never চাই!
Period!



আমার ১৮তম প্রশ্ন......


ক)   একজন বিবাহিতা হিন্দু নারীকে শাঁখা, সিঁদুর এবং মঙ্গলসূত্র কেনো পরতে হয়?

খ)   এই নিয়মগুলো কেনো এবং কখন থেকে শুরু হয়েছে?

গ)   একজন বিবাহিত হিন্দু পুরুষকে কি বিয়ের চিহ্ন হিসেবে ওরকম কিছু পরতে হয়?
হিন্দু বিবাহিত নারীদের জন্য সিঁদুর


 আমি যেই দেশে এখন বসবাস করছি সেই দেশে একজন ভারতীয় নারীর সাথে বাচ্চাকে পার্কে খেলতে নিতে গিয়ে বন্ধুত্ব হয়। আমার দেশ, ওর দেশসহ অনেক কিছু নিয়ে আমরা প্রায় গল্প করি।
যাইহোক একদিন দেখলাম ওর মন খুব খারাপ। হালকা করে জিজ্ঞাস করলাম কি হয়েছে। বললো গতকাল ভারত থেকে ওর শ্বশুর, শাশুড়ি বেড়াতে এসেছেন। এবং আজ বিকালে অফিস থেকে ফিরে এসে দেখে  শাশুড়ি মুখ ফুলিয়ে বসে আছে।

ওর স্বামী বাসায় ফিরলে তার কাছে ভীষন রাগ করে উনি নালিশ দেয় আমার ফ্রেন্ডটা ঐদিন মাথায় সিঁদুর না দিয়ে অফিসে গেছে। বিদেশে এসে নাকি ধর্ম কর্মের মাথা খেয়েছে। আরো অনেক কটু কথা বলেছে।
হিন্দু নারীরা হাতে ব্যবহার করেন


 আমার ফ্রেন্ডটার খুব মন খারাপ ছিলো তাই প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জিজ্ঞাস করিনি সিঁদুর কেনো লাগাতে হয়?
কেনো এটা হিন্দু ধর্মের এতোটা গুরুত্বপূর্ন যে নারীকে ওটা না লাগালে কটু কথা শুনতে হয়?

 বাংলাদেশও অনেক পরিচিত হিন্দু নারীকে বলতে শুনেছি শাঁখা, সিঁদুর বিবাহিতা নারীর চিহ্ন। তাহলে বিবাহিত পুরুষের চিহ্ন কি?
নাকি পুরুষদের কিছুই লাগেনা। উনারা রাজা মহারাজা!
গালায় ব্যবহার করার জন্য।হিন্দু নারীরা বিয়ের পর স্বামীর মঙ্গলের জন্য পরে থাকেন


 আর ভারতীয় সিনেমাগুলোতে যা দেখেছি একজন নারীর জীবনের চেয়ে ঐ মঙ্গলসূত্র মনে হয় বেশী গুরুত্বপূর্ন। মঙ্গলসূত্র ছিড়ে যাওয়া মানে বিশাল অমঙ্গল হয়ে যাওয়া। কিন্তু কেনো?

প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার অপেক্ষায় রইলাম।

আমার ১৯তম প্রশ্ন.....


ক)   হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম কি?
খ)   ঐ ধর্মগ্রন্থের প্রবর্তকের নাম কি?   

হিন্দু ধর্ম নিয়ে যখনি কোন প্রশ্ন করি কিছু হিন্দু ভাই বোনেরা বেশ আক্রমনাত্নক ভাবে বলেন উনাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থে ওসব কিছু লেখা নেই।

  জানতে চাচ্ছি ঐ প্রধান ধর্মগ্রন্থ কোনটা।
  কি লিখা আছে ঐ ধর্মগ্রন্থে?
 আর ঐ ধর্মগ্রন্থ কোন দেবতা কিংবা প্রবর্তক লিখেছেন?



আমার ২০তম প্রশ্ন.....


ক)   ধর্ম প্রচারের জন্য একজন শিক্ষিত আলেম কেনো মিথ্যা কথা বলেন?
খ)   একজন শিক্ষিত আলেম যদি জেনেশুনে মিথ্যা কথা বলেন তাকে পরবর্তীতে বিশ্বাস করাটা কি ন্যায়সঙ্গত হবে?

মিজানুর রহমান আজহারী সাহেবকে আমি বেশ পছন্দ করি। অনেক পরিচ্ছন্ন কথা বলেন এবং বেশ ভদ্র উনি।
আমার শাশুড়ি তো উনার নিয়মিত শ্রোতা। এমনকি আমার আব্বাও। আজ উনার একটা ভিডিও ক্লিপ দেখলাম।

 নীচের ভিডিওটিতে উনিও দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সাহেবের মতো কিছু চমৎকার সত্যি কথা বলেছেন।
ভিডিওটির ৩.০০ - ৪.০০ মিনিট থেকে ৪টা পয়েন্ট তুলে ধরলাম।



1.  আজহারী সাহেব বলেছেন নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে মিউজিক শুনেছেন। এবং পরে জানতে পারলেন ওটা আযান ছিলো। কিন্তু আযানে তো কোন মিউজিক থাকেনা তাহলে চাঁদে উনি কি মিউজিক শুনেছেন নাকি আযান?

2.  চন্দ্রপৃষ্ঠে কোন শব্দ শোনা সম্ভব না। এবং এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। তাহলে নীল আর্মস্ট্রং কি করে চাঁদে শব্দ শুনলেন?

3.নীল আর্মস্ট্রং কোথায়, কখন বলেছেন কিংবা লিখেছেন উনি চাঁদে আযান শুনতে পেয়েছেন?

4.  নীল আর্মস্ট্রং কি চাঁদের এমাথা থেকে ওমাথা পুরোটা ঘুরে দেখেছেন? তাহলে কি করে জানলেন মাঝখানে এমাথা থেকে ওমাথা পর্যন্ত এতো লম্বা ফাটল আছে?

উপরের পয়েন্টগুলো নিয়ে যদি কারো কাছে কোন যৌক্তিক উত্তর থাকে দয়া করে আমার সাথে শেয়ার করবেন। আমি আশা করি আজহারী সাহেব মিথ্যা বলেন নি।

আমার ২১তম প্রশ্ন.....




ক)   হিন্দু ধর্মের প্রধান ভগবানের নাম কি?
খ)   বেদ গ্রন্থের লেখক কে?

জানতে পারলাম হিন্দুদের মধ্যে কেউ নাকি ভগবান শিবের ভক্ত কেউ আবার ভগবান কৃষ্ণের।
হিন্দুদের একজন দেবতা

শিব ঠাকুর হিন্দুদের দেবতা


উনাদের দুজনের মধ্যে প্রধান দেবতা আসলে কে?
কেই বা বেশী শক্তিশালী?
কোন দেবতাকে অনুসরন করলে কোন কোন সুযোগসুবিধা  পাওয়া যায়?

এটাও জানতে পেরেছি বেদ হিন্দুদের সর্বোচ্চ ধর্মগ্রন্থ।
কিন্তু আমার আগের পোষ্টে কে একজন লিখলেন বেদ ঋষি মুনিরা মিলে লিখেছেন।
তাহলে মানুষের লিখা গ্রন্থ কি করে ধর্মগ্রন্থ হয়?

আর বেদ যদি কোন দেবতার লিখা হয় ঐ দেবতার নামটা জানতে চাই।

উত্তরগুলো হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে ভালো করে জানেন এরকম কোন হিন্দু ভাইবোন কিংবা অন্য ধর্মের ভাইবোনদের কাছ থেকেই শুধু জানতে চাচ্ছি।



আমার ২২তম প্রশ্ন....


প্রথম খন্ড। 


ক)      একজন নারীর( হ্যাঁ নারীর ) তার বাবা মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য কি কি?
গ)      আমাদের দেশ এবং সমাজ একজন নারীকে তার বাবামায়ের প্রতি কর্তব্য পালনে কতোটা সহযোগিতা এবং সুযোগ দেয়?

   অনুরোধ - লেখাটা পড়ার সময় একটু আপনার মা বাবার চেহারাটা কল্পনায় রাখবেন।

         বেশ কয়েক বছর আগের কথা আমি একবার লোকাল প্লেনে আমার শহর থেকে আমার ভাইয়ের শহরে যাচ্ছিলাম। আমার সীটটা প্লেনের আইলে ছিলো। হঠ্যাৎ একজন বয়স্ক মহিলা এসে আমাকে বললেন উনি কি আইলের সীটটাতে বসতে পারেন? সবার মতো আমারও উইন্ডো সিট খুব প্রিয় তাই ছোট্ট করে হ্যাঁ বলেই জানালার সীটের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম।

মহিলা বসে একটু হাঁপাচ্ছিলো। আহারে এতো বয়স্ক একজন মহিলা( ৬৫- ৭০ তো হবেই) একা সফর করছে। নিশ্চয়ই ঘনঘন বাথরুমে যাওয়া লাগে তাই আইলে বসতে চাচ্ছিলো। পশ্চিমা সভ্যতাকে মনে মনে কয়েকটা গালি দিলাম। এরা বৃদ্ধ বয়সে কিভাবে বাবা মাকে এভাবে একা সফর করতে দেয়। ঐ মহিলার ছেলেমেয়েরাও নিশ্চিত উনার কোন খোঁজখবর রাখেনা কিংবা উনাকে কোন বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে রেখেছে।

যাইহোক উনি পাশে বসার পর পরই দেখলাম এয়ার হোস্টেস এবং কেবিন ক্রুরা মিলে আরো অনেক বয়স্ক দুজন বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধাকে ধরে ধরে এনে আমাদের পাশের সীটগুলোতে বসিয়ে দিলেন। হঠ্যাৎ আমার পাশের বয়স্ক মহিলা উঠে দাড়িয়ে ঐ বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সীট বেল্ট লাগিয়ে দিতে সাহায্য করলেন। দুজনের গায়ে পাতলা ব্ল্যাঙ্কেট বিছিয়ে দিয়ে আবার নিজের সীটে এসে বসে পড়লেন। পুরোটা ফ্লাইটেই উঠে উঠে তাদের কতো যত্ন করে এটা দিলেন ওটা দিলেন, গালে চুমু দিলেন। আর এজন্যই বোধহয় আইলের সীটে বসতে চেয়েছিলেন।

একটু পর দুএকটা কথা দিয়ে শুরু করে উনার সাথে রীতিমতো গল্প শুরু করলাম। জানলাম সাথের বয়স্ক দুজন উনার বাবা-মা এবং দুজনের ই বয়স ৯১বছর। উনারা ছুটিতে( Thanks Giving) উনাদের নাতি মানে এই মহিলার ছেলের শহরে বেড়াতে যাচ্ছে। উনার হাজবেন্ডের কি কাজ থাকায় দুদিন পরে যাবে । যাইহোক তখনকার আমি মনে মনে বললাম “ কাম নাই। নিজের শরীর নিয়ে চলতে পারেনা আবার বাপ মারে ছেঁচাতে ছেঁচাতে নিয়ে যাচ্ছে। ওরে! কেউ এগুলার জন্য এম্বুলেন্স ডাক।”

    কেনোই বা বলবোনা আমার আম্মা থেকে শাশুরী আম্মা, চাচী থেকে মামী সবাইকে সারাটা জীবন দেখেছি এবং শুনেছি স্বামী নামক দেবতা, সন্তান এবং শ্বশুর বাড়ীর মানুষদের পিছনে খাটতে খাটতে শরীর ,মন সব ক্ষয় করে ফেলতে। বছরে দু চারবার বাপের বাড়ী বেড়াতে যাওয়ার সময় গাড়ীভর্তি ফলমুল, মিষ্টি, বিস্কিট-চানাচুর আর কাপড়চোপড় নিয়ে যাওয়া ছাড়া আরতো কখনোই দেখিনি নানা নানুর জন্য কিছু করতে। খাবার যা নিয়ে যেতো তার কয়েকগুন তাও রান্না করা উনারাই ফেরার সময় আমাদের গাড়ী ভরে দিয়ে দিতো। তবু যেনো উনাদের কলিজার টুকরা মেয়েটা ভালো থাকে।

ঐ সফর শেষে মনটা দুএকদিন ভীষন খারাপ ছিলো যদিও কাউকে বুঝতে দেইনি। বার বার আম্মার চেহারাটা চোখে ভেসে উঠছিলো আর চোখে পানি চলে আসছিলো। আমার আব্বা আম্মা সারাটা জীবন শুধু একতরফা করেই গেছেন। ঠিক আর দশটা বাবা মায়ের মতো করে। একটু হিসাব কষলাম আম্মা নানুর জন্য কি করেছে পেলাম একটা বিশাল জিরো। আম্মা সেই সুযোগ কখনোই পায়নি কিংবা দেওয়া হয়নি।

আর আমি ১০০% সুযোগ থাকার পরও কখনো একটিবারও এটা ভাবিনি যে একটা মেয়ের ও বাবা মায়ের জন্য অতটুকু করা উচিত যতটুকু একটি ছেলের। সেটা উপার্জন করে তাদের টাকা দেওয়া হোক কিংবা নিজের কাছে রেখে সন্তানের মতো দেখাশোনা করা।

ভাবতাম ওগুলো শুধুমাত্র ভাইদের দায়িত্ব টাকা দেওয়া কিংবা সেবাযত্নের দায়িত্ব নেওয়া। আমার মতো লাখো কোটি নারী ঠিক এভাবেই ভাবে। আর যেসব সচেতন মনের নারীরা ভাবতে জানেও তারা সুযোগ ই পায়না কিংবা দেওয়া হয়না নিজের বাবা মায়ের জন্য কিছু করার।

    আমার সফরসঙ্গী ঐ মহিলার মতো অসম্ভব সৌভাগ্যবান নারীরাই বুড়ো বয়সে তাদের বাবা মাকে কাছে রেখে সেবাযত্ন করার সৌভাগ্য পায়। হ্যাঁ অসম্ভব সৌভাগ্যবান নারীরাই কাছে রেখে সেবা করতে না পারলেও দুর থেকে প্রতিদিন খোঁজ খবর রাখে বাবা মা কি খাচ্ছেন না খাচ্ছেন। ঔষটা ঠিকমতো খেয়েছেন কিনা। নিয়মিত একটু শরীরচর্চা করছেন কিনা।

  অসম্ভব সৌভাগ্যবান নারীরাই নিজের উপার্জিত টাকা থেকে বাবা মার জরুরী দরকারের জন্য টাকা দিতে পারে। বাবা মা আর্থিকভাবে দুর্বল হলে তাদের নিয়মিত ভরনপোষনের দায়িত্ব নিতে পারে ঠিক যেমন একটা পুরুষ নেয়, নিচ্ছে যুগযুগ ধরে।

   যেদিন থেকে একজন নারী একজন পুরুষের মতো তাদের বাবামায়ের সব ধরনের দায়িত্ব নিবে কিংবা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে সেদিন থেকে প্রেগনেন্ট হওয়ার পর থেকে একজন বাবা কিংবা মা কিংবা একটা পুরা পরিবার মুখে না বললেও মনে মনে একটা ছেলে সন্তানের জন্য কাতর হয়ে থাকবে না।
    সবাই ভাববে ছেলেটা যেমন সবার জীবনে একটা শক্তি, বুড়ো বয়সের সম্বল ঠিক মেয়েটাও একটা শক্তি এবং বুড়ো বয়সের সম্বল।


আমার ২২তম প্রশ্ন......

দ্বিতীয় খন্ড


আর আমাদের বাংলাদেশ কিংবা পাক- ভারতের সমাজের কথা যদি বলি বেশীরভাগ মানুষের পেটের মধ্যেই উত্তপ্ত গরম তেল পরবে।

 1. একজন নারী কালেভদ্রে বাবা মাকে কয়টা টাকা দিলে স্বামী, শ্বশুর বাড়ীর মানুষের কটু কথা শুনতে হয়। একজন নারী তার অসুস্হ বাবামায়ের বাড়ীতে গিয়ে উনাদের সেবা করার জন্য দীর্ঘ সময় থাকলে খোঁচা মারা কথা শুনতে হয়। একজন নারী ফোনে দীর্ঘক্ষন মা বাবার সাথে কথা কথা বললে সবাই চরম বিরক্ত প্রকাশ করে।

2. একজন পুরুষ নিজের বাবা মায়ের সেবা করলে আদর্শ সন্তান আর শ্বশুর শ্বাশুরীর জন্য করলে ছেলেতো বিক্রি হয়েছে।

3. মা দিবসে কোন নারী শ্বাশুড়ীর ছবি প্রোফাইল পিক দিলে সবার সুন্দর সুন্দর কমেন্ট, লাভ-লাইক সাইন। আর কোন পুরুষ যদি ভুলেও মা দিবসে শ্বাশুড়ীর ছবি প্রোফাইল পিক দেয় আল্লাহগো সামনে না হলেও পিছনে ঐ ছেলেটার নামে গীবত চর্চা করতে করতে রীতিমতো তার মানসন্মানের চর্চুড়ী বানিয়ে ফেলবে।

4. একজন পুরুষ নিজের বাবামায়ের সমস্ত ভরপোষন এবং সেবাযত্নের দায়িত্ব নিবে এটাই তো স্বাভাবিক, এটাই তো বিধান। একজন পুরুষ মানুষ তার শ্বশুর শ্বাশুড়ীর( উনাদের নিজের ছেলে থাকুক কিংবা না থাকুক) ভরপোষনের দায়িত্ব কেনোই বা নিবে? এটা তাদের উপর বিধান না। আমাদের সমাজে ঐসব পুরুষদেরকে ভয়ঙ্কর খোঁচা মার্রা কথা শুনতে হয়।

5.  একজন পুরুষ কিংবা নারীর নিজ বাবামায়ের পর শ্বশুর শ্বাশুড়ী বৈবাহিক সুত্রে পাওয়া বাবা মা। কি অদ্ভুত আমাদের এই সমাজ! নারীটা শ্বশুর শ্বাশুড়ীর সেবা করতে করতে ক্ষয় হয়ে গেলেও কারো চোখেই লাগেনা। যেনো এটাই তার জন্মগত দায়িত্ব। আর পুরুষটা যদি তার শ্বশুর শ্বাশুড়ীর জন্য সামান্য কিছুও করে পুরো সমাজ ব্যবস্হার যেনো ওটা গলার মধ্যে কাঁটার মতো বিঁধে যায়।

6. আমাদের জঘন্য সমাজটাই আমাদের জন্য একটা ফ্রেম বানিয়ে রেখেছে। একজন নারী সারা জীবন আপ্রান চেষ্টা করে যাবে শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর মন পেতে, মন যুগিয়ে চলতে। কিন্তু একজন পুরুষ তো হচ্ছে রাজা-বাদশা। তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর ই উল্টা দায়িত্ব কিভাবে মেয়ের জামাইয়ের মন পাওয়া যায়, সারাজীবন মন যুগিয়ে চলা যায়।
কি নিষ্ঠুর এবং অবিচার এই নিয়ম।

7.   একটা পুরুষের মা বাবা অর্থ-কষ্টে থাকলে, সেবা না পেলে সবাই ঐ পুরুষকে তুনোধুনো করে। বলে অমানুষ জন্ম দিছে। আর নারীর মা বাবা একই কষ্টে থাকলে আমাদের মহামান্য সমাজ বলে আহারে আল্লাহর কি অবিচার!  একটা ছেলে যদি থাকতো উনাদের।

8.  তবে যাই বলেন সবচেয়ে রাগ লাগে আমার মতো স্টুপিড নারীদের উপর যারা চাইলেই সবভাবেই বাবা মায়ের জন্য করতে পারে কিন্তু ভেবে নেয় আরে ওটাতো ভাইদের দায়িত্ব। আমার বিয়ে হয়ে গেছে তাই উল্টা উনাদের ই দায়িত্ব আমি কেমনে ভালো থাকি, কি করে খুশী থাকি এসব দেখে রাখা।

আহারে !!! এরকম ভাবতে ভাবতে আমাদের মা বাবাগুলো মরে গিয়ে একদিন মাটির সাথে মিশে যায়। তবু অনেকের হুশ হয়না। ধিক আমার নিজেকেই!

 পরিশেষে বলবো মা বাবার মতো অমুল্য রত্ন আর কিছুই নেই। শিশুকাল থেকে কতো মায়া-মমতা, আদর-যত্ন, ভালোবাসা মাখিয়ে ওরা আমাদের বড়ো করেছেন যেগুলো পৃথিবীর কোন ভাষা, কোন সাহিত্য দিয়ে বোঝানো যাবেনা। যখন ওরা বুড়ো হয় ঠিক ছোট্ট বাচ্চাদের মতো হয়ে যায়। এবার আমাদের পালা ঐ মায়া-মমতা, আদর-যত্ন, ভালোবাসাগুলো দেওয়ার।

জী আমাদের। আমাদের বলতে ঠিক যতটুকু একটি ছেলের ঠিক ততটুকু একটি মেয়ের। আর আমাদের( ছেলে সন্তান এবং মেয়ে সন্তান) এই ফরজ দায়িত্ব পালনে কোন মানুষ, কোন সমাজ, কোন সভ্যতাও যদি বাঁধা দেয় ওগুলোকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ডিটার্জেন্ট দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার- পরিচ্ছন্ন এবং পাক-পবিত্র করা অতিসত্বর দরকার।
সেটা একজন মেয়ের জামাইকে হোক কিংবা ছেলের বৌকে।

 আর কিছুকিছু পুরুষ ভাইদের অনুরোধ করবো দরকার হলে আজকে আমাকে এক লাখ একটা গালি দিন কিন্তু পাঁচটা মিনিট ভাবুন নিজের বাবা মায়ের সুখ দু:খে, হাসি কান্নায়, সুস্হ অসুস্হতায় আপনার ভেতরে যে প্রতিটা ফোঁটা ফোঁটায় প্রতিক্রিয়া হয়  আপনাদের স্ত্রীর কিংবা যেকোন নারীর  তাদের বাবা মায়ের জন্য ঠিক তেমনটাই হয়। ক্ষেত্রবিশেষে বেশীও। আজ থেকে নিজের প্রতিক্রিয়ার মতো ওদের প্রতিক্রিয়াটাকেও সন্মান দিবেন প্লিজ। দেখবেন আপনার মেয়ের কিংবা বোনের স্বামীও ঠিক একইভাবে ভাববে।

বোনদের প্রশ্ন করছি - 

জীবনে কি কি করেছেন মা বাবার জন্য?
কি করছেন?
আর কি করবেন বলে ঠিক করেছেন?


আমার ২৩তম প্রশ্ন......


খ)  সবগুলো প্রচলিত ধর্মে বৃদ্ধ পিতামাতার প্রতি কন্যা সন্তানের( হ্যাঁ কন্যা সন্তানের ) দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে কি বলা আছে

 প্রচলিত সবকটা ধর্মে একটা কন্যা সন্তানের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার মা বাবার প্রতি কি কি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইনফ্যাক্ট ফরজ করা হয়েছে জানার খুব ইচ্ছা আছে।

কেউ যদি আমাকে জানাতে সাহায্য করেন কৃতজ্ঞ থাকবো এবং উপকৃত হবো।

দয়া করে বাবা মায়ের সাথে উত্তম ব্যবহার, উচ্চস্বরে কথা না বলে এই টাইপের কথা দিয়ে বুঝিয়ে দিবেন না, ওগুলো জানি।


আমার ২৪তম প্রশ্ন....


ক)  ইসলাম ধর্মে কেনো একজন স্বাধীন নারীকে চুল এবং মুখ ঢাকতে বলা হয়েছে কিন্তু একজন ক্রীতদাসীকে নিষেধ করা হয়েছে?
খ)  দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা:) কেনো চুল এবং মুখ ঢাকলে ক্রীতদাসীদের পিটাতেন?

নীচের ভিডিও ক্লিপটির ১.৪৫ মিনিট থেকে দেখুন।



বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ আলেম মুফতি কাজী ইব্রাহিম বলেছেন:
1.  ইসলাম ধর্মে একজন স্বাধীন নারীকে মুখ এবং চুল ঢাকতে হবে। কারন তারা সম্ভ্রান্ত নারী।

2.  অপরদিকে একজন ক্রীতদাসী তার মুখ এবং চুল ঢাকতে পারবেনা। কারন সে হচ্ছে একজন সেবিকা/ খাদ্দেমা।

3.  আর একজন ক্রীতদাসীর জন্য সতর/ আওরাহ হচ্ছে পুরুষ মানুষের মতো নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত।

ইব্রাহীম হুজুর এটাও বলেছেন খলিফা ওমর ঐসময় যেসব ক্রীতদাসীরা মুখ এবং চুল ঢাকতো ওদের ধরে পেটাতেন। বাহ! চমৎকার!

জানতে চাই:

 মুফতী কাজী ইব্রাহীম সাহেব কি সত্যি কথা বলেছেন?
      যদি ইসলাম নিয়ে মিথ্যা বলেন উনার কি শাস্তি হবে?

যদি মুফতী সাহেব সত্যি বলেন:

কেনো একজন ক্রীতদাসীর মুখ এবং চুল ঢাকা নিষেধ?
      ক্রীতদাসীর সতর/পর্দা কি সত্যি ছেলেদের মতো নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত?
      তারমানে একজন ক্রীতদাসীর বুক ঢাকা ফরজ নয়?


 একজন নারীর পোষাকের জন্য( নিকাব+হিজাব) তাকে পেটানো হতো এমন মানুষকে কি নামে ডাকা উচিত?



আমার ২৫তম প্রশ্ন....


ক) ইসলাম ধর্মে সামর্থ থাকলে একজন পুরুষের একসাথে চারজন স্ত্রী এবং অগনিত দাসী রাখতে পারার নিয়মটির ‘বিরোধিতা’ করা কি প্রচন্ড অমানবিক কাজ নয়?
খ) মানুষের জীবনের এসব সিদ্ধান্তগুলো পুরোপুরি পরিবেশ, পরিস্হিতির উপর নির্ভরশীল নয় কি?

নারীবাদি, নাস্তিক, মুক্তমনা এবং অনেক অমুসলিমরা সবসময় ইসলামের দুটো বিষয় নিয়ে ভীষন আপত্তিকর কথা বলে এবং ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে। বিষয়টা দুটো হচ্ছে:

১.   ইসলাম ধর্মে একজন পুরুষ ‘প্রয়োজন, পরিস্হিতি এবং সামর্থ’ থাকলে একসঙ্গে চার স্ত্রীর সাথে সংসার করতে পারবে।
২.    ইসলাম ধর্মে একজন পুরুষ ‘পরিস্হিতি এবং সামর্থ’ হলে যতজন ইচ্ছা ততোজন দাসী রাখতে পারবে।

সবার তালে পড়ে আমিও এই ব্যাপারগুলো নিয়ে বিরোধিতা করেছি যা প্রচন্ড অন্যায় ও অমানবিক কাজ।
গত কয়েকদিন অনেক ভেবে কয়েকটা বিষয় মাথায় আসলো।
আসা করি সবাই মাথা ঠান্ডা রাখবেন এবং কথাগুলো হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করবেন।

প্রতিটি মানুষের ই খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্হান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যৌনকর্ম এই কয়েকটি মৌলিক চাহিদার পর আরো কয়েকটা  জরুরী চাহিদা আছে যেগুলো না থাকলে মানুষের জীবন আর পশুরপাখির জীবনের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য থাকেনা। যেমন:

বিনোদনমূলক বিষয়াদি

খেলাধুলা

শখ

প্রেম ভালেবাসা 

 বন্ধুত্ব

 হরেক রকম চালচলন


কিন্তু ইসলাম ধর্মে:
▪️নাটক-সিনেমা করা কিংবা দেখা হারাম।
     অত:পর খাট!
▪️গান- বাজনা করা কিংবা শোনা হারাম( except চিজ বারি হ্যায় মাস্ত মাস্ত)
     অত:পর খাট!
▪️খেলাধুলা করা এবং দেখা হারাম( দু একটা বাদে)।
     অত:পর খাট!
▪️প্রেম ভালোবাসা হারাম।
      অত:পর খাট!
▪️বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব হারাম।
      অত:পর খাট!
▪️বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে গল্প করা হারাম।
      অত:পর খাট!
▪️ছবি অংকন (কারো মতে ছবি তোলাও) হারাম।
      অত:পর খাট!
▪️অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব নিরুৎসাহিত( কিছু আলেমের মতে)।
     অত:পর খাট!
▪️অমুসলিম দেশে বসবাস হারাম( আলেমদের মতে)।
▪️ফ্যাশন করে টাকনুর নিচে প্যান্ট পরা তাও হারাম।
▪️ক্লিন সেইভ করা মানে রাসুলের সুন্নত অমান্য করা।
▪️গনতন্ত্র মেনে নিয়ে ভোট দেওয়া হারাম।
আর শুধুমাত্র নারীদের জন্য হারামের লিষ্টগুলো দিলেতো পাবলিক আঁতকে উঠবে। ওটা নাহয় অন্য লেখায় দিবো।

যাইহোক একজন সুস্হ স্বাভাবিক মানুষ দৈনন্দিন মৌলিক কাজগুলোর পাশাপাশি উপরের কাজগুলোও যে যার পছন্দ এবং রুচী অনুযায়ী করে।
যেমন আমরা ভাইবোনেরা এবং আমাদের বাচ্চারা কেউ ছবি আঁকতে পছন্দ করে কেউবা মুভি দেখতে। কেউ ফুটবল খেলছে তো কেউ কেউ গানবাজনা শিখছে।
আমার ভাইবোনগুলো ভীষন স্টাইলিশ তাই বিভিন্ন রকমের ফ্যাশন নিয়ে তারা বেশ গবেষনা করে। ওদের রুচী।
আমরা প্রায় সবাই একটি অমুসলিম দেশে বসবাস করি এবং অমুসলিম বন্ধুদের সাথে পরিপূর্ন শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা নিয়ে মিশি।

কিন্তু প্রিয় মুসলিম( খাটমোল্লা) ভাইদের কথা একবার ভেবে দেখেছেন কি?
মৌলিক চাহিদাগুলো পূরনের পর উনাদের জীবনে একমাত্র “খাট” ব্যতীত আমি কোনকিছু খুঁজে পাইনা।
উনাদের বিনোদন হলো খাটে।
খেলাধুলা হলো খাটে।
শখ পূরনও খাটে।


  আমাদের এক হুজুর আমাদেরকে বলেছিলেন টাকা, পয়সা, ডাকটিকিট ঘরে জমানো হারাম কারন এগুলোর উপর মানুষের এবং প্রানীর ছবি থাকে।
তো ভাই প্রিয় মুসলিম ভাইগুলো জীবনে করবে টা কি?

 বিনোদন এবং শখের কাজগুলোর উপর এতো বেশী হারাম ট্যাগ লাগানো যে চার বিবি এবং অগনিত দাসী নিয়ে খাটের উপর খাটমোল্লা হয়ে খাট বিনোদন ব্যতীত কোন অপশন ই তো বাকী নেই প্রিয় মুসলিম ভাইদের।

তাইতো উনারা শয়নে স্বপনে জাগরণে শুধু খাট আর খাট ই দেখে। উনাদের জীবনের একমাত্র বিনোদন।
আর উনাদের জীবনের আনন্দের সবকিছু যেহেতু ঐ খাটের উপর ই তাই চার বিবি এবং অগনিত দাসীর পরিমানটা বেশ কম। কিছুটা অবিচার এটা। তাই নয় কি?
অকর্মা বিজ্ঞানিরা যদি এসব ব্ল্যাক হোল, ওয়ার্ম হোলের পিছনে না ছুটে খাটমোল্লাদের খাটের জন্য ভিনগ্রহ থেকে কিছু সাপ্লাইয়ের ব্যবস্হা করতো কতোই না সওয়াব পেতো।

তাই নারীবাদি, নাস্তিক, মুক্তমনা এবং অমুসলিদের বলছি একটু মানবিক হোন প্লিজ। চার বিবি এবং অগনিত দাসী ব্যতীত মুসলিম ভাইদের জীবনে কোন বিনোদন নেই।
এই দুটো খাটের বিনোদন যদি না থাকে উনারা তো কিসমিসের মতো শুকিয়ে যাবে। জীবন হবে ঝাউ ভাতের মতো স্বাধহীন। তাই দয়া করে উনাদের এই নিয়মগুলোর বিরোধিতা করবেন না।

উৎসর্গ:
প্রিয় খাটমোল্লা ভাই এবং তাদের প্রিয় খাটগুলোকে।

  • লিখেছেন:ফাতিমা জান্নাত...