সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইবলিশ কি একজন জীন নাকি একজন ফেরেস্তা?

ইবলিশ কি একজন জীন নাকি শয়তান?এই বিষয়ে কোরানের কিছু আয়াত বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।যেহেতু ইবলিশ এর বিষয়টা কোরান থেকেই এসেছে সেহেতু একটু বিশ্লেষণ করেই দেখা যাক।
কোরনে বর্নিত শয়তানের কথা।
ইবলিশ শয়তান এর কাল্পনিক ছবি 
   

কোরানের ছয়টি সূরার বিভিন্ন আয়াতে ইবলীসকে একজন ফেরেশতা বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ১৮ঃ৫০ আয়াতে বলা হয়েছে ইবলীস ফেরেশতাদলভুক্ত একজন জিন। জিন প্রমোশন পেয়ে ফেরেশতা হতে পারলে, মানুষও প্রমোশন পেয়ে ফেরেশতা হবার সুযোগ থাকার কথা। ফেরেশারাও ডিমোশন পেয়ে জিন বা মানুষ হতে পারে। আল্লাহর নিজেরও প্রমোশন ডিমোশন থাকার কথা, বিদ্রোহে ক্ষমতাচ্যুত হবার কথা। আল্লাহ নিজেই নিজের কোরান বিতর্কিত করার এমন অনেক আয়াত কোরানেই রেখে দিয়েছে। কিছু কিছু বিষয়ে কোরানের একেক সূরায় একেক কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর দাবী অনুযায়ী তার আয়াত ফল দিচ্ছেনা, অর্থাৎ আল্লাহর ওয়াদা অকার্যকর।

ধর্মব্যবসায়ী বাটপার মোল্লারা আল্লাহর কোরানে এসব বিতর্কিত, ভুল ও মিথ্যাচার আয়াতে বিপদ বুঝতে পেরে গাঁজাখুরি গোলমেলে গোঁজামিল দিয়ে কুমতলবী তাফসির করে সত্য ধামাচাপা দিতে চেয়ে আল্লাহর ভুয়া সৃষ্টিকর্তার পরিচয়টা আড়াল করার অপচেষ্টা করেছে।

আল্লাহ নাকি সর্বোজ্ঞ সর্বশক্তিমান চিরজীবী, কিন্তু না মরে তার সাক্ষাত পাওয়া যাবেনা, তার বেঁচে থাকার প্রমাণ ইহকালে কেউ কখনো প্রতক্ষ্য করেনা, একমাত্র নবী রসূল ছাড়া। কী সন্দেহজনক ও হাস্যকর কথা! আর ইবলীস শয়তানও চিরজীবী, কিন্তু শয়তানের তৎপরতা ও কার্যক্রম ইহকালেই দৃশ্যমান, তাহলে কে সত্যি, নাকি উভয়ই ভুয়া? ধুরন্ধর ধান্ধাবাজ টাউটবাটপার নবী-রসূল-মেসেঞ্জার-অবতারদের কারসাজিতে চিরজীবী আল্লাহ ও চিরজীবী শয়তান দুইজনের ব্যক্তিগত ক্ষমতার লড়াইয়ের টানাটানিতে নশ্বর নিরিহ মানুষের জীবন বংশপরম্পরায় শ্যাষ।
কোরানে বর্নিত শয়তান এর কথা।শয়তান মানুষের চরম শত্রু
শয়তান এর কাল্পনিক ছবি 

আল্লাহ কোরানে বলেছে যার যার কর্মের ফল সে সে ভোগ বা দুর্ভোগ করবে, অর্থাৎ একজনের পাপের দায় অন্যজনের উপর বর্তাবেনা। কিন্তু আল্লাহ তার ওয়াদা ভঙ্গ করে আদম-হাওয়ার পাপের ফল বংশপরম্পরায় তার বংশধরদের উপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের পিছে শয়তান লেলিয়ে দিয়ে নিজেই তার দাবী করা সৃষ্টির সাথে মোনাফেকি বেঈমানী করে চলেছে। 

০২. সূরা আল-বাক্বারাহ (বকনা-বাছুর)
৩০. আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।
৩৪. এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইব্‌লীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল।ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।

০৭. সূরা আল আ’রাফ ( উচু স্থানসমূহ)
১১. আর আমি তোমাদেরকে  সৃষ্টি করেছি, এরপর আকার-অবয়ব, তৈরী করেছি। অতঃপর আমি ফেরেশতাদেরকে বলছি— আদমকে সেজদা কর তখন সবাই সেজদা করেছে, কিন্তু ইবলীস সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না।
১২. আল্লাহ বললেন : আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বলল : আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।

১৫. সূরা হিজর  (পাথুরে পাহাড়)
২৮. আর আপনার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদেরকে বললেন: আমি পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্ট একটি মানব জাতির পত্তন করব।   
২৯. অতঃপর যখন তাকে ঠিকঠাক করে নেব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁক দেব, তখন তোমরা তার সামনে সেজদায় পড়ে যেয়ো। 
৩০. তখন ফেরেশতারা সবাই মিলে সেজদা করল।
৩১. কিন্তু ইবলীস- সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হতে স্বীকৃত হল না। 

১৭. সূরা বনী ইসরাঈল (ইসরায়েলের বংশধর)
৬১. স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম: আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদায় পড়ে গেল। কিন্তু সে বলল: আমি কি এমন ব্যক্তিকে সেজদা করব, যাকে আপনি মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন? 

১৮. সূরা কাহ্‌ফ (গুহা)
৫০. যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম: আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।

২০. সূরা ত্বোয়া-হা (ত্বোয়া-হা)
১১৬. যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম: তোমরা আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদা করল। সে অমান্য করল। 

৩৮. সূরা ছোয়াদ (আরবি বর্ণ বিশেষ)
৭১. যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাগণকে বললেন, আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করব।   
৭২. যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তাতে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার সম্মুখে সেজদায় নত হয়ে যেয়ো। 
৭৩. অতঃপর সমস্ত ফেরেশতাই একযোগে সেজদায় নত হল,   
৭৪. কিন্তু ইবলীস; সে অহংকার করল এবং অস্বীকারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।

লিখেছেন:বঙ্গজ বিহঙ্গ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কুরআনের ভুল ও অযৌক্তিকতা-প্রথম পর্ব

কুরআনের ভুল ও অযৌক্তিকতা- সুরা ফাতিহা(সম্পূর্ণ একসাথে) সবার যৌক্তিক সমালোচনা,সংশোধনী আশা করছি! . প্রসঙ্গ:বিসমিল্লায় গলদ প্রশ্ন: ১.কুরআন আল্লাহর কথা হলে এটাও কি আল্লাহর কথা? নাকি এটা কুরআনের অংশই নয়? ২.এটা কি সুরা ফাতিহার অংশ নাকি অংশ নয়? ৩. আল্লাহ কি আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করেন? নাকি আল্লাহ তার আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করেন? ৪.দয়াময় ও পরম দয়ালু বলে কেউ কি নিজের ঢোল নিজে পেটায়? আল্লাহ এভাবে নিজের ঢোল পেটাচ্ছেন কেন? ৫.কেউ কথা বললে কি নিজের পরিচয় না দিয়েই বলে রহিম/করিমের নামে শুরু করছি? আল্লাহ কেন এমনভাবে নিজের পরিচয় না দিয়েই আল্লাহর নামে শুরু করছেন? ৬.এ আয়াতটি কুরআনের প্রথমে আসবে কেন? যখন আল্লাহ সুরা আলাকের মাধ্যমে কুরআন নাযিল শুরু করেছেন। বক্তৃতার মাঝে এসে কি কেউ বলে আমি শুরু করছি? ৭.সাধারণত কাউকে কিছু শিক্ষা দিলে,"বলো,পরম করুনাময়ের নামে শুরু করছি" এভাবে শিক্ষা দিতে হয়। এ আয়াত এভাবে নয় কেন? নাকি এটা নবীর কথা? ৮.আল্লাহ কে সে পরিচয় না দিয়েই তার নামে শুরু করলে তো প্রথমেই আপনাকে অন্ধবিশ্বাসী হতে হচ্ছে! না জেনেই কারো নামে প্রশংসা করা কতটা যৌক্তিক? ৯.যদি মেনে নিই দয়াময় ও পরম দয়...

ফেসবুকে বকরবকর

প্রতি বছর বইমেলা আসার আগে একটা চিন্তা মাথায় আসে ইস এবার যদি আমার কোন বই প্রকাশ হইতো? পরক্ষনেই মনে হয় এইসব কঠিন কর্ম আমার জন্য নয়। বই লেখে তো জ্ঞানী গুনি রা আমি যা পারি সেই লেখকের কঠোর সমালোচনা করতে। শুধু লেখকের লেখার তো একদমই নয়। কেননা আমি তো আসলে বই পড়ি না। আমি শুধু খোঁজ রাখি লেখক কার সাথে কতবার শুয়েছে? লেখক আমার ধর্ম, জাতীয়তা নিয়ে,আমার প্রিয় দল নিয়ে আমার এবং আমার পছন্দের জিনিস গুলো নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছে কিনা সেই সব বিষয় গুলো। আসলে দাদা আমি তো বই পড়ি না লেখার সমালোচনা কিভাবে করবো? তবে বই পড়া নিয়ে নিচের কয়েক লাইন পড়ে দেখা যেতে পারে। বই পড়া থেকে আনন্দ, বুদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জিত হয়। বই পড়তে হয় একাকী এবং তাতে অবসর ভরে ওঠে নির্মল আনন্দে, বুদ্ধি আসে বইয়ের কথামালা থেকে, আর সক্ষমতা আসে গ্রন্থগত বিদ্যার সঙ্গে বিষয়বুদ্ধির সংশ্লেষে। একজন বিশেষজ্ঞ খুঁটিনাটি বিষয় ভালোভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারেন। তিনি তথ্য ও তত্ত্বে পারঙ্গম। তবে বই পড়ায় অত্যধিক সময় ব্যয় করলে শরীর-মনে আলসেমি ভর করতে পারে। বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মে মাত্রাতিরিক্ত ব্যাপৃত হলে মেকিত্ব তৈরি হতে পারে এবং অতিমাত্রায় নিয়মচর্চা ...

কুলীন ব্রাহ্মণের কন্যা, বিবাহ বণিক এবং রবার্ট মার্টনের সমাজচিন্তা

ব্রাহ্মণদের বহুবিবাহ প্রথার জন্য প্রায় উনবিংশ শতক পর্যন্ত বাঙ্গালী সমাজ কলঙ্কিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গ বা রাঢ় অঞ্চলে ব্রাহ্মণের অভাবের কারণে একাদশ শতাব্দীতে উত্তর ভারতের কনৌজ থেকে বাংলায় ৫টি গোত্রের ব্রাহ্মণকে আনা হয় বলে জানা যায়। এরাই বাংলায় কুলীন ব্রাহ্মণ নামে পরিচিত হয়। এই কুলীন ব্রাহ্মণদের পদবী ছিল বন্দ্যোপাধ্যায়,  গঙ্গোপাধ্যায়, চট্টোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায় ও ভট্টাচার্য। সামাজিক মর্যাদায় এই কু্লীন ব্রাহ্মণদের মর্যাদা সমাজের অন্যদের চাইতে, এমনকি অন্যান্য ব্রাহ্মণদের চাইতেও উপরে ছিল। মধ্যযুগে বাংলায় আসার পর, এদের বিবাহের যে প্রচলিত নিয়ম তৈরি হয় তা হল, একজন পুরুষ কুলীন ব্রাহ্মণ কুলীন বা অকুলীন যেকোন ব্রাহ্মণ বংশেই বিয়ে করতে পারবেন, কিন্তু কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যার বিয়ে হবে কেবলমাত্র কুলীন বংশেই (যদি কুলীন কন্য কুলীন বংশের বাইরের কাউকে বিয়ে করত তবে তার পিতা কৌলিন্য হারাতো)। তো, কুলীনদের মধ্যে নারী ও পুরুষের এই বৈবাহিক বৈষম্যের ফলাফল কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। দেখা গেল, কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যাদের জন্য পাত্র পাওয়া যায় না। কুলীন পুরুষেরা কুলীন পাত্রী না পেলে ঠিকই অকুলীন কন্যাকে বি...