সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুসলমানামা


  1. আমি মুসলিম পরিবারের সন্তান। আমার নামটাও মুসলিম। আমার বাবা মুসলিম এবং তার বাবাও মুসলিম কিন্তু তিনার স্ত্রী ছিলেন হিন্দু । মুসলিম হিসেবে আমার কাজ নামাজ কালাম করা এবং প্রাণ ভরে হিন্দুদদের ধংসের জন্য আল্লার কাছে দুয়া করা। এছাড়াও মুসলিম হিসেবে আমার অনেক কাজ বাকি আছে তার জন্য সহিহ নিয়ত লাগবে। কিন্তু আমি পড়ে গেছিলাম সাম্যবাদের দলে। যেখানে কিছুই নেই।  না আছে টাকা না আছে নারী বা আছে মদ না আছে দাসী না আছে মরার পরে হুর গেলমান। যতদিন আমি সাম্যবাদী ছিলাম ত্যাগ ছাড়া আমি কিছুই পাইনি। মানুষ না খেতে পেলে নিজের খাবার দিতাম হিন্দু মুসলিম কি সব তখন সমান ছিল কিন্তু ইসলাম জানার পর বুঝলাম এগুলা সব হারাম বিদাত। এগুলা করলে সে জাহান্নামী। যেখানে আগুনে জ্বলে পুড়ে মরতে হাবে। কিন্তু ইসলামে এর সমাধান আছে মরার পর সুখ আছে মদের নদী, দুধের নদী ৭২ খানা মোহমহিত কামুক হুর।




আমি নিয়মিত মসজিদে যায় নামাজ পড়ি তালিম নিই। আব্দুল ভাই আমাদের তালিম দেয়। শুনেছি আব্দুলা ভাই সিরিয়াই গিয়ে ৩ মাসের ট্রেনিং নিয়ে এসেছে। তবে তার আগে জানতে ও বুঝতে হবে। ১ মাসের ট্রেনিনের প্রথম ১০ দিন আমি সামনের কাতারে চলে এসেছি আমরা এই ১৫ জনের ভিতর ৫ জন পরের চালানে সিরিয়া যাবে। আমি হাদিন কুরআন খুব ভালো ভাবে অওত্ত করে নিয়েছি। জিহাদী আয়াত না পড়লে মনে হয় আমার শরীল মনের গেছে জিহাদী আয়াত ইয়াদ না করা ছাড়া মনে জোস আসেনা। এজন্যই আমি সামনের কাতারে।

ট্রেনিং শেষের দিকে আমি কাঁটাতারের বেড়া কাঁটা আর জৌর্দ বোম বানানোই হাত পাকা করে ফেলেছি। সামনের মাসেই আমাদের ডেট ট্রেনিং নিয়ে এসে এই বাংলাই আমি আমার সাহাবি যোদ্ধারা প্রতিষ্টা করবো ইসলামী খেলাফাত। চালু করবো শরিয়া আইন। দেশ চলবে মরুর মতো করে। দেশে প্রতিষ্ঠা হবে শান্তি।

কষ্টের জিহাদী শিক্ষা শেষ দেশে এসে আমার সবাই নিজেদের সাথে যোগাযোগ রাখছি। ছোটখাটো একটা দুইটা কাজও করে ফেলেছি। বলতে পারেন এসবের তো শুরু।



বড় লিডার অনেক দিন ফোন করেনি। লোকটা ভালো লোকটারে কিছু একটা দেখাতে পারলে আমি টপে। তবে লোকটাকে আমার ফোন দেওয়া উচিত।

: আসলামালাইকুম নেতা
: কে?
: আবু মুহাম্মদ
: কেমন আছো আবু মুহাম্মদ
: চি আল্লার রহমতে ভালো। আপনি?
: দেশে অশান্তি আমরা ভালো থাকি কি করে বলোতো।
: জি হুজুর।
: তোমারে একটা কাজ দিবো পারবা। আমাদের আলী, ওল্লিওল্লাহ্, মুজাহিদ এসব এতো দক্ষ খেলোয়ার হয়েও পারলো না। তুমি চেষ্ট করে দেখেতে পারো  বোঝোই তো সবিই হবে দলের।
: আমি করবো নেতা।
: ওকে। তুমি আমার সাথে ২৪ তারিখে দেখা করবে খরজ পাতির নিয়ে যাবে।
: জি সালামাইকুম।

নেতার বাড়ি টাকা আনতে আমার একাই যেতে হবে। আবু সালে লোক দেখতে ভালো হলেও চোর স্বাভাবের।মাগরিবের নামাজ পগে আমি নেতার বাড়ির সামনে। নেতার এক পিয়ন এসে আমাকে নেতার বাড়ির ভিতর নিয়ে গেলো। আলিশান বাড়ি নরম সোফা পায়ের নিচে পর্যন্ত নরম বাইরে গরম থাকলেও শরিলে নরম শীতল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। আমার বাপের কম আয় বলে আমাদের বাড়ি টিনের। আমি যখন হয়েলাম তখন আমার বাপ গানবাজনা করতো আমারর গাঁয়ে কসম কাটিয়ে গান বাজনা বন্ধ করে তারে নামাজ কালামে পাঠাই। আমারে তখন মাদ্রসাই দেবে বলে নিয়ত করে। আমিই ভাবি যখন আমি স্কুলে পড়তাম তখন নজরুল নিয়ে পড়ে থাকতাম। মানুষ নিয়ে। নেতার জন্য অপেক্ষা করতে করতে একটা মেয়ে এসে কিছু খাবার দিয়ে গেলো। এটা মনে হয় নেতার মেয়ে দেখতে পরির মতো। একটা মেয়ে এতো সুন্দর হয় কেন?  তাহলে হুরেরাও তো তারও সুন্দর। হুজুরের এই মেয়ে যে ছেলে বিয়া করবে তার জিবন হবে সুখের সে পৃথীবিতে থাকেই পেয়ে যাবে হুজুর। আবশেষে নেতা আসলো ছবিতে যারে দেখেছি ইনি সে তো লাল দাড়ি মাথাই গোল টুপি গাঁয়ে কালো গাউন উচু লম্বা, কথা সেই ওয়াজের সুরের মতো। আহা কতই না মধু । ৩০ হাজার টাকা দিয়ে নেতা আমাদের সব বুঝিয়ে দিলো। কিভাবে কোথায় কখন কোন সময়ে হামলা করতে হবে কটা বোম ফুটাকে হবে সব।



আমিনুল, জাহিদ,আবু সালে আর আমি টার্গেট চড়ুই তলা কাঁলি মন্দিরে দিকে। হাতে দুজনের দুইটা শর্ট গান আমিনুল আবু সালে গাড়ি নিয়ে চলে গেলো মন্দিরে মূল ফটকে। আমি গাড়ি থেকে নেমে মূর্তিটার মাথায় গুলি করলাম। চুরর্মার হয়ে গেলো মূর্তিটার মাখা।  আমার মাথার ভিতর ঝিম ধরেছে। যখন আমি সাম্যবাদ করতাম এই মূর্তিকে আমি শিল্প ভাবতাম দেখে দুচোখ ভরে যেতো। প্রেমিকার কথা মনে পড়ে যেতো যেনো আমি তার হাত ধরে হাটছি বহু দুর। সে পথ শেষ হবার নয়। চারটা বোমা ফাঁটানো হয়েছে পুরা মন্দিরে আমার চার জন ধামাকা বাজিয়ে দিয়েছি। আল্লা হুয়াকবার ধনি দিয়ে চলে এসেছি মুসলমানের দেশে কোন মূর্ত থাকবে না।

পরের দিন পত্রপত্রিকায় আমার ছবি সহ নাম বেরিয়েছে ফোন বন্ধ থাকাই কেউ খোজ নিতে পারেনি ফোন খুলেই বড় নেতার ফোন তিনি দেখা করতে বলেছে আজিই ঈসার পরে তার বাড়িতে।

আমি গোপনে বড় নেতার বাড়িতে চলে এসেছি বড় নেতা মনে হয় আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল। সোফাই বসার পর দেখলাম একটা ছেলে ট্রেতে করে দুইটা ব্লা লেবে এক বতল মিনারেল ওয়াটার কিছু ছোলা দুই পেকেট গোল্ডিফ সিগারেট এনে রাখল। মাঝে মাঝে মদ খাওয়ার অভ্যাস ছিল তাও সে তাড়ির মদ এটা দেখে আমার জিব লফ লফ করছে। আমি একটা বিষয় অনুমান করছি সেটা হলো বড় নেতা আমার সাথে খুব ফ্রি হতে চাচ্ছে আমি একটা পুরা মন্দির জ্বালিয়ে দিয়েছি। এটা বড় কাজ। আমি বড় নেতার সাথে বসে সারাবান তাহুর পান করলাম নেতা তাকে নেতা না বলে হুজুর বলে ডাকতে আদেশ করলো। 'আবু মুহাম্মদ  তোমার জন্য একটা উপহার আছে যাও ওই ঘরে যাও। আমি নরম তুলার উপর দিয়ে ওই ঘরের দিকে হাঁটছি। ঘরের ডিম লাইটের আলো জ্বলছে। আমি খাটের উপর বসে একটা মেয়ে এসে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলো। আমার দিকে মুখ ঘুরাতেই দেখলাম এই সে খাবার দিয়েলো হুজুরের মেয়ে। মেয়েটা আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে বল্লো আমি আজকে রাতের তোমার দাসী। ঘনো কালো চুল ওর গাঁ থেকে তিব্রতা নিয়ে একটা গন্ধ বের হচ্ছে। আমার পশোম সোজা হয়ে যাচ্ছে। আমি মহোমহিত হয়ে পড়ছি। ওর চুলে গন্ধ গাঁয়ের গন্ধ আর নরম তুলতুলে শরিল আমকে উত্তজিত করে দিচ্ছে। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে মেয়েটা কে?  কি তার পরিচয় নাম কি তার?  সেই কি হুজুরের মেয়ে যেটা আমি ধারনা করেছি। হুজুরের মেয়েরা কি এমন হয়। যারা তাদের বাপের কথাই ইসলামের জন্য মূর্তি ভাঙ্গে তাদের সেবা দেয় দাসী হয়ে। কিন্তু সাম্যবাদে সবাই সমান মানুষ, মদ আর নারী আমাকে কাম উত্তেজিত করে দিচ্ছে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। আজকে  সারারাত ও আমার ওযেই হোক ও আমার হুজুরের মেয়ে হোক কাজের মেয়ে হোক হিন্দু হোক তবুও ও আমার। আমার মাথার ভিতর ঝিম ধরছে আমি মনে হয় পানিতে ডুবে যাচ্ছি। আহ্ কি শান্তি সুখ চরম সুখ।


ইদানিং আমার শরিল টা ভালো যাচ্ছে না সেদিন মালো পাড়াই ভুলুর মেয়েটার দেখে আমার ঈমানি জোস বেড়ে গিয়েছিলো বলে নেতার কার থেকে অনুমতি নিয়ে ভুলুর বাড়িতে গিয়ে চুপিসারে ভুলুর মেয়েটারে সেবা নিয়ে এসেছি। তার বদলে অবশ্য ওদের ৫০ কেজি চাল ১হাজার টাকা আর কিছু দিয়ে এসেছি ভুলুর মেয়েটা বেস সুন্দির ফর্সা আমি ভাবছি ভুলুর মতো মালো কি ভাবে এতো সুন্দর মেয়ে জন্ম দিলো। এই মেয়ে দেখলে মনে হয় এক বিদেসীনি। চিকন যে ভারতী নায়িকা দিপীকা। সেদির রাতে ওই কচি মেয়েটা আমা ইমানি জোস বুঝতে পেরেছে। আল্লা হুয়াকবার বলে যখন ওর পরিক্ষা নেওয়া শুরু করলাম তখন ও মা বলে চিতকার করছিল। শুনতে দারুন লাগছিল। সুন্দর মোহমহিত। শেষে ওদের বিছানার কাপড় সাথে করে নিয়ে আসতে হয়েছে রক্তে ভিজে গিয়েছিল। আমি একটা নতুন কাপড়ও কিনে দিয়েছি।

ডাক্তার দেখাতে হবে শরীর সুখিয়ে যাচ্ছে, ভুলুর মেয়েটা শুনলাম মারা গেছে কি একটা ভায়রাস হয়েছিল তাই। শুনে খুব খারাপ লাগছে। তবে জান্নাতে গিয়ে যদি বাহাত্তার টা হুর বেছে নেওয়ার যায় তবে আমি দশটা ভুলুর মেয়ে মতো চাইব আল্লার কাছে। আমি আল্লার খাস বান্দা জিহাদ করি নাস্তিক মারি নানা অপারেশনে যায় মন্দির ভাঙ্গি।  আমার ইচ্ছা আল্লা পুরন করবেই।

হুজুরের বাড়ির দাসী মেয়েটার কাছে যাওয়া হয়নি অনেক দিন আজ যেতে হবে। হুজুর বাড়িতে নেয় কিন্তু আমার জন্য হাজার ৫ টাকা রেখে গেছে সামনে একটা বড় অপারেশন একটা নাস্তিক কুপাতে হবে। চার জন মিলে ওদের কাউরে আমি চিনিনা তবে সামনে জুম্মা সবাই এক সাথে নামাজ পড়ে পরিচিত হয়ে মিশনের বিষয়ে আলাপ করবো। আজা দাসী ভালো সার্ভিস দিয়েছে। শালি বলে কি আমারে বিয়া করইরা নেয় আপনারে টা আমার দারুন সুখ দেয়।

ডাক্তারের রক্ত দিয়ে আসলাম কাল সকালে রির্পোট দিবে কিন্তু কাল তো নাস্তিক কুপানো মিশন। হারামিটার মেরে তার পর দেখবো আমার কি হয়েছে ঔষধ খাবো হুজুরের দোয়া নেবো একটু সুরা কালামম পড়ো রোগ মুক্তি। আমার চোখের চারদিকে থেকে একটা অন্ধকার ভাব আসছে সমজিদে ঈশার আজান দিচ্ছে আমি আজ নামাজে যাবোনা। সাম্যবাদ করার সময় আমি নামাজ পড়তামনা আমি তখন মানুষের ভালোর জন্য সেই সময় টুকু ব্যায় করতাম। মানুষ আমার চোখে ছিল সম্মানের এখন শুধু মুসলমানেরা আমার চোখে সম্মানের। বাকি সব শত্রু। কাল সকালে নাস্তিক কুপাবো ইনশাল্লা। পড়ো রোগ মুক্তি। আমার চোখের চারদিকে থেকে একটা অন্ধকার ভাব আসছে সমজিদে ঈশার আজান দিচ্ছে আমি আজ নামাজে যাবোনা। সাম্যবাদ করার সময় আমি নামাজ পড়তামনা আমি তখন মানুষের ভালোর জন্য সেই সময় টুকু ব্যায় করতাম। মানুষ আমার চোখে ছিল সম্মানের এখন শুধু মুসলমানেরা আমার চোখে সম্মানের। বাকি সব শত্রু। কাল সকালে নাস্তিক কুপাবো ইনশাল্লা।মম পড়ো রোগ মুক্তি। আমার চোখের চারদিকে থেকে একটা অন্ধকার ভাব আসছে সমজিদে ঈশার আজান দিচ্ছে আমি আজ নামাজে যাবোনা। সাম্যবাদ করার সময় আমি নামাজ পড়তামনা আমি তখন মানুষের ভালোর জন্য সেই সময় টুকু ব্যায় করতাম। মানুষ আমার চোখে ছিল সম্মানের এখন শুধু মুসলমানেরা আমার চোখে সম্মানের। বাকি সব শত্রু। কাল সকালে নাস্তিক কুপাবো ইনশাল্লা। পড়ো রোগ মুক্তি। আমার চোখের চারদিকে থেকে একটা অন্ধকার ভাব আসছে সমজিদে ঈশার আজান দিচ্ছে আমি আজ নামাজে যাবোনা। সাম্যবাদ করার সময় আমি নামাজ পড়তামনা আমি তখন মানুষের ভালোর জন্য সেই সময় টুকু ব্যায় করতাম। মানুষ আমার চোখে ছিল সম্মানের এখন শুধু মুসলমানেরা আমার চোখে সম্মানের। বাকি সব শত্রু। কাল সকালে নাস্তিক কুপাবো ইনশাল্লা।

চাপাতির ট্রেনং আমার ভালো ভাবে নিয়া আছে মুনতাচ্ছির, কামরুল,হামজা আর আমি আবু মুহাম্মদ চার জন চারটা চাপাতি কুপাবো ঘাড়ের অগ্রভাগে নাস্তিকটার যাওয়া আসার পথ আমাদের মুখস্ত। ওই তো নাস্তিটার দেখা যাচ্ছে বের হয়েছে রাস্তাই। বাংলাই রাস্তাই মসুলমানের দেশে কোন নাস্তিক থাকবেনা। এদেশে নাস্তিদের কোন ঠাঁয় নেই। আমি ঘুম ঘুম অনুভাব করছি। পকেটে ফোন বেড়ে উঠল। এই সময় কে..! 


: হ্যালো। আবু মুহাম্মদ
: জি বলেন
: আমি ডাক্তার বলছিলাম। আপনার এইচাআইভি পজেটিভ।
আমার মাথার ভিতর চক্কর দিচ্ছে আমি মনে হয় পড়ে যাবো। সহোযোদ্ধারা নাস্তিকটাকে কুপাচ্ছে জোরে জোরে বলছে আল্লা হুয়াকবার আল্লা হুযাকবার আমার গাঁয়ে রক্তের ফিনকি পড়ছে। সাম্যবাদে রক্তের ফিনকি পড়ে না, সাম্যবাদে মানুষ হত্যা করা লাগেনা সাম্যবাদে আছে শুধু ভালোবাসা। কোন ঘৃনা নেয় সাম্যবাদে। আমা মারা যাচ্ছি মনে হয়। আমার সাম্যবাদীতা জেগে উঠেছে মরে যাওয়াই শ্রেয়। এই পৃথীবিতে মানুষের ঠাঁয় নেয়। মসুলমানের কাছে হিন্দুর ঠাঁয় নেয় তেমনি হিন্দুর কাছে মসুলমানের ঠাঁয় নেয়।

লিখেছেন:সজীব হোসেন

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কুরআনের ভুল ও অযৌক্তিকতা-প্রথম পর্ব

কুরআনের ভুল ও অযৌক্তিকতা- সুরা ফাতিহা(সম্পূর্ণ একসাথে) সবার যৌক্তিক সমালোচনা,সংশোধনী আশা করছি! . প্রসঙ্গ:বিসমিল্লায় গলদ প্রশ্ন: ১.কুরআন আল্লাহর কথা হলে এটাও কি আল্লাহর কথা? নাকি এটা কুরআনের অংশই নয়? ২.এটা কি সুরা ফাতিহার অংশ নাকি অংশ নয়? ৩. আল্লাহ কি আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করেন? নাকি আল্লাহ তার আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করেন? ৪.দয়াময় ও পরম দয়ালু বলে কেউ কি নিজের ঢোল নিজে পেটায়? আল্লাহ এভাবে নিজের ঢোল পেটাচ্ছেন কেন? ৫.কেউ কথা বললে কি নিজের পরিচয় না দিয়েই বলে রহিম/করিমের নামে শুরু করছি? আল্লাহ কেন এমনভাবে নিজের পরিচয় না দিয়েই আল্লাহর নামে শুরু করছেন? ৬.এ আয়াতটি কুরআনের প্রথমে আসবে কেন? যখন আল্লাহ সুরা আলাকের মাধ্যমে কুরআন নাযিল শুরু করেছেন। বক্তৃতার মাঝে এসে কি কেউ বলে আমি শুরু করছি? ৭.সাধারণত কাউকে কিছু শিক্ষা দিলে,"বলো,পরম করুনাময়ের নামে শুরু করছি" এভাবে শিক্ষা দিতে হয়। এ আয়াত এভাবে নয় কেন? নাকি এটা নবীর কথা? ৮.আল্লাহ কে সে পরিচয় না দিয়েই তার নামে শুরু করলে তো প্রথমেই আপনাকে অন্ধবিশ্বাসী হতে হচ্ছে! না জেনেই কারো নামে প্রশংসা করা কতটা যৌক্তিক? ৯.যদি মেনে নিই দয়াময় ও পরম দয়...

কুলীন ব্রাহ্মণের কন্যা, বিবাহ বণিক এবং রবার্ট মার্টনের সমাজচিন্তা

ব্রাহ্মণদের বহুবিবাহ প্রথার জন্য প্রায় উনবিংশ শতক পর্যন্ত বাঙ্গালী সমাজ কলঙ্কিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গ বা রাঢ় অঞ্চলে ব্রাহ্মণের অভাবের কারণে একাদশ শতাব্দীতে উত্তর ভারতের কনৌজ থেকে বাংলায় ৫টি গোত্রের ব্রাহ্মণকে আনা হয় বলে জানা যায়। এরাই বাংলায় কুলীন ব্রাহ্মণ নামে পরিচিত হয়। এই কুলীন ব্রাহ্মণদের পদবী ছিল বন্দ্যোপাধ্যায়,  গঙ্গোপাধ্যায়, চট্টোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায় ও ভট্টাচার্য। সামাজিক মর্যাদায় এই কু্লীন ব্রাহ্মণদের মর্যাদা সমাজের অন্যদের চাইতে, এমনকি অন্যান্য ব্রাহ্মণদের চাইতেও উপরে ছিল। মধ্যযুগে বাংলায় আসার পর, এদের বিবাহের যে প্রচলিত নিয়ম তৈরি হয় তা হল, একজন পুরুষ কুলীন ব্রাহ্মণ কুলীন বা অকুলীন যেকোন ব্রাহ্মণ বংশেই বিয়ে করতে পারবেন, কিন্তু কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যার বিয়ে হবে কেবলমাত্র কুলীন বংশেই (যদি কুলীন কন্য কুলীন বংশের বাইরের কাউকে বিয়ে করত তবে তার পিতা কৌলিন্য হারাতো)। তো, কুলীনদের মধ্যে নারী ও পুরুষের এই বৈবাহিক বৈষম্যের ফলাফল কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। দেখা গেল, কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যাদের জন্য পাত্র পাওয়া যায় না। কুলীন পুরুষেরা কুলীন পাত্রী না পেলে ঠিকই অকুলীন কন্যাকে বি...

জাতীয়তাবাদ আরেকটি ধর্ম বই

বাংলাদেশীরা ধর্মভীরু। ইসলাম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ও জাতীয়তাবাদ নামক ধর্মগুলোর প্রতি বাঙ্গালীর দুর্বলতা নতুন কিছু নয়। আমরা যারা মুক্ত-চেতনাকে প্রয়োজনীয় মনে করি, যুক্তিকে ধর্মের ওপরে স্থান দেই তাদের অনেকেই ধর্মের মতই সামনে আসা অন্যান্য প্রতিটি ধারনা ও প্রস্তাবনাকেই যুক্তি দিয়ে বুঝতে চাই, খতিয়ে দেখতে চাই। বা দদূএকটি রূপ আধ্যাত্মিকতা ও ধর্ম হিসাবে মানুষের দলবদ্ধ সমাজব্যবস্থার দ্বিতীয় বড় চালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রস্তরযুগে আরো একটি ঘটনা ঘটতে শুরু করেছিল। মানুষেরা নিজেদের গ্রাম বা নগরকে কেন্দ্র করে একটি সামষ্টিক পরিচিতি অনুভব করে শুরু করেছিল। বোধ করি তখন থেকেই মানুষের দলবদ্ধতার তৃতীয় চালক জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক যাত্রা শুরু। বর্তমানে সারা দুনিয়ায় জাতীয়তাবাদ নানান চেহারায় দলবদ্ধতার সবচাইতে শক্তিশালী চালক হিসাবে বিদ্যমান। একটি নৃগোষ্ঠী যখন পুঁজিবাদী হতে শুরু করে, যখন সে একটি কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র গঠন করে তখনই সে একটি জাতিতে পরিণত হয়। ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ আমাদের দেশের রাজনীতিতে কাছাকাছি আছে ইতিহাসের শুরু থেকে। মহাভারত থেকে আজকের খালেদা-হাসিনার রাজনীতিতে ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ একে অন্যের হাত...