এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ধর্ম বিষয়ে আমার প্রশ্ন গুলো তৃতীয় পর্ব

আমি ফাতিমা জান্নাত বলছি।
এর আগের পর্ব গুলো মিস করলে পড়ে নিতে পারেন।
প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব
আমার নবম প্রশ্ন


ক) একজন নারী পর্দা করার পরও কেনো ধর্ষিত হয়?
খ) সৌদি আরবে নারীদের ধর্ষন করার পেছনে কারনগুলো কি?

নারীদের পোশাক এবং ধর্ষণ।
আজ অন্য কোনও কথা না সরাসরি ৩টা দেশের উদাহরণ টেনে লেখা শুরু করছি।

আমেরিকা আমাদের দেশের অনেকে বলেন আমেরিকাতে নাকি মিনিটে মিনিটে সেকেন্ডে সেকেন্ডে ধর্ষণ হয়। ভালো কথা। কিন্তু যারা বলেন তারা সুযোগ পেলে পরনের কাপড় খুলে নেংটা হয়ে সবার আগে আমেরিকার দিকে দৌরাবেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কাউকেই তো দেখলাম না ধর্ষণের ভয়ে কিংবা ধর্ষিত হয়ে আমেরিকা থেকে পালিয়েছে। আপনি কিংবা আপনার পরিবারের কেউ হয়ে থাকলে জানাবেন তো।

যাইহোক আপনাদের মতে আমেরিকাতে নারীদের খোলামেলা পোশাকআশাক এবং জীবনযাপনে পুরুষেরা উত্তেজিত হয়েই নারীদের ধর্ষণ করছে, তাইনা? ওখানে কিন্তু পুরুষরাও ধর্ষিত হয়, সংখ্যায় অনেক কম তবু হয়। মাথায় ঢুকছেনা নারীরা আবার কি দেখে উত্তেজিত হয়? ইয়াহ আল্লাহ!!! এখন কি পুরুষদেরও বোরখা পরে থাকতে হবে ? মশকরা করলাম!!! পুরুষ মানুষের সতর ঢাকলেই হবে তাদের আবার পর্দা কিসের।

সমস্যার সমাধান- নারীদের কঠিন পর্দার মধ্যে চলতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া চলবে না।

বাংলাদেশে একটা মুসলিম দেশ হয়েও এখানে কি করে ধর্ষণ হয়। আমাদের দেশের অনেক মুসলিম ভাই বোনেরা বলেন-
আরে বাংলাদেশ কি একটা সহিহ মুসলিম দেশ হল। নামে মুসলিম কামে সেক্যুলার। মুসলিম দেশ হচ্ছে সেই দেশ যেখানে কোরান হাদিসের আলোকে শরীয়তী আইন চলে। আর বাংলাদেশের বেশিরভাগ মেয়েরাই সহিহ নিয়মে পর্দা করেনা তাইতো অবলা, নিরীহ পুরুষগুলো ওদের দেখে উত্তেজিত হয়ে সাধারণ নারী থেকে শুরু করে ছোট বাচ্চা, শিশু, পশু এমনকি হিজাব পরিহিতা নারীদেরকেও ধর্ষণ করে।
সমস্যার সমাধান- নারীদের কঠিন পর্দার মধ্যে চলতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া চলবে না।


তাহলে বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে কাহিনী কি? ওখানে তো রাত দিন আল্লাহর নাম কালামের জিকির চলে। আর সবাই ঢাকা, সবকিছু ঢাকা। ওখানে কেন কোনও নারী এমনকি ছোট ছোট বাচ্চা ছেলে পর্যন্ত ধর্ষণ হয়? ওখানকার পুরুষেরা কি দেখে উত্তেজিত হয়? পর্দা করেও তো কোনও কাজ হচ্ছেনা।
সমস্যার সমাধান - আমার জানা নাই।


সৌদি আরব কোরান হাদিসের নিয়মে শরীয়তী আইন মেনে চলা পৃথিবীর অন্যতম মুসলিম দেশ। নারীরা ওখানে কঠিন হিজাব নিকাব মেনে চলে। যেদিকে তাকাবেন সেদিকে সেইরকম পর্দা আর পর্দা। ইদানীংকালে যদিও প্রিন্স বিন সালমানের বদৌলতে কিছু ব্যতিক্রম ঘটছে।


যাইহোক সৌদি আরব প্রতি বছর বাংলদেশ সহ পৃথিবীর অনেক দেশে থকে নারীদের খাদ্দেমা/ কাজের মেয়ে হিসেবে চাকরি দিয়ে নিয়ে যায়। এবং এবং এবং… ওইসব নারীরা ধর্ষিত, যৌননির্যাতিত, অত্যাচারিত এবং গর্ভবতী হয়ে দেশে ফিরে আসে।
ব্যাপারটা এতোটাই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে যে এরমধ্যে অনেক দেশ সৌদি আরবে নারী পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই বলেই হয়তো বাংলাদেশ এই ব্যাপারে কোনও শক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। আর প্রায় দিন সংবাদে ঐ নির্যাতিতা নারীগুলোর বুক ভারি হয়ে আসা কষ্টের কথাগুলো শুনি।

আর এখানেই আমার প্রশ্ন-

বাংলাদেশ এবং আমেরিকাতে নাহয় মেয়েদের ছোট, আঁটশাঁট এবং হিজাব বিহীন পোশাক দেখে পুরুষেরা ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন করে তাহলে সৌদি আরবের মত কট্টর মুসলিম দেশে যেখানে ১০০% সবাই কঠিনভাবে ঢেকেঢুকে চলে সেখানে কেন যৌন নির্যাতন, ধর্ষনের মত জঘন্য অপরাধ হয়? কেন?


আল্লাহর রাসুলের দেশ যেখানে সবাই কোরান হাদিসের অর্থ এবং নির্দেশনা অক্ষরে-অক্ষরে, বর্ণে-বর্ণে বুঝে কেন ধর্ষণ করে? যেই দেশে কঠোর শরিয়া আইন চলে ওখানে কোন সাহসে পুরুষরা ধর্ষণ করে?

সৌদির আরবের পুরুষেরা ঠিক কি দেখে উত্তেজিত হয়ে গরিব অসহায় মেয়েদের ধর্ষণ করে?

আবার জিজ্ঞেস করছি - সৌদির আরবের পুরুষেরা কি দেখে উত্তেজিত হয়ে গরিব অসহায় মেয়েদের ধর্ষণ করে?

অনেকে বলবেন ঐসব নারীরা মাহরাম ছাড়া গেছে কেন। আমি বলব ভণ্ডামি ছাড়েন ওদের মাহরাম ছাড়া নিছে কেন? আর ওরা ওখানেতো পর্দা করেই চলে। তাহলে কেন?

ঐ দেশের কিংবা আমাদের দেশের আমেল ওলামারা কি চৌকীর তলে ঢুকে বসে থাকেন? পান থেকে চুন খসলে যাদের মাথার টুপি আর পরনের পায়জামা গরম হয়ে যায় এই ব্যপারটায় কেন কোনও বাধা সৃষ্টি করতে পারে নাই?

ইয়াহ আল্লাহ!!! নাকি উনারা বিষয়টাকে জায়েজ/ হালাল মনে করেন?

যাইহোক খুব পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে মেয়েরা পর্দা করেও ধর্ষিত হচ্ছে। সৌদি এরাবিয়ান লোকাল মেয়েরা হচ্ছে কিনা জানিনা কারণ ওদের অভ্যন্তরীন ব্যাপার ওরা বহিবিশ্বের কাছে অত সহজে ফাঁশ হতে দেয়না।
আমাদের মেয়েরা আমাদের দেশ পর্যন্ত আসতে পেরেছে বলেই আমরা উনাদের পর্দা করা নারী দেখলেও যৌন উত্তেজনা জেগে উঠে এই মূল্যবান তথ্যটি জেনে গেলাম।। যদিও আজকাল সৌদি মেয়েরা যেভাবে দেশ ছাড়ছে উনাদের ভেতরের খবরও খুব শীঘ্রই ফাঁস হবে।।

একজন ইসলামের অনলাইন দাঈর সাথে কথা হয়েছিল। উনার যুক্তি সৌদি আরবে এবং বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে সবাই পর্দা করার পরও ধর্ষণ হচ্ছে কারণঃ


পর্ণগ্রাফির নেশা...
পর্ণগ্রাফি একটা নোংরা এবং ক্ষতিকর বিষয়। সারা পৃথিবীতে ওটা এটা ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়েছে অস্বীকার করার কোনও উপায় নাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এটা দমনে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে এটা কামনা করি। আর আমাদের এবং সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের সন্তানদের সঠিক নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে আরও উদ্যোগী হওয়া।


টিভি মিডিয়ার প্রভাব।
ইনটারনেটের সহজলভ্যতা
ফেইছবুকের আসক্তি।
যে যুগে যেটা আবিষ্কার হবে সে যুগে সেটাই তো চলবে। আলেম এবং দাঈ রা নিজেরাই এগুলো ছাড়া চলতে পারেন না আরেকজনকে কেনো বলছেন।


পর্দা করতে আমরা মুসলিম নারীদের বলা হয়েছে আমরা করবো কিন্তু অমুসলিমরা কেন করবে? তারা তাদের মত পোশাক-আশাক জীবনযাপন করবে এটাই কি স্বাভাবিক না? এখন এই ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মধ্যে দিয়ে উঁকি মেরে মেরে অমুসলিম মেয়েদের দেখে মুসলিম ছেলেরা যদি নিজেদের নারী, শিশু আর পশুকে ধর্ষণ করে তাহলে সমাধান কি ..?

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া কেও নাহয় বোরখা পরান। স্যরি, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন।
ইনফ্যাক্ট পুরা পৃথিবী থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন যা যা দেখে আপনাদের কথায় কথায় লালা ঝরে, কথায় কথায় আপনাদের যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয় কথায় কথায় ধর্ষণ করতে মন চায়। তবে শেষ একটা প্রশ্ন করছি…।

সবকিছু থেকে বিচ্ছিন হওয়ার পরও ধরেন আপনার সামনে কুকুর, বেড়াল কিংবা কোনও পশুকে যদি যৌনকর্ম করতে দেখে উত্তেজিত হন তাহলে কি করবেন? ওদেরকেও কি বোরখা পরাবেন নাকি চার দেয়ালের মধ্যে থাকতে ঊৎসাহিত করবেন? লুল!


(আজকের টিপসঃ : আপনাদের পরিবারের যে কোন একজন নারীকে এক বছরের জন্য একা আমেরিকা এবং এক বছরের জন্য একা সৌদি আরব পাঠিয়ে দেখুন। আমেরিকা( আপনাদের মতে বেপর্দার দেশ) থেকে কিছু চকোলেট-চুইংগাম আর কয়েকটা সাম্পু-সাবান ব্যতীত কিছুই নিয়ে ফিরবেনা কিন্তু পর্দার দেশ সৌদি আরব থেকে ১০০% নিশ্চিত থাকুন আপনার জন্য ফুটফুটে একটা ভাই কিংবা বোনের সুসংবাদ নিয়ে অবশ্যই ফিরবে ইনশাল্লাহ।


আমার এগারোতম প্রশ্ন

ক) মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই( Muslim brotherhood) কিংবা হিন্দু/ খ্রীষ্টান/ বৌদ্ধ যে কোন ধর্মের ভ্রাতৃত্ব জিনিসটা কতটুকু বাস্তবে প্রয়োগ হয়?

খ) ক্ষমতার দাপট কিংবা সম্পদের লোভের কাছে এই ভ্রাতৃত্ব কতটুকু টিকছে? আদৌ কি কোনকালে কেউ ক্ষমতা কিংবা সম্পদের উপর ভ্রাতৃত্বকে স্হান দিয়েছিলো?

বোধহয় ২৮/ ২৯ বছর আগের কথা আমি অনেক পিচ্চি ছিলাম তবু মনে আছে। আমাদের বাসার সামনে যখন বিকেলে খেলতে বের হতাম আমাদের সিনিয়র পিচ্চি বন্ধুরা স্লোগান দিয়ে মিছিল মিছিল খেলতো আর আমরা জুনিয়ররা ওদের পেছনে পেছনে দৌড়াতাম। তো স্লোগানগুলো ছিলো:

বাপের বেটা সাদ্দাম, কোটি টাকা তাহার দাম ।
এক টাকার বুশ, খায় শুধু ঘুষ, ছাড়ে ঠুসঠুস( fart)।

কে সাদ্দাম কে বুশ কাউকেই চিনতাম না শুধু জানতাম বুশ মুসলমানদেরকে মারছে আর সাদ্দাম তাদের রক্ষা করছে। পিচ্চি সিনিয়রদের দেখে দেখে আমরাও কোথাও কোন লাল পিপড়া দেখলে নিজেদেরকে মুসলিম বাহিনী মনে করে ওদেরকে বুশের বাহিনী বানিয়ে পা দিয়ে পিষে পিষে মারতাম। ঘরে আমার চাচাও দেখি একদিন সাদ্দামের দুইটা বিশাল পোষ্টার লাগালো।

সবার মুখে শুধু ঐ বুশ সাদ্দাম গল্প। এমনকি আমার আব্বাকেও বলতে শুনেছি “ শালা বুশ। মুসলমানদেরকে মেরে শেষ করে ফেলছে। শীঘ্রই গজব পরে মরবে সে”
হায়রে নিয়তি! এখন নিয়মিত ঐ শালার দেশেই যাওয়া আসার মধ্যেই থাকেন আমার বাপ। ২৮/ ২৯ বছর আগে শালাকে দেওয়া উনার গজব গতবছর মাত্র ৯৪ বছর বয়সে ফলেছে তাও খুব স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত কারনে।

যাইহোক বুশ সাদ্দাম কাহিনী ওখানেই শেষ এর বেশী আর জানা হয়নি। যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম এক কুয়েত প্রবাসী বন্ধুর সাথে পরিচয় হলো। একদিন কি একটা গল্পের প্রসঙ্গে হঠ্যাৎ বলে উঠলো সে সাদ্দামকে প্রচন্ড ঘৃনা করে। আমি রীতিমতো ধাক্কা খেলাম কথাটা শুনে। তারপর আস্তে আস্তে ওর থেকে শুনলাম আমাদের বাপের বেটা সাদ্দাম তেল আর ক্ষমতার জন্য কিভাবে নিরীহ কুয়েতিদের মেরেছে। আমেরিকা বাগড়া না বাঁধলে হয়তো পুরো কুয়েতকেই মাটির সাথে মিশিয়ে দিতো। আমার ফ্রেন্ডের মতো প্রবাসীরা কি পরিমান আতংক এবং অমানবিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে বাই রোডে বর্ডার পার করে অন্য একটা রাষ্ট্রে ঢুকে তারপর বাংলাদেশে ফিরেছিলো!


পিচ্চিকালে ঐ কাহিনীগুলো আমি জানতাম না কিন্তু আমার বাপ চাচারা তো সব জানতো তবু কেনো সাদ্দামকে সাপোর্ট করতো? ‘মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই’ হয়তো তাই! এক ভাই আরেক ভাইদের একটু আধটু গনহত্যা করতেই পারে। যেমনটা করেছিলো ১৯৭১ সালে আমাদের আরেক বড়ো ভাইয়া পাকিস্হান। লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে মেরে, নারীদের ছিড়েবিড়ে ধর্ষন করে একজন যোগ্য মুসলিম ভাইয়ের মতো ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের’ উজ্জল দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছিলো।


যাইহোক সারাজীবন জানতাম ইসলামের প্রথম চার খলিফার( খালেফায়ে রাশেদীন) এবং সাহাবীদের আমলটাই ইসলামের ইতিহাসের স্বর্নযুগ এবং ‘মুসলিম মুসলিম ভাই ভাইয়ের’ এক জ্বলন্ত উদাহরন ছিলো। কিন্তু কিছদিন আগে যখন আমার ঐ জানাটা যাচাই করতে গেলাম, দেখলাম ক্ষমতা আর সম্পদের লোভে এক মুসলিম অন্য মুসলিমের দ্বারা সুন্দর সুন্দর হত্যাযজ্ঞের কাহিনীতে ভরা ঐ স্বর্ন যুগ। স্বয়ং মুহম্মদ সা: এর খলিফা, সাহাবী এবং পরিবারবর্গরাই ক্ষমতা এবং সম্পদের লোভের কাছে ‘মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই’ থিউরিকে ঠাট্টা মশকরা বানিয়ে কি কি খেলায় মেতেছিল নিজ নিজ দায়িত্বে একটু পড়ে নিবেন।

হিন্দু দাদা, দিদিরা যদি কিছু বলতে চান এর আগে জানিয়ে দেই আমি কৌরাভ, পাণ্ডবদের মধ্যেকার অসাধারন ভ্রাতৃত্ব আর কুরুক্ষেত্রে আরেক ভ্রাতা দেবতা কৃষ্ণের ভূমিকার কাহিনীটা ভালোই জানি। আর আপনাদের অন্যান্য দেবতাদের মধ্যেকার কিরকম ভ্রাতৃত্ব আছে তারও অল্পস্বল্প জ্ঞান আছে।

যাইহোক অনেক অনেক কঠিন কথা বলে ফেলেছি। সবাই নিশ্চয়ই মহাবিরক্ত। হাতে পর্পকন আর জুসটুস নিয়ে চলুন একটা কল্পনার খেলা দেখাতে নিয়ে যাই আপনাদের।

একটা বিশাল স্টেডিয়াম যেখানে কোটি কোটি মানুষ মানে আমরা আপনারা জড়োসড়ো হয়ে বসে আছি। স্টেডিয়ামের মাঝখানে পুরোটা মাঠে কি সুন্দর করে ছাটা ঘনো সবুজ ঘাস। উপরে ঝকঝকে নীল আকাশ। চোখটা জুড়িয়ে গেলো! আহ জীবনটা যদি এভাবে এখানেই থেমে থাকতো!

যাইহোক বোঝার চেষ্টা করছি এটা আসলে কি খেলার মাঠ? মাঠের মধ্যে দেখি ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস, বেসবল, ভলিবল সব বলগুলো একসাথে রাখা। আশ্চর্য তাহলে খেলা হবে কোনটা দিয়ে?


একটু পর দেখি বিশ্বের সব দামী দামী বুলেটপ্রুফ গাড়ীতে করে সব খেলোয়াড়রা এবং রেফারী সাহেব এসে নামলো। সবার বয়স এই ধরুন এই ছয় সাত বছর হবে। আসুন খেলোয়াড়দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই-

১. ট্রাম্প - বেশ রাগী এবং মুখ পাতলা একটা বাচ্চা। তাই সবাই তার পেটের খবর জেনে যায়। টুসটুসে গাল দেখলে টিপে দিতে ইচ্ছে করবে যে কারোর। খেলে ভালোই কিন্তু সবার সাথেই কিছু না কিছু নিয়ে তর্কাতর্কি লেগেই থাকে তার। বাচ্চা হলেও বুঝে শক্তিতেই ভক্তি।

২. সালমান - সবচেয়ে পিচ্চি বাচ্চাটা। ওর মনে হয় এখনো পাঁচ বছরও হয়নি। ভীষন সাহসী। ছোট হলেও খেলার মাঠের কুটনীতি খুব ভালো বুঝে। কেউ তাকে টোকা মারলে সেও ভালো ঘুশি দিতে জানে।

৩. পুতিন - শারিরীক এবং মানসিকভাবে সবচেয়ে ফিট বাচ্চাটা। কথা কম বলে তেমন হাসে না। মাথার মধ্যে অজস্র দুষ্টামী গিজগিজ করলেও শুধুমাত্র সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় তা দেখায়।

৪. রুহানী- কি সুন্দর পবিত্র চেহারার একটা বাচ্চা কিন্তু এটার মাথাও বেশ গরম। তবে সবার সাথে ঝগড়া করেনা মাত্র দু তিন জনের সাথেই তার যতো মান- অভিমান। আর এতো বেশী অভিমান যে কেয়ামত পর্যন্ত মনে হয়না ঠিক হবে।

৫. জিনপিং - আমার দৃষ্টিতে পুরো মাঠের সবচেয়ে বুদ্ধিমান বাচ্চাটা। বরফের মতো ঠান্ডা মাথা। কারো সাথে খুব এক্সট্রিম পর্যায়ে সে কখনো ঝগড়া করেনা। কিন্তু মনের মধ্যে এই আশা একদিন মাঠের সবগুলোকে আউট করে শুধু সেই টিকে থাকবে।

৬. এরদোগান- দেখতে লম্বা, সুন্দর একটা বাচ্চা। খেলেও পরিচ্ছন্ন কিন্তু মাঝে মাঝে তার মধ্যে জ্বীন আছর করে। তখন সে তার থেকে দুর্বল খেলোয়াড়দের ইচ্ছামতো ফাউল করতে থাকে। রেফারীর বাঁশিও তাকে থামাতে পারেনা। কাউরেই সে পরোয়া করেনা।

৭. মোদী - দেখতে একটু নাদুসনুদুস কিন্তু অনেক শরীর সচেতন। ছোট বাচ্চা হলেও বেশ চালাক তাই একজন ছাড়া মাঠের সবার সাথেই কম বেশী ভালো সম্পর্ক রাখে। সারা মাঠে সে সুধু ঐ একজনকে কিভাবে কাবু করবে সেই ধান্দায় থাকে। আর কাবু করতে গিয়ে যে কোন নিয়ম ভাঙ্গতেও সে একটুও পিছপা হবেনা।

৮. কিম জং - সবচেয়ে ক্ষ্যাপা বাচ্চা। দেখতে গুলুগুলু এবং শান্ত দেখালেও ভেতরে সারাক্ষন ক্ষেপে থাকে। একটু একা একা থাকে তাই তার ট্যালেন্ট খুব বেশী কারো দেখার সুযোগ হয়নি। তবে সে যে বোম্বে মরিচ বোঝা যায়।

৯. ইমরান - নি:সন্দেহে মাঠের সবচেয়ে সুদর্শন বাচ্চা। বড় হলে যে কতো মেয়ে ওর প্রেমে পরবে আল্লাহই জানেন। মনের ভেতরে ভীষন ক্ষীপ্রতা থাকলেও ছেলেটার কিন্তু মুখে দাঁত উঠেনি আর আঙ্গুলে নখ গজায়নি। তাই কামড় কিংবা আঁচড় কোনটাতেই কেউ কাবু হয়না।

১০. রাশিদ আল মাখতুম - সবচেয়ে উচ্চবিলাশী বাচ্চা। মাঠের সবার সাথেই সম্পর্ক ভালো। তবে মাঠের এই খেলাধুলার চেয়ে তার বেশী মন মাঠের বাইরের রঙীন জীবনের। রঙে চঙে ঢঙে সে তার চারপাশটাকে আরো রাঙাতেই বেশী ব্যস্ত। কারো দিকে তাকানোর সময় কই।

আরে সুচি নামক ছোট বাচ্চা মেয়েটাও দেখি খেলছে। ও কি ফ্রিজ থেকে চকলেট চুরী করে খেয়েছে? কেমন চুপচাপ নীচের দিকে তাকিয়ে আছে।

উপরেরে বাচ্চাগুলো ছাড়াও আরো অনেকগুলো বাচ্চা কিন্তু আছে। ওগুলো হয় অন্যদের চামচা নাহয় অতো ভালো খেলোয়াড় না কিন্তু খেলতে হচ্ছে তাই খেলছে।


জাতিসংঘ - উনি হলেন জনাব রেফারী। বাশি ফুঁ দেয়। সবার কাছে যায়। সবাই উনার কথা শুনেন ঠিকই কিন্তু মনে মনে বলে “ যা ভাগ”। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাহীন রেফারী বোধহয় উনিই।

যাইহোক তুমুল খেলা শুরু হয়েছে । সবগুলো বল নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে গেছে ।রেফারীর সামলাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে এক্টিভ খেলোয়ার ট্রাম্প পুরো মাঠটা জুড়েই অত্যন্ত পরিশ্রম করে খেলছে! আরে মোদী- ইমরানের অবস্হা দেখি একদম রোমিও জুলিয়েটের মতো একজন আরেকজনকে ছাড়া আর কাউকেই যেনো দেখছেই না। ট্রাম্পের পেছনে ঐ চামচা পিচ্চিটাকে চিনেছেন ওর নাম নেতানেয়াহু।পিচ্চি হলেও বাচ্চা শেয়ালের মত ধূর্ত আর আক্রমণাত্মক। আর পুতিনের হাত ধরা চামচা পিচ্চির নাম লাল বাশার। জিনপিং খেলার চেয়ে যেনো মনিটরিং বেশী করছে। মনে মনে বলছে ওস্তাদের মাইর শেষ রাতে মামারা। সুচি কি এমন করেছে যে এখনো মুখ তুলে কারো দিকে তাকাতে পারছে না। আল মাখতুম দৌড়াচ্ছে ঠিকই কিন্তু চোখ বেশী স্টেডিয়ামের বাইরের দিকে। গুলুগুলু কিমটা মাঠের সাইডে মৌমাছির মতো বোঁ বোঁ করে ঘুরছে। রুহানী আর সালমান একটা আরেকটাকে হুংকার দিয়েই যাচ্ছে কিন্তু কাছে ঘনায় নাহ। এরদোগানের ভিতর জ্বীনটা আজকে সকালে ঢুকছে তাই সে বন্য খেলায় মেতেছে। একটিবারের জন্যেও আমি সালমান, এরদোগান, রুহানী, বাশারকে এক হয়ে খেলেতে দেখিনি।

আচ্ছা কেউ কি কোথাও সিরিয়া, কাশ্মীর, ইয়েমেন, আরাকান, বেলুচিস্থান, হংকং, প্যালেস্টাইন, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া দেখতে পাচ্ছেন? আমি কিন্তু পাচ্ছি। উইঘুর আর কুর্দীদেরও পাচ্ছি।
আরে ঐ বলগুলোর ভেতরেই তো এই জায়গাগুলো লুকানো আছে যা নিয়ে বাচ্চাগুলো ফাটাফাটি একটা খেলায় মেতে উঠেছে। হা হা হা! ইচ্ছামতো বলগুলোকে পিটছে, লাথি মারছে, ছুড়ে মারছে নিজেদের আয়ত্বে আনার জন্য।

বলগুলো আয়ত্বে আনতে গিয়ে নিস্পাপ বাচ্চাগুলো একটু পরপর উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে, তর্কে জড়িয়ে পড়ছে, একজন আরেকজনের দিকে তেড়ে আসছে। আর আমরা প্রিয় খেলোয়ারের পক্ষ নিয়ে স্টেডিয়ামে তুমুল মারামারি শুরু করলাম, ভাঙ্গচুর আর আগুন লাগানো তো আছেই। এভাবেই চলতে লাগলো....

হঠাৎ রেফারী খেলা সমাপ্তির বাশি বাজালো।

উফরে! যা ভেবেছি কিছুই তো হয়নি বাচ্চাগুলো তো দেখি বহাল তবিয়তেই আছে। আরে সবাই দেখি সবার সাথে হাত মেলাচ্ছে, কোলাকুলি করছে। একি!! একজন আরেকজনের কাঁধে একহাত দিয়ে অন্য হাতে কোক, পেপসি খেতে খেতে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, স্টেডিয়ামে মারামারিতে কয়েক মিলিয়ন মানুষ মারা পড়েছে। নারীরা ধর্ষিত হয়েছে আর শিশুরা বাড়ি খেয়ে, চাপা পড়ে থেঁতলে গেছে।
উহ! মানুষের চিৎকার আর কান্নার শব্দে নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।

আহারে! মাঠের সবুজ ঘাসগুলোও একদম তছনছ।
অর্ধেকের বেশী মাঠে ঘাস নাই হয়ে গেছে।
অগনিত সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। স্টেডিয়ামের বহু অংশ পুড়ে গেছে।

কিন্তু বলগুলো কই? ধুর! খেলা শেষ হওয়ার পর বলের খবর কে রাখে! আর কেনোই বা রাখবে খেলা শেষে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত ঐ বলগুলো ঘরের ঐ আসবাপত্রের মত হয়ে যায় যেগুলো না রাখা যায় না ফেলা যায়।

কিন্তু এতো কিছুর মাঝ দিয়ে কি করে ঐ বাচ্চাগুলো দিব্যি চলে গেলো? ওদের চোখ, কান কি সিলগালা করা ছিলো? আচ্ছা ওদের কি রাতে ঘুম হয়? কি স্বপ্ন দেখে ওরা ঘুমে?

খেলা শেষ কিন্তু নিরাশ হবেন না বাচ্চাগুলো হন্যে হয়ে এই স্টেডিয়ামের বাইরে অন্য একটা স্টেডিয়াম খুঁজার জন্য বিজ্ঞানীদের লাগিয়ে দিয়েছে। শুরু হবে আবারো একটা খেলা নতুন নতুন বল নিয়ে।

পয়েন্ট টু বি নোটেড :
সব জেনেও আমার আব্বা কোনদিন সাদ্দাম কে অভিশাপ দেয়নি ।
ঠিক যেমন সৌদি আরব ইয়েমেনে মানুষ মারলে কিংবা তুরুস্ক কুর্দিদের মারলে কেও কোনও অভিশাপ কিংবা জিহাদের ডাক দেয়না।হ্যাঁ শুধু কষ্টেভরা কয়েকটা অভিমানী স্ট্যাটাস দেয়।
লিখেছেন ফাতিমা জান্নাত
↑PREVIOUS-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি 

Next-ফেসবুকে বকরবকর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ